সহকারী শিক্ষক
২৪ মার্চ, ২০২২ ০৬:৫৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শরীরের জন্য কোনটি বেশী উপকারী হাঁস না মুরগির ডিম? এই নিয়ে বিতর্ক বহু
পুরনো। বিশেষ করে যারা স্বাস্থ্য সচেতন, পুষ্টিগুণ নিয়ে মাথা ঘামান, তারা
হাঁস আর মুরগির ডিমের গুণাগুণ বিশ্লেষণে ব্যস্ত থাকেন।
মুরগির
ডিমের তুলনায় হাঁসের ডিম আকারে বড়। খোসাটাও তুলনামূলকভাবে শক্ত। আকারে বড়
হওয়ার কারণে হাঁসের ডিমের কুসুমও বড় হয়। হাঁসের ডিম বিভিন্ন রঙের হয়। তবে
খোসা শক্ত হওয়ার কারণ ফাটাতে অসুবিধা হয়। কিন্তু এই কারণেই হাঁসের ডিম
প্রায় ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত রেখে খাওয়া যেতে পারে। যদিও, টাটকা ডিম খাওয়াই
স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
বড় কুসুমের কারণে, হাঁসের ডিমে চর্বি এবং
কোলেস্টেরল উভয়ই মুরগির ডিমের তুলনায় বেশি থাকে। কার্বোহাইড্রেট ও
খনিজের পরিমাণ সমান হলেও হাঁসের ডিমে প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের
পরিমাণ সামান্য বেশি থাকে। যারা ডায়েটে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার খোঁজেন
তাদের জন্য হাঁসের ডিম ভালো। হাঁসের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং খনিজ
রয়েছে। এতে অতিরিক্ত ভিটামিন বি ১২ রয়েছে, যা লোহিত রক্তকণিকা গঠন, ডিএনএ
সংশ্লেষণ এবং স্বাস্থ্যকর স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।
হাঁসের
ডিমে থাকা ভিটামিন বি ১২ হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এছাড়াও
হাঁসের ডিমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং
রক্ত ও ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। এতে থাকা সেলেনিয়াম রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা বাড়ায়। হাঁসের ডিমে রিবোফ্লাভিন নামে একটি শক্তিশালী
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে।
পুষ্টির দিক থেকে হাঁসের ডিম মুরগির
ডিমের চেয়ে অনেক এগিয়ে। হাঁসের ডিমে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন,
ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন এ, থায়ামিন ইত্যাদি মুরগির ডিমের তুলনায় ১০০ গ্রাম
বেশি থাকে। এগুলি ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের একটি দুর্দান্ত উৎস, যা
স্বাভাবিক মানুষের বিপাকের জন্য অতি প্রয়োজনীয়৷
২০১৫ সালের একটি
গবেষণা অনুসারে, হাঁসের ডিমের সাদা অংশে থাকা পেপটাইডগুলি প্রয়োজনীয় খনিজ
ক্যালসিয়াম শোষণ করে হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। সঙ্গে হাড় ও দাঁতের
স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ২০১৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুসারে, হাঁসের ডিমের সাদা
অংশে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা হৃদরোগ এবং নিউরোডিজেনারেটিভ
অবস্থাসহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সূত্র : নিউজ এইট্টিন
৫৩
৯২ মন্তব্য