Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ জানুয়ারি, ২০২৪ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা পরিভাষা
রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা পরিভাষা??
রবীন্দ্রনাথ বাঙালির জীবনাচরণকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছেন৷ তাঁর ভাবনার বলয়ে আবর্তিত হয়েছে বাংলা ও বাঙালির যাবতীয় অনুষঙ্গ৷
রবীন্দ্রনাথের অনুচিন্তনে প্রোথিত বিষয়াবলির মধ্যে অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছিলো বাংলাভাষা৷ মাতৃভাষা বাংলার সপক্ষে ছিলো তাঁর আজন্ম সংগ্রাম৷ তাঁর বহু প্রবন্ধে, চিঠিপত্রে তার পরিচয় পাওয়া যায়৷
শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে রবীন্দ্রনাথ মাতৃভাষা বাংলার প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন৷ মাত্র বাইশ বছর বয়সে ‘ভারতী’ পত্রিকায় তিনি লিখেছেন, ‘‘ইংরাজিতে যাহা শিখিয়াছ তাহা বাংলায় প্রকাশ কর, বাংলা সাহিত্য উন্নতি লাভ করুক ও অবশেষে বাংলা বিদ্যালয়ে দেশ ছাইয়া সেই সমুদয় শিক্ষা বাংলায় ব্যাপ্ত হইয়া পড়ুক৷’’
মাতৃভাষা বাংলার মাধ্যমে বাংলাদেশে সকল প্রকার শিক্ষার ব্যবস্থা করা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চিরজীবন উদ্বিগ্ন ছিলেন৷ বঙ্গাব্দ তেরো শ'র আষাঢ় সংখ্যায় তিনি শিক্ষায় মাতৃভাষার স্থান সম্বন্ধে যা বলেছিলেন তা এখনো উদ্ধৃতিযোগ্য – ‘‘কোন শিক্ষাকে স্থায়ী করিতে চাইলে, গভীর করিতে হইলে, ব্যাপক করিতে হইলে তাহাকে চিরপরিচিত মাতৃভাষায় বিগলিত করিয়া দিতে হয়৷’’
বাংলাভাষার রূপ ও প্রকৃতি, অবয়ব এবং আন্তরশক্তি অবলোকন ও অনুসন্ধানে ছিলো তাঁর নিরন্তর আগ্রহ৷ শুধু ভাব প্রকাশের বাহন নয় বাংলাভাষাকে জ্ঞান-বিজ্ঞান-দর্শন চর্চার বাহন হিসেবে পেতে হলে, তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলাভাষাকে চিনতে হবে ভালো করে; কোথায় তার শক্তি, কোথায় তার দুর্বলতা, দুইই আমাদের জানা চাই৷’’ তিনি চেয়েছিলেন বাংলাভাষা যেন সবল ও সতেজ হয়৷
বঙ্গাব্দ তেরো শ' এগারোতে তিনি ‘ভাষার ইঙ্গিত’ প্রবন্ধে লিখেছিলেন, ‘‘বৈয়াকরণের যে সকল গুণ ও বিদ্যা থাকা উচিত তাহা আমার নাই, শিশুকাল হইতে স্বভাবত আমি ব্যাকরণভীরু; কিন্তু বাংলাভাষাকে তাহার সকল প্রকার মূর্তিতেই আমি হৃদয়ের সহিত শ্রদ্ধা করি, এই জন্য তাহার সহিত তন্নতন্ন করিয়া পরিচয় সাধনে আমি ক্লান্তিবোধ করি না৷’’
রবীন্দ্রনাথের এই শ্রদ্ধার প্রতিরূপ হলো তাঁর দুই অসামান্য গ্রন্থ ‘বাংলাভাষা-পরিচয়’ ও ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’।
মাতৃভাষা বাংলার সপক্ষে ছিলো তাঁর আজন্ম সংগ্রাম৷ তাঁর বহু প্রবন্ধে, চিঠিপত্রে তার পরিচয় পাওয়া যায়৷
