Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০৪:৫৯ অপরাহ্ণ

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ( চতুর্থ শ্রেণিতে উল্লেখিত )

প্রসঙ্গ: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (আদিবাসী)। 


মাতৃতান্ত্রিক পরিবার  গারো, খাসিয়া, সাঁওতাল ( মনে রাখার সহজ কৌশল: গা খাসাঁ )। 


বাকী চাকমা, মারমা,  মণিপুরী,  ওঁরাও, হাজং , ম্রো, ত্রিপুরা এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবার।  


বাংলাদেশে প্রায় ৪৫ টিরও বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাস করে।  ৪র্থ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুস্তকে ৪ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা তুলে ধরা হয়েছে। যথা: 


১।  চাকমা ( বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী )। পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। জুম পদ্ধতিতে চাষ করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। বিজু উৎসব পালন করে। নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে বেশিরভাগ চাকমা বসবাস করেন। প্রধান খাবার ভাত। 

কৃষি কাজ ও তাঁতে কাপড় তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী নাচ আছে। 


২। মারমা ( দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) । 

পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। জুম পদ্ধতিতে চাষ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।  সাংগ্রাই উৎসব পালন  করে। নিজেস্ব ভাষা ও বর্ণমালা আছে। বান্দরবন, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে বেশির ভাগ মারমা বসবাস করেন । ভাতের সাথে নানা ধরনের সিদ্ধ সবজি ও শুঁটকি মাছের ভর্তা ( নাপ্পি )  খেতে পছন্দ করেন। তারা কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরা, কাপড় তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন।


৩। সাঁওতাল :  মাতৃতান্ত্রিক পরিবার। সাঁওতালদের নিজেস্ব ভাষা আছে কিন্তু বর্ণমালা নেই। অধিকাংশ সাঁওতাল হিন্দু ধর্মাবলম্বী।  তবে কিছু কিছু সাঁওতালরা খ্রিস্ট ধর্ম, জৈন ধর্ম,  শিখ ধর্ম , ইসলাম ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মও পালন করেন। বেশিরভাগ সাঁওতাল রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রংপুর ও বগুড়ায় বাস করেন। সাঁওতালদের  একটি বড় অংশ ভারতে বাস করেন।  কৃষি কাজ প্রধান পেশা। তবে মাছ ধরা, চা বাগানের কাজ, কুটির শিল্পসহ আরও নানা ধরনের কাজ করে থাকেন। ভাতের সাথে মাছ, মাংস ও সবজির পাশাপাশি পাট শাক দিয়ে রান্না 'নালিতা' খেতেও পছন্দ করেন। 


 ৫ টি প্রধান উৎসব পালন করেন।  ১) পৌষ মাসে সোহরায় উৎসব ( প্রধান ফসল ঘরে তোলার উৎসব ) । 


২) মাঘ মাসে  মাঘ সিম - ঘর বানানোর জন্য বন থেকে খড় কুড়ানোর উৎসব। 

৩। ফাল্গুন মাসে বসন্তের প্রথম দিন ফাল্গুন উৎসব। 

৪। আষাঢ় মাসে 'এর কংসিম উৎসব  ( দেবতার নামে মুরগী উৎসর্গ করা হয় ) । 


৫। ভাদ্র মাসে ' হাড়িয়ার সিম ' ( ফসলের জন্য বারোয়ারী ভোগ ) । 


৪। মণিপুরীঃ সিলেট, মৌলভীবাজার,  হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাস করেন। 

৩ টি জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত: মৈতৈ,  বিষ্ণুপ্রিয়া ও পাঙাল।  তাদের মধ্যে ২ টি ভাষা প্রচলিত আছে। মণিপরীরা বেশিরভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিছু সংখ্যক মণিপুরী ইসলাম ও খ্রিস্টানধর্ম পালন করে।  মাংস সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ তবে পাঙালরা মাংস খান। মণিপুরীরা মূলত কৃষিজীবি ও তাঁতি। প্রিয় খাবারের নাম শিংজু বা সিঞ্চৌ যা নানা ধরনের শাক দিয়ে তৈরি। পাঙালরা ইসলাম ধর্ম পালন করে, ঈদ পালন করে। অন্যান্য মণিপুরীরা রথযাত্রা, চৈত্র সংক্রান্তি, দোলযাত্রা, রাসপূর্ণিমা পালন করে।  মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ আছে। 


ধন্যবাদ।


তথ্য উৎসঃ

চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক 

 বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, 

ও 

ইন্টারনেট।

মন্তব্য করুন