Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ এপ্রিল, ২০২৩ ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ

যশোরের বিখ্যাত সাদেকগোল্লা (রসালো এবং লোভনীয়)



‘জামতলার মিষ্টি’, ‘সাদেকের রসগোল্লা’ বা ‘সাদেকগোল্লা’—অনেক নামেই পরিচিত এই মিষ্টি। স্থানীয় বা বেড়াতে যাওয়া মিষ্টিপ্রিয় কেউ সাদেকের রসগোল্লার স্বাদ নেয়নি, এমন ঘটনা বিরল। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে এ মিষ্টির। অনেক রাষ্ট্রীয় আর আন্তর্জাতিক অতিথিও তৃপ্তিসহ উপভোগ করেছেন এই মিষ্টির স্বাদ।


কী আছে সাদেকের রসগোল্লায়

সাদেকের রসগোল্লার মূল রসদ হলো দেশি গরুর দুধের ছানা, হালকা সুজি আর চিনির দ্রবণ বা সিরাপ। সঙ্গে জাদুর কাঠির মতো কাজ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত তেঁতুল, বাবলা কিংবা বেলকাঠ।


সাদেকের রসগোল্লা বানাতে শুরুতেই ছানাকে বলের মতো বানিয়ে সেগুলোর ওপর হালকা সুজির আস্তরণ দেওয়া হয়। তারপর এই ছানার বলগুলো চুলায় ফুটতে থাকা চিনির শিরায় দেওয়া হয়। এগুলো বাদামি রং ধারণ করতেই চুলা থেকে নামানো হয়। আর এভাবেই তৈরি হয়ে যায় সাদেকের সুস্বাদু রসগোল্লা। তবে ব্যাপারটা যত সহজ মনে হচ্ছে, আসলে ততটা নয়। সাদেকের রসগোল্লা বা জামতলার রসগোল্লার মূল প্রস্তুতকারী সাদেক আলীর ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, চুলা ও পাত্র অন্যত্র নিয়ে গেলে এ মিষ্টির স্বাদ থাকবে না।



ইতিহাস থেকে আজকে

সাদেকের রসগোল্লার বয়স ৬৫ বছরের বেশি। শুরুর গল্পটাও বেশ পরিচিত স্থানীয় মহলে। মরহুম শেখ সাদেক আলী সাহেবের বড় ছেলে আনোয়ার হোসেনের তথ্যমতে, ১৯৫৫ সালে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে জামতলা বাজারে বাবার চায়ের দোকান ছিল। প্রতিদিন গোয়ালারা দোকানে গরুর দুধ দিয়ে যেতেন। এক দিন বেশি দুধ আনলে বাবা কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় কুমিল্লার এক ব্যক্তি বাবাকে দুধ রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং রাতে দুধ দিয়ে মিষ্টি বানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর শেখানো পদ্ধতিতে সাদেকগোল্লা শুরুর যাত্রা।



১৯৯৯ সালে সাদেক সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর ছয় ছেলে আনোয়ার হোসেন, আলমগীর, শাহিনুর, শাহজাহান, জাহাঙ্গীর ও নূরুজ্জামান ব্যবসার হাল ধরেন। তাঁদের অক্লান্ত চেষ্টায় এখনো বাবার হাতে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। একে একে ছয়টি শাখা তাঁদের হাতে তৈরি হয়েছে।

যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ের এ রকমই একটা শাখার দায়িত্বে থাকা শামসুর রহমানের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তাঁর আরও একটি পরিচয় হচ্ছে তিনি এই শাখার তত্ত্বাবধায়ক সাদেক সাহেবের মেয়ের শ্বশুর। শিক্ষকতার জীবন পেরিয়ে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করেন সারা দিনের হিসাব মেলানোয়। শামসুর রহমান জানান, প্রায় ৩০০ লিটার দুধ প্রয়োজন হয় তাঁদের দৈনিক চাহিদা মেটাতে। সাদেকের রসগোল্লা ছাড়াও আরও বিক্রি হয় স্পঞ্জ রসগোল্লা, কালোজামসহ অন্যান্য মিষ্টি।

দরদাম

বিভিন্ন দামে নানা ধরনের সাশ্রয়ী প্যাকে বিক্রি হয় সাদেকের রসগোল্লা। বিভিন্ন সাইজের পলিথিনের প্যাকে ৫ টাকা দামের ২০টি, ১০ টাকার ১০টি, ২০ টাকার ৫টি এবং সাদা রঙের ১২ টাকা দামের মিষ্টি ১০টি করে বিক্রি হয়। তবে জামতলার মিষ্টি নামে অনেকেই সাদেকের রসগোল্লা মনে করে কিনে থাকেন। কিন্তু তাতে স্বাদের পার্থক্য আছে। সাদেকের রসগোল্লার স্বাদ পেতে হলে তাদের শাখাগুলো থেকেই কিনতে হবে।




সাদেকের রসগোল্লায় মিষ্টির পরিমাণ কম থাকাও এর জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ। অনলাইনেও এখন যে কেউ অর্ডার করতে পারেন। সাদেক সাহেবের উত্তরসূরি তাঁর ছয় ছেলে যেভাবে ব্যবসার সুনাম ধরে রাখার জন্য কাজ করছেন, এটি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য আদর্শ দৃষ্টান্ত।




মন্তব্য করুন

ব্লগ