অধ্যাপক হিসেবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৩২-এ৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিলো ‘‘রবীন্দ্রনাথ ছাত্রদের হিতার্থে বেশ কিছু ভাষণ দিবেন এবং বাংলাভাষার অধ্যয়ন ও গবেষণাকর্মের উন্নতি সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা করিবেন৷’’
গবেষণা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান বাংলা বানানে যে বিশৃঙ্খলা চলছে তার মধ্যে একটা শৃঙ্খলা স্থাপন করা আবশ্যক এবং এ কাজের ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই গ্রহণ করা উচিত৷’’ একই সঙ্গে তিনি বাংলায় বৈজ্ঞানিক শব্দের পরিভাষা প্রণয়ন ও সংকলনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উত্থাপন করেন৷ রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব অনুসারে গঠিত হয় বহুল পরিচিত ‘কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান-সংস্কার-সমিতি’। সংস্কার সমিতির প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয় ১৯৩৬-এর মে মাসে ‘বাংলা বানানের নিয়ম’ শিরোনামে৷
বাংলাভাষার যে নিজস্ব ব্যাকরণ নেই সে কথাও প্রথম মনে করিয়ে দেন রবীন্দ্রনাথ৷ বাংলা ব্যাকরণ যে সংস্কৃত ব্যাকরণের দ্বারা শাসিত হতে পারে না সেই কথা সামনে রেখে তিনি তাঁর ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ ও ‘বাংলাভাষা-পরিচয়’ গ্রন্থে প্রকৃত বাংলা ব্যাকরণ রচনার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন৷ মাতৃভাষার প্রতি রবীন্দ্রনাথের শ্রদ্ধা এবং শিক্ষার বাহন হিসেবে মাতৃভাষা বাংলা প্রচলনের প্রবল দায়িত্ববোধ প্রসঙ্গে এসে পড়ে তাঁর পরিভাষা-ভাবনার কথা৷ প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর, অর্থাৎ জীবনের এক বিরাট সময় ধরে রবীন্দ্রনাথ বাংলা পরিভাষা নিয়ে কাজ করেছেন, মাথা ঘামিয়েছেন, নানাজনকে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন৷
রবীন্দ্রনাথ লক্ষ্য করেছিলেন, ‘‘গল্প কবিতা নাটক দিয়ে বাংলা সাহিত্যের পনেরো আনা আয়োজন৷ অর্থাৎ ভোজের আয়োজন, শক্তির আয়োজন নয়৷’’ বাংলাভাষায় শক্তির আয়োজন করতে গিয়ে প্রয়োজন পড়ে পরিভাষার৷ বাংলা পরিভাষা তৈরির কাজ শুরু হয় উনিশ শতকে এ দেশে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার সূত্রপাতের কালে৷
বাংলা পারিভাষিক শব্দ তৈরির বিভিন্ন নীতিকৌশল নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যথেষ্ট মতবিরোধ ছিলো৷ কেউ চেয়েছেন শব্দের সহজবোধ্যতা, কেউ শ্রুতিমাধুর্য, কেউ চেয়েছেন শব্দের দার্ঢ্য৷ কেউ হয়েছেন শুধুই সংস্কৃতনির্ভর, কারো বা পক্ষপাত আরবি-ফারসি দেশী শব্দের ওপর৷ রবীন্দ্রনাথ জোর দিয়েছেন পারিভাষিক শব্দের প্রকাশ-সামর্থ ও যাথার্থের ওপর৷ শব্দের অর্থের মধ্যে তিনি সবসময় যুক্তি খুঁজতেন৷ যুক্তিতে না টিকলে তিনি সরাসরি মূলভাষার শব্দটিকে গ্রহণ করতেন, যেমন করেছিলেন ‘রোমান্টিক’ শব্দের বেলায়৷ এই শব্দের তিনি কোনো বাংলা করতে যাননি৷ বাংলা করেননি অনেক শব্দের৷
