সহকারী শিক্ষক
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:২৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক লেখক, একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক। তাঁর জীবন ও সাহিত্যচর্চা বাঙালি জাতিসত্তা, মুসলিম সমাজ ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গভীর প্রতিচ্ছবি।
আবুল মনসুর আহমদ জন্মগ্রহণ করেন ৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা গ্রামে। তিনি ১৯১৭ সালে নাসিরাবাদ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯১৯ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ এবং ১৯২১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে বি.এ পাস করেন। পরে কলকাতা রিপন ল’ কলেজ থেকে বি.এল পাস করে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
তিনি ছিলেন একজন পেশাদার সাংবাদিক। কাজ করেছেন সাপ্তাহিক সোলতান, মোহাম্মদী, দি মুসলমান, কৃষক, নবযুগ ও ইত্তেহাদ পত্রিকায়। তাঁর সাহিত্যিক জীবন শুরু হয় ছোটগল্প লেখার মাধ্যমে, যা প্রকাশিত হয় মাসিক ‘সওগাত’-এ। তিনি ছিলেন বাংলা বিদ্রূপাত্মক সাহিত্যের পথিকৃৎ, যাঁর লেখায় সমাজের অসঙ্গতি, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রাজনৈতিক কূটচালকে ব্যঙ্গ করে তুলে ধরা হয়েছে।
| গ্রন্থের নাম | ধরন / বিষয়বস্তু |
|---|---|
| আয়না | বিদ্রূপাত্মক গল্পগ্রন্থ |
| গালিবের গালিবি | সাহিত্য সমালোচনা |
| ফজলুল হক | রাজনৈতিক জীবনী |
| শেরে বাংলা | রাজনৈতিক বিশ্লেষণ |
| মুসলিম সমাজ | সমাজচিন্তা |
| আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর | আত্মজীবনীমূলক রচনা |
তাঁর আত্মজীবনী “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” বাংলা রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল।
তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৭৯) – মৃত্যুর পর তাঁকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করা হয়।
আবুল মনসুর আহমদ ১৮ মার্চ ১৯৭৯ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে মাহফুজ আনাম (সম্পাদক, ডেইলি স্টার) অন্যতম।
🔍 উপসংহার: আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর বিদ্রূপাত্মক লেখনী, যুক্তিবাদী চিন্তা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাসে চিরস্মরণীয়। তিনি আমাদের শেখান কীভাবে কলম ও চিন্তা দিয়ে সমাজকে বদলে দেওয়া যায়।
৭০
১৪৪ মন্তব্য