Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ জুন, ২০২৪ ০২:২৮ অপরাহ্ণ

বহুমুখী প্রতিভার হুসনা বানু খানম ---------------------------------------------------- হুসনা বানু খানম ছিলেন একজন বিষিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখিকা ও নজরুল সঙ্গীত শিল্পী।

বহুমুখী প্রতিভার হুসনা বানু খানম

----------------------------------------------------

হুসনা বানু খানম ছিলেন একজন বিষিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখিকা ও নজরুল সঙ্গীত শিল্পী।


তিনি ছিলেন বাঙালি মুসলিম নারী সাংবাদিকতার একজন অগ্রপথিক।১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সঙ্গীতে অবদানের জন্য একুশে পদকে ভূষিত করে এবং ২০০৪ সালে নারীদের আর্থসামাজিক উন্নতিতে অবদানের জন্য তিনি বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন। 


জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯২২ সালে পাবনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। 


তার পিতা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ সিদ্দিক হোসেন খান লোহানী ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। মাতা ফাতেমা লোহানী ছিলেন একজন শিক্ষিকা। দুই ভাই ফজলে লোহানী ও ফতেহ লোহানী ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।


ছেলেবেলা থেকে তিনি সঙ্গীতে আগ্রহী ছিলেন ও নিয়মিত সঙ্গীত চর্চা করতেন। কবি গোলাম মোস্তফা তাকে একটি হারমোনিয়াম উপহার দিয়েছিলেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম যখন বাকরুদ্ধ ছিলেন তিনি তার বাসায় গিয়ে তাকে গান শুনিয়ে আসতেন।


হুসনা বানু বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পড়াশুনা করেন। সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন তার বিয়ে হয়ে গেলেও তিনি পড়াশুনা চালিয়ে যান।


১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে তিনি আর্ট এ্যান্ড ক্রাফটস বিষয়ে এমএস সম্পন্ন করেন।


যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসে তিনি ঢাকার গার্হস্থ অর্থনীতি কলেজে অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা করতেন।


তিনি ছিলেন প্রথম মুসলমান চলচ্চিত্র নারী সাংবাদিক এবং ১৯৬৭ সালে গঠিত পাকিস্তান সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।


'বেগম'সহ বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হত। তিনি 'বেগম' পত্রিকার চলচ্চিত্র পাতার দায়িত্বে ছিলেন।


হুসনা বানু অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কোন অডিশন ছাড়াই গান গাওয়ার সুযোগ পান।


কলকাতায় থাকাকালীন তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চা করতেন এবং সেখানে সুনাম অর্জন করেন। তিনি নিজেকে কলকাতা বেতারের একজন অন্যতম অগ্রণী মুসলিম শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।


১৯৫০ সালে তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ঢাকায় এসেও তিনি সঙ্গীত চর্চা চালিয়ে যান এবং বেতারে সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। বেতারের পাশাপাশি তার ভাই ফতেহ লোহানী পরিচালিত 'আকাশ আর মাটি' এবং 'আসিয়া' চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাকও করেন।


হুসনা বানু খানম ২০০৬ সালের ৩০ মে মৃত্যুবরণ করেন।


২০০৭ সালের আগস্ট মাসে তার জীবনী নিয়ে একটি স্মারক গ্রন্থ 'পথিকৃৎ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হুসনা বানু বেগম' প্রকাশিত হয়।


তথ্যসূত্রঃ 'সেই চেনা অচেনা বেগম'

'দৈনিক যুগান্তর'

২৩ মে ২০০৯

মন্তব্য করুন

ব্লগ