প্রভাষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ইলিশ মাছের
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
ইলিশ মাছ বাঙালিদের কাছে একটি জনপ্রিয় মাছ। ইলিশ মাছের নাম শুনলে জিভে জল আসে না এমন
বাঙালি নেই বললেই চলে। ইলিশ শুধু আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক নয়, অর্থনীতির সহায়ক শক্তিও
বটে। এই মাছ যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর।
পুষ্টিগুণ : ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২১.৮ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে উচ্চ পরিমাণ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, নায়সিন, ট্রিপ্টোফ্যান, ভিটামিন বি ১২, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম,
ম্যাগনেসিয়ামসহ অন্যান্য ভিটামিন।
উপকারিতা : ইলিশ মাছের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন-
যেসব পুষ্টিগুণ মেলে ইলিশে
১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে গড়ে পাওয়া যায়-
ক্যালরি: প্রায় ৩০০–৩২০
প্রোটিন: ১৮–২০ গ্রাম
ফ্যাট: ২৫–২৮ গ্রাম
ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এ, ডি, ই, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রন
উপকারিতাগুলো জেনে নিন।
1. ইলিশে থাকা ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো করে।
2. ওমেগা–৩ স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ উপকারী। শিশু ও বয়স্ক উভয়ের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ইলিশ কার্যকর।
3. ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত করে এবং দাঁতের গঠন ভালো রাখে।
4. ইলিশে থাকা ভিটামিন এ এবং ই শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
5. ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রাতকানা প্রতিরোধে কার্যকর।
6. সঠিক পরিমাণে ইলিশ খেলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও চোখের বিকাশে সহায়ক হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে খাওয়াই উত্তম।
হার্টের জন্য ভালো : ইলিশ মাছে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায়
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। সামুদ্রিক মাছ হিসেবে ইলিশে সম্পৃক্ত চর্বিও কম
থাকে। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।
রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় : ইলিশ মাছ রক্তনালির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভালো। এতে ওমেগা
থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাই ইলিশ মাছ খেলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়।
ত্বকের যত্বে: ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় ও রোদ থেকে ত্বকের ক্ষতি হওয়া প্রতিরোধে
ইলিশ মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। তা ছাড়া ইলিশ মাছে থাকা প্রোটিন কোলাজেনের
অন্যতম উপাদান। এই কোলাজেন ত্বক টাইট ও নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।
চোখ ভালো রাখে : ইলিশের ভিটামিন এ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের সুস্থতা
রক্ষায় সাহায্য করে। ইলিশ মাছ খেলে চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, চোখ উজ্জ্বল হয়। বয়সকালে
দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসার মোকাবিলা করতে পারে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।
খনিজ উপাদানে ভরপুর : ইলিশ মাছে রয়েছে আয়োডিন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক ও পটাশিয়াম।
থায়রয়েড গ্ল্যান্ড সুস্থ রাখে আয়োডিন, সেলেনিয়াম উৎসেচক ক্ষরণে সাহায্য করে, যা ক্যানসারের
মোকাবিলা করতে পারে। এ ছাড়াও ইলিশে থাকা খনিজ, বিশেষ করে ফসফরাস দাঁত ও ক্যালসিয়াম
হাড়ের পুষ্টির জন্য একান্ত অপরিহার্য। সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও লৌহ স্বাভাবিক
শরীর বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান।
ভিটামিনের ভালো উৎস : ইলিশ মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। বিশেষ করে ভিটামিন
ডি খুব কম খাবারে পাওয়া যায়। অস্টিওপোরোসিসের জন্যও ইলিশ মাছ খুব ভালো। ভিটামিন এ রাতকানা
রোগ প্রতিরোধ করে এবং ডি শিশুদের রিকেট রোগ থেকে রক্ষা করে।
ভিটামিন এ, ডি এবং ই: ইলিশ মাছে
রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই৷ বিশেষ করে ভিটামিন ডি কিন্ত্ত খুব কম খাবারেই পাওয়া যায়৷
অস্টিওপোরোসিসের জন্যও ইলিশ মাছ খুব ভালো৷ ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং
ডি শিশুদের রিকেট রোগ থেকে রক্ষা করে। ইলিশ মাছে আরজিনিন থাকায় তা ডিপ্রেশনের জন্যও
খুব ভালো৷
অবসাদ দূর করে : ইলিশ মাছে আরজিনিন থাকায় তা ডিপ্রেশন দূর করতে খুব ভালো কাজ
করে। এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে।
ইলিশ মাছ বাঙ্গালীদের কাছে একটি জনপ্রিয় মাছ। ইলিশ মাছের নাম শুনলে জিভে জল আসে না এমন বাঙালি নেই বললেই চলে। ইলিশ শুধু আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক নয় অর্থনীতির সহায়ক শক্তিও বটে। এই মাছ যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। ১০০ গ্রাম ইলিশে প্রায় ২১ দশমিক ৮ গ্রাম প্রোটিনের পাশাপাশি রয়েছে উচ্চ পরিমাণ ওমেগা তিন ফ্যাটি এসিড, নায়সিন, ট্রিপ্টোফ্যান, ভিটামিন, বি ১২, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনে সিয়ামসহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলস। সর্ষে ইলিশ, ভাপা, ইলিশ পাতুরি, দই ইলিশ, ইলিশের টক, ভাজা, ইলিশের ডিম আর কত কী যে বাঙালি ইলিশ দিয়ে রাঁধতে পারে তার তালিকা শেষ হবে না। সম্মানিত পাঠক জেনে নিন ইলিশ মাছের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে-
তাছাড়া ইলিশ মাছে থাকা খনিজ উপাদান শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। শ্বাসনালি ও থাইরয়েড গ্রন্থির সুরক্ষায় এই পুষ্টি উপাদান কাজ করে। এবং এতে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড অবসাদের মোকাবিলা করতে পারে। আলসার, কোলাইটিসের হাত থেকেও রক্ষা করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যসিড।
সতর্কতা
ইলিশে ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই যারা উচ্চ কোলেস্টেরল বা ফ্যাটজনিত সমস্যায়
ভুগছেন, তাদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এছাড়া ছোট কাঁটার কারণে শিশুদের খাওয়ানোর
সময় সতর্ক থাকতে হবে।
ইলিশ মাছ খেলে কারো শরীরে অ্যালার্জি বা গ্যাসের উদ্রেক হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগে বুঝতে হবে আপনার শরীরে ইলিশ মাছের বিরূপ প্রভাব আছে কিনা, থাকলে এড়িয়ে চলাই ভাল। মনে রাখবেন উচ্চ রক্তচাপ বা সুগারের রোগীদের জন্য ইলিশ মাছ ক্ষতিকর নয়।
সূত্রঃ অনলাইন
বিনীত নিবেদক
মোঃ সাখাওয়াত হোসেন
প্রভাষক
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
আগানগর ডিগ্রি কলেজ,
বরুড়া, কুমিল্লা।
ICT4E District Ambassador at a2i (Cumilla District)
Best Content Developer at a2i.
৪
৪ মন্তব্য