Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ জুন, ২০২৩ ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ

৬২২খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় নবীজি হযরত মোহাম্মদ( সঃ), হযরত আবুবকর সিদ্দিক( রাঃ) সহ জাবাক-ই- সাওরের একটি গুহায় তিনদিন অবস্থান করেন

জাবাল-ই-সাওর:

৬২২খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় নবীজি হযরত মোহাম্মদ( সঃ), হযরত আবুবকর  সিদ্দিক( রাঃ) সহ জাবাক-ই- সাওরের একটি গুহায় তিনদিন  অবস্থান  করেন

——————————————————-

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা:) , হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা:) সহ জাবাল-ই-সাওরের একটি গুহায় তিন  দিন অবস্থান করেন।

জাবাল-ই-সাওর নামক পাহাড়টি পবিত্র কাবা শরীফ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

হিজরতের দিনে দুপুরবেলা নবীজি আবু বকরকে বললেন রাতে প্রস্তুত থাকতে। সন্ধ্যায় ফিরে গেলেন ঘরে। চাচাত ভাই আলীকে বুঝিয়ে দিলেন মক্কার অধিবাসীদের গচ্ছিত সম্পদ, যাতে পরদিন তা সবাইকে ফেরত দিয়ে দিতে পারে। রাত হতেই আলী ঘুমিয়ে পড়লেন নবীজির বিছানায় নবীজির কম্বল মুড়ি দিয়ে।রাত গভীর হল। নবীজি বেরিয়ে  পড়লেন। তিনি যখন বেরিয়ে যান ,তখন এক মুষ্টি মাটি নিয়ে পাহারারত আততায়ীদের মাথায় ছিটাচ্ছিলেন। আততায়ীরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। এ সময় রাসূল (সাঃ) সূরা ইয়াসীনের ১ম আয়াত থেকে ৯ম আয়াত পাঠ করছিলেন। “ ইয়া-সীন। সাক্ষী এই প্রজ্ঞাময় কোরআন।••••••ওদের দৃষ্টিকে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছি ,ফলে ওরা সত্যকে দেখতে ও বুঝতে পারে না।”


মধ্যরাতে আবু বকরকে নিয়ে গন্তব্যের উল্টোদিকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে জাবাল-ই-সাওরের গুহায় পৌঁছেই মরু পথ প্রদর্শকের হাতে উট দুটো দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন দূরে। বললেন, তিন দিন পরে উট নিয়ে আসতে। হযরত আবু বকর (রাঃ) প্রথম গুহার ভেতরে প্রবেশ করেন এবং গুহাটি পরিষ্কার করে নিলেন। গুহার একপাশে কতগুলো  ছিদ্র ছিল। নিজের কাপড় টুকরো টুকরো করে তিনি ছিদ্রপথের মুখগুলো বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু কাপড়ের টুকরোর ঘাটতির কারণে দু’টো ছিদ্রের মুখ বন্ধ করা সম্ভব হল না। হযরত আবু বকর (রাঃ) ছিদ্র দু’টোর মুখে নিজ দু’টো পা দিয়ে বন্ধ করার পর ভেতরে আগমনের জন্য রাসূল(সাঃ) এর নিকট আরজ পেশ করলেন। তিঁনি ভেতরে প্রবেশ করে আবু বকর(রাঃ) এর উরুতে মাথা রেখে শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন । এদিকে আবু বকরের (রাঃ) রাতে সাপ দংশন করল। তিনি বিষে কাতর হয়ে উঠলেন অথচ নড়াচড়া করলেন না।এ ভয়ে যে এর ফলে রাসূল (সাঃ) এর ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে। এ দিকে বিষের তীব্রতায় তার দু’চোখ থেকে অশ্রু বিন্দু ঝড়ে পড়ল রাসূল(সাঃ) মুখমন্ডলের ওপর। এর ফলে তাঁর ঘুম ভেঙ্গে গেল। রাসূল(সাঃ) নিজের মুখ থেকে কিছুটা লালা নিয়ে সে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন।আবু বকর(রাঃ) এর বিষ ব্যথা দূর হয়ে যায়।


আবু জেহেল মৃত বা জীবন্ত অবস্থায় মুহাম্মদ (সাঃ) ধরিয়ে দিতে পারলে ১০০ উটনী পুরষ্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করল। সত্য অস্বীকারকারীরা দলে দলে নেমে পড়ল নবীজির খোঁজে , ১০০ উটনীর লোভে। একটি দল এসে গেল সাওর পাহাড়ে,খুঁজতে খুঁজতে চলে এলো গুহা মুখে। ভেতরে নবীজি আর আবু বকর ঘাতক দলের উগ্র কথাবার্তায় নবীজির নিরাপত্তা চিন্তায় আবু বকর উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন। নবীজি শান্ত ভাবে আবু বকরকে বললেন, “দুশ্চিন্তা করোনা! আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন।”


মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, “ যদি তোমরা রাসূলের পাশে এসে না দাঁড়াও আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছিলেন , যখন সত্য অস্বীকারকারীরা তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল এবং সে ছিল দুজনের  একজন, যখন তারা গুহায় লুকিয়ে ছিল, তখন রাসূল তার সাথিকে বলেছিল , ‘ চিন্তা করো না , আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।’ তখন আল্লাহ তার ওপর প্রশান্তি বর্ষণ করলেন এবং শক্তিমান করলেন এমন শক্তিতে যা তোমাদের কাছে দৃশ্যমান নয় । তিনি সত্য অস্বীকারকারীদের প্রায়াসকে ধূলিসাৎ করে দিলেন , আসলে আল্লাহর কথাই তো চূড়ান্ত! আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” - সূরা তওবা, আয়াত ৪০, আল কোরআন

আবু বকর (রাঃ) এর পুত্র আব্দুল্লাহ কুরাইশরা কি বলেছে ,কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা জেনে সন্ধ্যার সময় জাবাল-ই-সাওরের গুহায় এসে জানাতেন। 

আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর যখন গুহা হতে বেরিয়ে আসতেন , ঠিক তারপরেই আবু বকর(রাঃ) এর রাখাল আমের বিন ফুহাইরা মেষ পাল নিয়ে সে পথে ফেরত আসত। ফলে আব্দুল্লাহর পায়ের দাগ মুছে যেত। তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহ তিনটা উট নিয়ে এলো। একটি নিজের । অপর দু’টো হিজরতকারীদের । আবু বকর তনয়া আসমা নিয়ে এলো যাত্রাপথের খাবার। কিন্তু তিনি দড়ি নিতে ভুলে যান। এ সময় তিনি নিজ কোমর বন্ধনীর ফিতা ছিঁড়ে দ্বিখন্ডিত করলেন। অতঃপর এক অংশের সাহায্যে খাবার সামগ্রী ঝুলিয়ে দিলেন এবং দ্বিতীয় অংশের সাহায্যে কোমর বাঁধলেন। এ কারণেই তাঁর উপাধি হয়েছিল,”যাতুননে তাকাইন।”

বেদুইন আব্দুল্লাহ ইবনে আরকাতের পথ প্রদর্শনায় জাবাল-ই-সাওর থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন ১৫ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে।

——

মন্তব্য করুন