Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

আখঁ চাষে বীজ বপন পূর্বে করণীয়,বীজ শোধন, বীজ বপন এবং বীজের হার।

বীজ বপন পূর্বে করণীয়
বীজ নির্বাচন ও সংগ্রহ : আখের বীজ বলতে আখের ছোট ছোট টুকরাকেই বোঝায়৷ যে আখ ফসলে রোগ পোকার আক্রমণ ও ভিন্ন জাতের মিশ্রণ নেই সে যেন ফসল হতেই বীজ সংগ্রহ করা শ্রেয়৷ একটি আখ দণ্ডের দিক হতে বীজ সংগ্রহ করা ভালো, কারণ আগার দিকের বীজ হতেই ভলো চারা গজায়৷ তাই আগের দিনে চাষীরা শুধু আখের আগা হইতে একটি মাত্র চারা বা বীজ সংগ্রহ করতেন৷ আসলে নিচের দিকের কিছু অংশ বাদ দিয়ে সমস্ত আখটাই বীজ হিসেবে ব্যবহার করা যায়৷ তাই পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে সম্পূর্ণ আখটাই নালায় লম্বালম্বি ফেলে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়৷ বীজের জন্য কোনো ক্ষেতের আখ নির্বাচন করার পর সেখান হতে বীজ সংগ্রহ করা হয়৷ প্রতিটি আখ ধারালো দার সাহায্যে টুকরা টুকরা করতে হয়৷ প্রতি টুকরাতে তিনটি করে চোখ *

বীজ শোধন
আখের বীজ জমিতে লাগাবার আগে শোধন করা একান্ত প্রয়োজন৷ তাতে বীজ ছাড়া ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ হতে রক্ষা পেয়ে সুষ্ঠুরূপে অংকুরিত হতে পারে৷ অন্যথায় বীজ লাল পঁচা, স্মাট, রাষ্ট প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ায় অন্কুরোদগম ব্যাহত হয় এবং চারাগাছ আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে৷ বীজ শোধনের জন্য যেসব ঔষধ পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে এরেটান-৬ ও এগালল উল্লেখযোগ্য৷ আধাসের এরেটান-৬ দুই মণ বিশ সের পরিষ্কার পানিতে ভালো করে মিশিয়ে দিয়ে তাতে বীজের দুই কাটা প্রার ডুবিয়ে নিতে হয়৷ এগালল আধাসের পরিমাণ ১ মণ-১০ সের পরিষ্কার পানিতে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে৷ এই মিশ্রিত পানিতে ৫ মিনিটকাল বীজ ডুবিয়ে রেখে জমিতে লাগাতে হবে৷ অধুনা টেকেটা বা ব্যাভিষ্টিন নামক ঔষধ দ্বারা বীজ শোধন করা হয়৷
বীজ বপন
বীজ বপন পদ্ধতি: কার্তিক-অগ্রহায়ণ হতে শুরু করে ফাল্গুন-চৈত্র মাস পর্যন্ত আখ বপন করা যায়৷ তবে প্রথমোক্ত সময়টিই শ্রেয়৷ নালায় বা ভাওরে কয়েক পদ্ধতিতে বীজ লাগানো যায়৷ মাটির রস, বীজের অবস্থা ও পরিমাণের উপর নির্ভর করে কোনো এক পদ্ধতিতে বীজ বপন করতে হয়৷ বীজ নিম্নবর্ণিত কয়েকটি পদ্ধতিতে বপন করা যায়:

• মাথায় মাথায় বপন পদ্ধতি: এই নিয়মে একটি বীজ বা টুকরার মাথা অপর একটি টুকরার মাথার কাছাকাছি রেখে বহন করতে হয়৷
• আকাবাঁকা পদ্ধতি: এই নিয়মে একটি বীজের মাথা অপর আরেকটি বীজের মাথার সঙ্গে বাঁকা অর্থাৎ কোনো পরে লাগাতে হয়৷
• দেড়া পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে দুটি টুকরা মাথা মাথায় (১ম পদ্ধতির মতো লাগানোর পর একটি টুকরা সেই দুই মাথা বরাবর সমান্তরাল করে লাগান হয় ৷ অবশ্য এ প্রথায় নালায় দু সারিতে বীজ বপন করতে হয়৷
• সমান্তরাল পদ্ধতি: এই নিয়মে প্রথম পন্থাটির ন্যায় এক সারির স্থলে দুই সারি বীজ পাশাপাশি সমান্তরাল করে বপন করতে হয়
উপরে বর্ণিত যে পন্থা বা পদ্ধতিতেই বীজ বপন করা হোক না কেন তার প্রধান উদ্দেশ্য জমিতে যেন বীজের অন্কুরোদগম আশানুরূপ হয়৷ সেজন্য পদ্ধতিগত সুবিধা যাই থাকুক না কেন সব চাইতে বড় কথা হলো নালার মাটিতে বীজ বপন করার পর বীজের চোখ যে মাটি স্পর্শ করে থাকতে হবে৷ সঠিকভাবে বীজ লাগাবার পর ২/৩ ইঞ্চি অর্থাৎ ৫-৭.৫০ সেন্টিমিটার মাটি দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে৷

বীজের হার  
একর প্রতি ২০-৪০ অর্থাৎ হেক্টর প্রতি ৩.৭৫-৪.৭৫ টন বীজ লাগে৷ এক নালা থেকে অন্য নালার দূরত্ব ১.২৫ মি.হলে প্রতি হেক্টরে ৩০০০০ টি এবং দূরত্ব ১ মিটার হলে ৩৭৫০০ টি তিন বিশিষ্ট বীজ অর্থাত্ আখের টুকরা লাগবে৷ অবশ্য নালায় বীজ বপনের পদ্ধতি বিভিন্ন হলে বীজের হারে কিছুটা তারতম্য হবে৷ রোপা আখ চাষে বীজের পরিমাণ প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক কম লাগে, যেমন প্রতি হেক্টরে ১.ঌ টন বীজ৷

মন্তব্য করুন