সহকারী শিক্ষক
৩০ নভেম্বর, ২০২৩ ১২:০৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
মরিচ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আমাদের দেশে মূলত মরিচ মসলা ফসল হিসেবে পরিচিত। কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। পুষ্টিমানে কাঁচা মরিচ ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ। দৈনন্দিন রান্নায় রঙ, রুচি ও স্বাদে ভিন্নতা আনার জন্য মরিচ একটি অপরিহার্য উপাদান। আমাদের দেশে সাধারণত মরিচ ছাড়া কোন তরকারির রান্না চিন্তা করা যায় না। এছাড়া বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মরিচের সসের অনেক চাহিদা রয়েছে। তাছাড়া এর ঔষধি গুণাগুণও রয়েছে। প্রায় সব অঞ্চলেই এর চাষাবাদ হয়। তবে চরাঞ্চালে মরিচের উৎপাদন বেশি হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন চর এলাকায় মরিচ প্রধান কৃষি ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাছাড়া উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মরিচের চাষ হয়ে থাকে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, এদেশে রবি এবং খরিফ মৌসুমে মোট ১.০২ লাখ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয় এবং উৎপাদন হয় ১.০৩ লাখ মে.টন (শুকনা মরিচ)। গড় ফলন ১.২৭ টন/হে. (শুকনা মরিচ)। বাংলাদেশের অনেক কৃষক শুধুমাত্র মরিচ উৎপাদন করে জীবন নির্বাহ করে থাকে। বাংলাদেশে দুই ধরনের মরিচ চাষ হয়। যথা কম ঝাল বা ঝালবিহীন এবং ঝাল মরিচ। ঝালবিহীন মরিচ আচার, সবুজ সবজি এবং সালাদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ঝালযুক্ত মরিচ মূলত প্রধান মসলা হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটা সরু ও লম্বা হয়। কেপসাইসিন নামক রাসায়নিক পদার্থের জন্য মরিচ ঝাঁঝালো হয় এবং কেপসানথিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থের জন্য মরিচ উজ্জ্বল ও লাল হয়।
মরিচের বিভিন্ন জাতের পরিচিতি
মরিচের অনেক স্থানীয় জাত আছে, কৃষকরা বাজারের চাহিদা ও স্থানীয় জাতের ফলনের ওপর জাত নির্বাচন করে থাকে। তবে মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি মরিচ-১ (বাংলা লংকা), বারি মরিচ-২ ও বারি মরিচ-৩ নামে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে (মাগুরা, ফরিদপুর, বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা, কুমিল্লা, রাজশাহী, নীলফামারী, ডোমার, পঞ্চগড়, পাবনা, জামালপুর ও লালমনিরহাটে) স্থানীয় জাতের পাশাপাশি সারা বছর ব্যাপকভাবে চাষাবাদ হয়। এছাড়াও দেশে বিভিন্ন হাইব্রিড মরিচ বীজ যেমন ঝিলিক, বিজলী ইত্যাদি নামে বাজারে পাওয়া যায়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য