বাক্যে শব্দের অযথা সংস্কৃতায়নে রবীন্দ্রনাথের সম্মতি ছিলো না৷ ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ গ্রন্থের ‘অনুবাদচর্চা’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘‘ইংরেজি বাক্য বাংলায় তরজমা করিবার সময় অনেকেই সংস্কৃত শব্দের ঘটা করিয়া থাকেন৷’’
কবিগুরু বলেন, ‘‘বাংলা ভাষাকে ফাঁকি দিবার এই একটা উপায়৷ কারণ, এই শব্দগুলির পর্দার আড়ালে বাংলা ভাষারীতির বিরুদ্ধাচরণ অনেকটা ঢাকা পড়ে৷’’
সংস্কৃতায়িত অনেক পারিভাষিক শব্দই রবীন্দ্রনাথের সমর্থন পায়নি৷ বহুল ব্যবহৃত ‘গঠনমূলক’ এবং ‘বাধ্যতামূলক’ শব্দকে তিনি বলেছেন বর্বর শব্দ৷ ‘সহানুভূতি’ শব্দটির প্রতিও রবীন্দ্রনাথ নিরতিশয় বিরক্ত ছিলেন৷ ‘অবলাবান্ধব’ পত্রিকার সম্পাদক দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় ইংরেজি ‘সিম্প্যাথি’ শব্দের বাংলা করেছিলেন ‘সহানুভূতি’৷ শব্দটি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মন্তব্য – ‘‘সহানুভূতির ওপর আমার বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই৷'' পরে তিনি তাঁর মন্তব্যকে আরো তীক্ষ্ণ করেছেন, বলেছেন, ‘‘সাহিত্যের হট্টগোলে এমন অনেক শব্দের আমদানি হয়, যা ভাষাকে চিরদিনই পীড়া দিতে থাকে৷ যেমন, সহানুভূতি৷’’ রবীন্দ্রনাথ ‘সিম্প্যাথি’র প্রতিশব্দ করতে চেয়েছিলেন ‘অনুকম্পা’। তবে ‘দরদ’ শব্দটির ওপর তাঁর চরম দুর্বলতা ছিলো৷
ইংরেজি ‘কালচার’ শব্দের বাংলা করা হয়েছিলো ‘কৃষ্টি’। রবীন্দ্রনাথ শব্দটাকে একেবারেই সহ্য করতে পারেননি৷ বলেছেন, ‘‘কালচার শব্দের একটা নতুন বাংলা কথা হঠাৎ দেখা দিয়েছে; চোখে পড়েছে কি? কৃষ্টি৷ ইংরেজি শব্দটার আভিধানিক অর্থের বাধ্য অনুগত হয়ে ঐ কুশ্রী শব্দটাকে কি সহ্য করতেই হবে৷ এঁটেল পোকা পশুর গায়ে যেমন কামড়ে ধরে ভাষার গায়ে ওটাও তেমনি কামড়ে ধরেছে৷’’ কালচার-এর বাংলা কি হবে তা নিয়ে তিনি বিস্তর গবেষণাও করেন৷ অবশেষে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সংস্কৃতি’ শব্দটির প্রতি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কালচার-এর প্রতিশব্দ হিসেবে ‘সংস্কৃতি’ শব্দ সম্বন্ধে তিনি তাঁর সম্পূর্ণ অনুমোদন জ্ঞাপন করেন৷
পারিভাষিক শব্দ তৈরির বেলায় রবীন্দ্রনাথ ব্যাকরণের বেড়াজাল থেকে বের হতে গররাজি ছিলেন না৷ বঙ্গাব্দ ১৩৪১-এ লিখিত এক পত্রে তাঁর এই মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, ‘‘ভাষায় সবসময় যোগ্যতমের নির্বাচননীতি খাটে না, অনেক সময়ে অনেক আকস্মিক কারণে অযোগ্য শব্দ টিকে যায়৷ সর্বপ্রধান কারণ হচ্ছে তাড়া – শেষ পর্যন্ত বিচার করবার সময় যখন পাওয়া যায় না তখন আপাতত কাজ সারার মতো শব্দগুলো চিরসত্ত্ব দখল করে বসে৷ আমার মনে হয় যথাসম্ভব সত্বর কাজ করা উচিত – কাজ চলতে চলতে ভাষা গড়ে উঠবে - তখন পারিভাষিক শব্দগুলি অনেক স্থলে প্রথার জোরেই ব্যাকরণ ডিঙিয়ে আপন অর্থ স্থির করে নেবে৷’’
