প্রভাষক
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ।।
লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ এবং আলোচনার জন্ম দেওয়া বিষয়। বিশ্বব্যাপী যখন লিঙ্গ সমতা অর্জনে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতি এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই অর্জন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং দশকের পর দশক ধরে চলে আসা নারী নেতৃত্ব, সামাজিক পরিবর্তন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের অবস্থান
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) কর্তৃক প্রকাশিত "গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৫" (Global Gender Gap Report 2025) অনুযায়ী, লিঙ্গ সমতার বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে।
বৈশ্বিক অবস্থান: বাংলাদেশ ১৪৮টি দেশের মধ্যে ২৪তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। এটি গত বছরের (২০২৪ সালের) ৯৯তম অবস্থান থেকে এক বিশাল লাফ, যদিও বিভিন্ন বছরের রিপোর্টে র্যাঙ্কিং-এর কিছুটা তারতম্য দেখা যায়।
আঞ্চলিক নেতৃত্ব: দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ টানা নবম বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেটি বৈশ্বিক শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে স্থান করে নিতে পেরেছে। এই অঞ্চলের গড় স্কোর যেখানে ৬৪.৬%, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর ৭৭.৫%।
অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশ: এই সূচকে ভারত (১৩১তম), শ্রীলঙ্কা (১৩০তম), নেপাল (১২৫তম) এবং পাকিস্তান (১৪৮তম) বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
এই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি
বাংলাদেশের এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের পেছনে বেশ কিছু কারণ বিদ্যমান, যা চারটি মূল সূচকের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়: অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও টিকে থাকা, এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: এই উপ-সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। বাংলাদেশ রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বব্যাপী ৭ম স্থানে রয়েছে এবং একমাত্র দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের পদে লিঙ্গ সমতা অর্জন করেছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রায় ২৯.৩ বছরই বাংলাদেশে একজন নারী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এটি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।
শিক্ষায় অগ্রগতি: শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ ব্যবধান হ্রাসেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে। নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ফলে এই সূচকে ভালো ফলাফল এসেছে।
স্বাস্থ্য ও টিকে থাকা: স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং জন্মকালীন লিঙ্গ অনুপাতের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যদিও সুস্থ জীবন প্রত্যাশার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যবধান রয়েছে।
অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ: যদিও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও আয়ের সমতার ক্ষেত্রে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান (যেমন বেশিরভাগ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন), তবুও পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীর অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা হ্রাস করতে সাহায্য করেছে।
৫৩
৯২ মন্তব্য