Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০১:৫৭ অপরাহ্ণ

খোলা চিঠি, পে-স্কেল নিয়ে নতুন বার্তা

খোলা চিঠি 

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়,

সবিনয় নিবেদন এই যে, আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুতর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে আসছি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, প্রায় দশ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো কার্যকর বৃদ্ধি কিংবা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়নি।

অন্যদিকে, এই দীর্ঘ সময়ে দেশের সার্বিক বাজার পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ব্যয়, বাসাভাড়া ও শিক্ষা ব্যয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন অপরিবর্তিত থাকায় বর্তমান বেতনে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে সংসার পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা কর্মচারীদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং কর্মস্পৃহা ও মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে সরকারি সেবার মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে।

মাননীয় মহোদয়, সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। দেশের প্রশাসন, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য। সুতরাং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে পে-কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি যুগোপযোগী বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে দ্রুত পে-স্কেল কার্যকরের মাধ্যমে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সুবিধা প্রদানের জন্য আমরা আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার বিষয়টি মানবিক ও বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এতে একদিকে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের সেবার মান আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।

আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করছি।


বিনীত নিবেদক

বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীবৃন্দের পক্ষে

শিমুল আহমেদ 

মন্তব্য করুন

ব্লগ