Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ অক্টোবর, ২০২৪ ০১:০২ অপরাহ্ণ

মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকে আমরা কীসে দক্ষ করে তুলছি? আরবি ভাষায় নাকি আরবি ব্যাকরণে


শিরোনাম :"মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকে আমরা কীসে দক্ষ করে তুলছি? আরবি ভাষায় নাকি আরবি  ব্যাকরণে"! :


মাদরাসা শিক্ষায় বাংলাদেশে দুই ধরনের শিক্ষা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এক.কওমী ধারা,দুই.আলিয়া ধারা।এই দু'টি ধারাই বেশ পুরাতন।ধারা দুইটিতে আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ পাঠদান করানো হয়।বিশেষ করে কওমী ধারায়  আরবি ব্যাকরণের গুরুত্ব অনেক।তারা আরবি ব্যাকরণের বেশ পুরাতন ও উচ্চমানের(শরহে জা'মী,আল-কিতাব) বইগুলো পড়ায়। আর আলিয়া মাদরাসায় হেদাতুন -নাহু পড়ানো হয়।আরবি ব্যাকরণের কথা পরে আসি।

এবার আরবি ভাষা শিক্ষার কথায় আসি।আরবি ভাষা একটি বিদেশি ভাষা।তাই এই ভাষা শিক্ষার জন্য সবচেয়ে  বেশি প্রয়োজন হলো এই ভাষার আহালে লুগাহদের  কথা বেশি শোনা।এর পর বলতে চেষ্টা করা, পড়া এবং লেখা। একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার ধাপ চারটি :

১.শোনা

২.বলা

৩.পড়া

৪.লেখা 

এখন দেখা যায় আমাদের দেশে এই ভাষা শিক্ষা শুরু হয় ৪নং ধাপ থেকে লেখা, পড়া,বলা,শোনা।

বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণয়নকৃত বইগুলোতে এই চারটি বিষয় বিবেচনা করে প্রণয়ন করা হয়নি। যার ফলে আমাদের মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কামিল পাশ করেও নিজের সম্পর্কে আরবিতে একটা বাক্য সঠিকভাবে বলতে ও লিখতে পারেনা।বইগুলো যেরকম হলে ভালো হতো।এক্ষেত্রে আরব বিশ্বের ভাষা শিক্ষার বইগুলো অনুসরণ করে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা যেত।

১.১ম- ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত আরবি ভাষা শিক্ষার উপর জোরদিতে হবে।

২.ব্যবহারিক পদ্ধতিতে আরবি ব্যাকরণ শিক্ষা দিতে হবে।বর্ণনামূলক নয়।যেমন: কালিমা কাকে বলে ।এটা শিক্ষার্থীর নবম শ্রেণি থেকে শিখবে।

৩.আরবি কথোপকথন বেশি থাকবে।

৪.অডিও ও ভিডিও ভার্সন থাকবে।

৫.প্রচুর অনুশীলন থাকবে।

৬.ভাষা শিক্ষার চারটি ধাপ অবশ্যই অনুসরণ করবে।

৭.রিডিং স্কিল বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন শিক্ষা মূলক অনুচ্ছেদ থাকবে।

৮.শ্রুতি শিখন থাকবে।

৯.আরবদের কথা শুনে তার মাফহুম কী তা খাতায় লিখবে।

১০.কাওয়ায়েদ যাচাই থাকবে সংক্ষিপ্ত আকারে। 

১১.বইগুলো কালার ও ডিজাইন চমৎকার ও শিশুদের মন আকর্ষণ করে এরকম হবে।

১২.লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা থাকবে।

১৩.মুখস্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনা। ব্যাবহারিক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেয়া। 

১৪.প্রশ্ন সহজ করা যাতে শিক্ষার্থীদের আরবি ভীতি দূর হয়।[আমাদের চবির আরবি বিভাগে মিশরের এক ভিজিটিং প্রফেসর প্রশ্ন করে আর শিক্ষার্থীরা ২ ঘণ্টায় পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে যায়। তখন বাংলাদেশী শিক্ষকরা রাগ করেন]



আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকে আরবি ভাষা ও আরবি ব্যাকরণ  সঠিক পদ্ধতিতে শেখানো হয় না বিধায় তারা কোনোটিতেই দক্ষতা অর্জন করতে পারেনা।আর কওমি মাদরাসাগুলোতে আরবি ব্যাকরণ শিখাতে বেশি সময় নেন এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন না।আরবি ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ব কম দেন।


এরফলে আমাদের দেশের মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মধ্য প্রাচ্যে গিয়ে মাজরাহ বা নিম্ন মানের জব পান।অথচ আমাদের পাশের দেশ ভারত তারা হিন্দু সম্প্রদায় হওয়া সত্বেও আরবি ভাষা জানার কারণে উচ্চমানের জব পান এবং  রেমিট্যান্স বেশি অর্জন করেন।


এখন অনেকেরই প্রশ্ন তাহলে কী আরবি ব্যাকরণে (নাহুভী বা আরবি ব্যাকরণ বিশেষজ্ঞ)[কুরআন ও হাদিস বুঝতে ও এর মর্ম বুঝতে]পণ্ডিত  হওয়ার প্রয়োজন নেই? 

আমি বলি সবার উপর এটা ফরজ নয়। একটা দল থাকবে যারা বিশেষজ্ঞ হবেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা এটাই বলেছেন। আর অন্য মুসলিমরা যাদের অন্য ফরজিয়াত আদায় করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ নেই তারা। তাদের থেকে সহযোগিতা নিবেন।

যিনি দাখিল শেষ করে বিদেশে চলে যাবেন বা অন্য পেশায় নিযুক্ত হবেন তার জন্য বেইসিক আরবি গ্রামার ও আরবি ভাষা শুনে বুঝতে, বলতে, পড়তে এবং লিখতে পারলেই হয়।

আর যিনি আলিম শেষ করে জবে নিযুক্ত হবেন তিনি পবিত্র কুরআন ও হাদিসের অর্থ বুঝে পড়তে ও মর্ম অনুধাবন করতে পারলেই হয়। 

আর যিনি ফাযিল ও কামিল স্তরে শিক্ষা শেষ করবেন তিনি একজন বিশেষজ্ঞ হবেন। আরবি ভাষাসহ কুরআন, হাদিস, তাফসির,ফিকহ্ ও আদবে।


ঠিক তেমনিভাবে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরবি ভাষা ইনস্টিটিউট, আরবি অ্যাকাডেমি এবং স্কুল শিক্ষায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত আরবি ভাষা শিক্ষা থাকবে ভাষা হিসেবে। ধর্মীয় সাবজেক্ট হিসেবে নয়। যাতে যে কেউ চাইলে আরবি ভাষা শিখতে পারে।




ভারতের স্কুলগুলোতে আরবি ভাষার শিক্ষক আছে। হিন্দু মুসলিম যেকেউ আরবি শিখতে পারে। আর বাংলাদেশের স্কুলে আরবি ভাষার কোনো শিক্ষক নেই। ইসলাম ধর্ম নামে একটি প্রতিবন্ধী সাবজেক্ট ছিলো তাও নির্বাসিত এখন। 



 আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ শিখানো হবে আরোহ পদ্ধতিতে ; অবরোহ পদ্ধতিতে নয়।


বাংলাদেশের মাদরাসা  শিক্ষার্থীরা "আরবি ভাষায় " কথোপকথন সহ লিসেনিং,স্পিকিং, রিডিং এবং রাইটিং দক্ষতা সঠিকভাবে না জানার কারণ হলো "ব্যাকরণ পদ্ধতিতে আরবি ভাষা শিখানো। আগে ভাষা পরে ব্যাকরণ। ব্যাকরণ শিখবে ব্যবহারিক পদ্ধতিতে। 


কেউ ভাষা বা ব্যাকরণে বিশেষজ্ঞ বা পণ্ডিত হতে চাইলে আলিম পাস করার পরে হতে পারেন।



লেখক:


আব্দুর রহিম 

শিক্ষক 

সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডি. ডি.এফ আলিম মাদরাসা, বরিশাল। 



মন্তব্য করুন

ব্লগ