সহকারী শিক্ষক
২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:১৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বাংলা সাহিত্য ও নারী জাগরণের অগ্রদূত: ড. নীলিমা ইব্রাহিম বাংলাদেশের সাহিত্য, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ড. নীলিমা ইব্রাহিম। তাঁর জীবন ও কর্ম আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে নারীর ক্ষমতায়ন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলা ভাষার বিকাশে।
ড. নীলিমা ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামে। তাঁর আসল নাম ছিল নীলিমা রায় চৌধুরী।
তিনি খুলনা করোনেশন বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা, কলকাতা ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন থেকে আইএ এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বিএবিটি পাস করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ (১৯৪৩) এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি (১৯৫৯) অর্জন করেন।
নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একাধারে লেখিকা, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
আমি বীরঙ্গনা বলছি — মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সাহসী প্রয়াস।
ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি সমাজ ও বাংলা নাটক — সমাজ ও নাট্যচর্চার ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ।
বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য — বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার মনস্তাত্ত্বিক দিক।
এইসব রচনায় তিনি নারীর অবস্থান, সমাজের পরিবর্তন এবং ইতিহাসের গভীরতা তুলে ধরেছেন অসাধারণ দক্ষতায়।
১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯৭২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর নেতৃত্বে বাংলা একাডেমি সাহিত্য ও গবেষণায় নতুন মাত্রা পায়।
ড. নীলিমা ইব্রাহিম পেয়েছেন বহু জাতীয় সম্মান:
| পুরস্কার | বছর |
|---|---|
| বাংলা একাডেমি পুরস্কার | ১৯৬৯ |
| একুশে পদক | ২০০০ |
| স্বাধীনতা পদক | ২০১১ (মরণোত্তর) |
Sources:
ড. ইব্রাহিমের সাহিত্য ও সমাজকর্ম নারীর অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বাংলা ভাষার বিকাশে অমূল্য অবদান রেখেছে। তাঁর লেখা “আমি বীরঙ্গনা বলছি” আজও সাহসী নারীর প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি ২০০২ সালের ১৮ জুন ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু তাঁর কাজ ও আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায়।
৪
৪ মন্তব্য