সংস্কৃতায়িত অনেক শব্দ সম্বন্ধে আপত্তি তুললেও পরিভাষা প্রণয়নে রবীন্দ্রনাথ সংস্কৃত ব্যাকরণের ওপরই নির্ভর করেছিলেন বেশি৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ইংরেজিতে যে-সব শব্দ অত্যন্ত সহজ ও নিত্য প্রচলিত, দরকারের সময় তার প্রতিশব্দ সহসা খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন তাড়াতাড়ি যা হয় একটা বানিয়ে নিতে হয়৷ সেটা অনেক সময় বেখাপ হয়ে দাঁড়ায়, অনেক সময় মূল ভাবটা ব্যবহার করাই স্থগিত থাকে৷ অথচ সংস্কৃত ভাষায় হয়তো তার অবিকল বা অনুরূপ ভাবের শব্দ দুর্লভ নয়৷ একদিন ‘রিপোর্ট’ কথাটার বাংলা করার প্রয়োজন হয়েছিল৷ সেটাকে বানাবার চেষ্টা করা গেল, কোনোটাই মনে লাগল না৷ হঠাৎ মনে পড়লো কাদম্বরীতে আছে ‘প্রতিবেদন’ – আর ভাবনা রইল না প্রতিবেদন, প্রতিবেদিত, প্রতিবেদক যেমন করেই ব্যবহার করো কানে বা মনে কোথাও বাধে না৷’’
তিনি জানতেন, নতুন শব্দ বানাবার কাজে ‘‘সংস্কৃত ভাষার নৈপুণ্য অসাধারণ৷ ব্যবস্থাবন্ধনের নিয়মে তার মতো সতর্কতা দেখা যায় না৷’’ তবে তিনি অন্য পণ্ডিতদের মতো একান্তভাবে সংস্কৃত নির্ভর ছিলেন না৷ মাঝে মধ্যে চলতি বাংলাও ব্যবহার করেছেন৷
‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ গ্রন্থের বৈশাখ ১৩৯১-এ প্রকাশিত তৃতীয় স্বতন্ত্র সংস্করণে রবীন্দ্রনাথের বানানো ৯১৩ টি পারিভাষিক শব্দের তালিকা দেওয়া হয়েছে৷ রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘‘পারিভাষিক শব্দ পুরোনো জুতো বা পুরোনো ভৃত্যের মতো – ব্যবহার করতে করতে তার কাছ থেকে পুরো সেবা পাওয়া যায়৷’’ রবীন্দ্রনাথের অনেকগুলো পারিভাষিক শব্দ এখনো বারবার ব্যবহৃত হচ্ছে, সবগুলো অবশ্য নয়৷ তবে বারবার ব্যবহৃত শব্দগুলির ব্যবহার হতেই থাকবে, কারণ শব্দগুলোর কোনো বিকল্প নেই৷
কিছু উদাহরণ দেয়া যেতে পারে৷ অপহরণ, আপতিক, অভিযোজন, অনীহা, অনুষঙ্গ, পটভূমিকা, আকাশবাণী, অনুষ্ঠান, অভিজ্ঞান-পত্র প্রতিলিপি, অপকর্ষ, আপজাত্য, প্রণোদন, দুর্মর, লোকগাথা, প্রাগ্রসর, অনুকার, প্রতিষ্ঠান, নঞর্থক, অনাবাসিক, অবেক্ষা, ঐচ্ছিক, ক্ষয়িষ্ণু, অনুজ্ঞা, রূপকল্প, সংরাগ, জনপ্রিয়, আবাসিক, প্রতিবেদন, একক সংগীত, যথাযথ, আঙ্গিক, প্রদোষ, মহাকাশ প্রভৃতি অতুজ্জ্বল শব্দ তাঁরই বানানো৷ এগুলো পারিভাষিক শব্দ হিসেবেই নির্বিকল্পভাবে ব্যবহৃত হয়৷
তাঁর বানানো শব্দ সর্বদাই যে, মূলানুগ হয়েছে তা নয়৷ এ ব্যাপারে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, এতে ‘‘সুবিধা এই যে, বারবার ব্যবহারের দ্বারাই শব্দবিশেষের অর্থ আপনি পাকা হয়ে ওঠে, মূলে যেটা অসংগত অভ্যাসে তা সংগতি লাভ করে৷’’ নতুন পরিভাষা তৈরি প্রসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ইংরেজির অবিকল অনুবাদের প্রয়োজন কী?’’ পরিভাষা প্রণয়ন করার সময় পণ্ডিতগণ এখনো এই কথাটা মনে রাখলে বাংলা পরিভাষার ভাণ্ডার দ্রুত ঋদ্ধ হবে৷
মন্তব্য করুন

ব্লগ