সহকারী শিক্ষক
০২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৯:৪১ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা - ২০২৫
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা চালু -2025 খ্রি.
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপেই অনেক শিশু প্রতিভা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে যায়। সেই প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং উৎসাহিত করার জন্যই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী স্তরে বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর বন্ধ থাকার পর এবার এটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। পূর্বে কেজি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও এবার সে সুযোগ আর থাকছে না।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো—
Ø মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা।
Ø ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া।
Ø শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলা।
Ø গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করা।
পরীক্ষার ধরণ ও মানবন্টন:
এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা পাঁচটি বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়গুলো হলো: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। প্রত্যেক বিষয়ের জন্য সময় 2.30 মিনিট। বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উত্তর দিতে পারবে। প্রশ্নপত্র সাধারণত সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী উভয় ধরণের হবে। মোট 400 মার্কের পরীক্ষা হবে।
বাংলা – 100,
গণিত- 100,
ইংরেজি-100,
বিজ্ঞান -50,
বাওবি – 50।
বিজ্ঞান ও বাওবি পরীক্ষা একই দিন হবে।
পরীক্ষার তারিখ: 21, 22, 23 ও 24 ডিসেম্বর 2025 খ্রি.
বৃত্তির ধরন
সাধারণত দুই ধরণের বৃত্তি দেওয়া হয়—
1. ট্যালেন্টপুল বৃত্তি – সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য।
2. সাধারণ বৃত্তি – অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য। (উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভিত্তিক যাচাই করা হবে।)
এ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাসিক ভাতা বা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রেরণা
বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়াশোনার প্রতিযোগিতা বেড়েছে। গ্রামের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ পাচ্ছে শহরের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার। অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরাও এই বৃত্তির অর্থ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বলা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, যা দেশের শিক্ষা অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে একইসাথে এই পরীক্ষাকে শিশুবান্ধব ও ন্যায়সংগত রাখা জরুরি। কেজি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপেই শিক্ষার্থীদের জন্য হবে এক অনুপ্রেরণার উৎস।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য