Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৪ ০১:২১ পূর্বাহ্ণ

ডেঙ্গু কি, লক্ষন, চিকিৎসা, ঝুঁকি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত এডিস মশা (Aedes mosquito), বিশেষ করে এডিস এজিপ্টি (Aedes aegypti) মশার কামড়ে ছড়ায়। এই ভাইরাসটি ফ্ল্যাভিভাইরাস প্রজাতির অন্তর্গত এবং এটি চারটি ভিন্ন সেরোটাইপে (DENV-1, DENV-2, DENV-3, DENV-4) পাওয়া যায়। একবার ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত হলে একজন ব্যক্তি সেই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি পায়, তবে অন্যান্য সেরোটাইপ দ্বারা পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়, যা গুরুতর হতে পারে।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব:

ডেঙ্গু বিশেষত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে প্রচলিত। বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়, কারণ এ সময় বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি হয়।

ডেঙ্গু সংক্রমণ কিভাবে হয়:

ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। যখন মশা ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী কোনো ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন ভাইরাসটি মশার দেহে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে সেই মশা যখন অন্য কোনো ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন ভাইরাসটি তার শরীরে প্রবেশ করে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটায়।

ডেঙ্গুর লক্ষণ:

ডেঙ্গুর লক্ষণ সংক্রমণের ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হতে পারে। এর প্রধান লক্ষণসমূহ হলো:

সাধারণ লক্ষণ:

  1. উচ্চ জ্বর (১০৪°F বা তার বেশি)
  2. তীব্র মাথাব্যথা
  3. চোখের পেছনে ব্যথা
  4. পেশী ও জয়েন্টের ব্যথা (যার কারণে এটিকে 'বোন ব্রেক ফিভার' বলা হয়)
  5. বমি বমি ভাব বা বমি
  6. গায়ে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ উঠা
  7. দুর্বলতা ও ক্লান্তি

গুরুতর লক্ষণ (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রূপ নিলে):

  1. রক্তক্ষরণ (নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে বা ত্বকের নিচে রক্ত জমা হতে পারে)
  2. প্লেটলেটের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া
  3. পেটে তীব্র ব্যথা
  4. শরীরে পানি জমা (এডিমা)
  5. রক্তচাপ কমে যাওয়া ও শক পরিস্থিতি তৈরি হওয়া

ডেঙ্গুর চিকিৎসা:

ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়, যা নিম্নরূপ:

  1. প্যারাসিটামল দিয়ে জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা।
  2. প্রচুর তরল পান করা: শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার জন্য তরল, যেমন: পানি, স্যুপ, ওরস্যালাইন ইত্যাদি খাওয়া জরুরি।
  3. বিশ্রাম নেওয়া: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
  4. গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি: রক্তক্ষরণ বা প্লেটলেটের সংখ্যা অত্যন্ত কমে গেলে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি এবং প্রতিরোধ:

ডেঙ্গুর কারণে রক্তচাপ হ্রাস, প্লেটলেট সংখ্যা কমে যাওয়া, এবং রক্তক্ষরণের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই এটি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

  1. মশার কামড় এড়ানো: দিনের বেলায় মশা বেশি কামড়ায়, তাই মশা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে মশার ধোঁয়া বা স্প্রে ব্যবহার করা, মশারি ব্যবহার করা, এবং ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরা উচিত।
  2. মশার বংশবিস্তার রোধ: ঘরের আশেপাশে জমে থাকা পানি (ফুলের টব, ভাঙা টায়ার, বালতি ইত্যাদি) পরিষ্কার রাখা, যাতে মশা ডিম পাড়তে না পারে।
  3. মশা তাড়ানোর লোশন বা স্প্রে: মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে মশা তাড়ানোর ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করা।
  4. সরকারি উদ্যোগ: স্থানীয় প্রশাসনের ফগিং বা মশা ধ্বংসের পদক্ষেপ অনুসরণ করা উচিত।
মন্তব্য করুন

ব্লগ