সিনিয়র শিক্ষক
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ
“প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না”— প্রেমের মরা জলে ডোবে না
“প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না”—
এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে যায় একজন মানুষের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য। ❤️
চিত্ত মিডিয়ার আলোচিত মুখ জুয়েল রানা—এতদিন যাঁকে অনেকেই চিনতেন কেবল তাঁর বাচনভঙ্গি বা ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার জন্য—আজ তিনি ধরা দিলেন একেবারে অন্য আলোয়। আজ আমরা চিনলাম একজন মানুষকে, একজন স্বামীকে, একজন ভালোবাসার মানুষকে।
জুয়েল রানা
তিনি যখন বলছিলেন তাঁর স্ত্রীর কথা—ক্যান্সারের সেই ভয়ংকর সময়ের কথা—যখন মাথার চুল ঝরে গিয়েছিল, মুখের উজ্জ্বলতা ম্লান হয়ে এসেছিল—তাঁর কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল, চোখের কোণে জমে উঠছিল জল। তবু ঠিক সেই সময়েই তিনি তাঁর স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন,
“দেখো, প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না।”
আর বুকভরা বিশ্বাস নিয়ে, নিঃসংকোচে বলেছিলেন—
“আমার স্ত্রী সত্যিই অনেক সুন্দর।”
এই সৌন্দর্য কোনো মুখের রেখায় সীমাবদ্ধ নয়। এই সৌন্দর্য ভালোবাসার, সম্মানের, গ্রহণ করার।
স্ত্রীর প্রতি তাঁর ভালোবাসায় কোনো কমতি নেই—বরং তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সাপোর্টার হলেন তাঁর স্ত্রীই। জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে, প্রতিটি সিদ্ধান্তে তিনি তাঁকে পাশে পেয়েছেন নিঃশর্তভাবে।
এক সময় তাঁর প্রকৃতি–প্রেম, শখ আর জীবনদর্শনের জন্য পরিবারও তাঁকে সহজে মেনে নিতে পারেনি। ঠিক তখনই এই মানুষটি—তাঁর স্ত্রী—ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন সামনে। বলেছেন,
“নিজেকে হারিয়ে ফেলো না। তুমি যেমন, সেভাবেই থেকো।”
প্রকৃতির সঙ্গে থাকা মানুষটা যেন বদলে না যায়—এই ছিল তাঁর চাওয়া।
ভালোবাসা মানে বদলে দেওয়া নয়।
ভালোবাসা মানে—যেমন আছো, সেভাবেই গ্রহণ করা।
ভালোবাসা মানে—নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে না দিয়ে, অন্যজনের সুখকে নিজের সুখ ভাবা।
একজন মানুষ যখন তাঁর স্ত্রীর ক্যান্সারের সময় দাঁড়িয়ে বলেন—
“প্রেয়সী কখনো কুৎসিত হয় না,”
আর সেই প্রেয়সী যখন চান—তিনি যেন নিজের মতো করেই সুখে থাকেন—
তখন সেই সম্পর্ক আর পাঁচটা সম্পর্কের মতো থাকে না, তা হয়ে ওঠে আশ্রয়।
এমন একজন মানুষ পাশে থাকলে জীবনে আর কীই বা লাগে?
ভালোবাসা সুন্দর—খুব সুন্দর।
ভালোবাসার প্রকাশ তার চেয়েও সুন্দর।
আর ঠিক মানুষটা পেয়ে গেলে জীবন সত্যিই ফুলের মতো ফুটে ওঠে। ❤️🌸
কপি পেস্ট
৭
৭ মন্তব্য