সহকারী শিক্ষক
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:০৩ অপরাহ্ণ
স্টেশনের অচেনা গোধূলি
শেষ বিকেলে সূর্যটা পশ্চিম আকাশে লাল হয়ে হেলে পড়েছে। ডুবুডুবু ভাব। এমন সময় ফুলতলা স্টেশনে মানুষের ভিড়। কেউ দর্শনার্থী আবার কেউ যাত্রী। ছিমছাম পরিবেশ। নির্জন স্টেশন। ছবির মতো সুন্দর। মায়ার হাতছানি। এমন সুন্দর পরিবেশে ওভার ব্রীজের উপর দাড়িয়ে আছে সপ্তদশী এক তরুণী। লাল চাদর। পায়ে নুপুর। হাতে পার্স! চুলগুলো খোলা। কোমর পর্যন্ত ছুয়ে যায় প্রায়। সেদিকে চোখ পড়ল রাসেদের।
রাসেদের বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন যেন ধাক্কা খেল। সে নিজেও বুঝতে পারল না—এই ধাক্কা বিস্ময়ের, নাকি অজানা কোনো আশঙ্কার। ওভার ব্রিজের সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে সে কয়েক সেকেন্ড থমকে রইল। ট্রেন আসার ঘোষণা ভেসে এলো মাইকে, কিন্তু শব্দগুলো যেন তার কানে ঢুকল না।
তরুণীটি পশ্চিম আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। লাল আকাশে তার লাল চাদর আরও উজ্জ্বল লাগছিল। নুপুরের হালকা শব্দ বাতাসে মিশে কখন যে রাসেদের কানে পৌঁছে গেছে, সে টেরই পায়নি। মেয়েটি যেন ছবির ফ্রেমে আটকে থাকা কোনো চরিত্র,চলমান সময়ের সঙ্গে যার তেমন সম্পর্ক নেই।
হঠাৎ একটি ট্রেনের হুইসেল তাকে চমকে দিল। রাসেদ চোখ সরাল, আবার তাকাল। তরুণী এবার নিচে তাকাল,ভিড়ের দিকে, ট্রেন লাইনের দিকে। তার চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা। রাসেদের বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। সে কয়েক কদম এগিয়ে গেল, নিজেকে বোঝাল“অযথা ভাবছিস।”
ঠিক তখনই মেয়েটি এক পা এগোল ওভার ব্রিজের রেলিংয়ের কাছে।
রাসেদ আর দেরি করল না।
“আপু…!”
ডাকটা নিজের কণ্ঠ বলে তার কাছেই অচেনা লাগল।
তরুণী চমকে তাকাল। চোখে ফিরে এলো জীবনের আলো।
“জি?”
একটা সাধারণ শব্দ, কিন্তু সেই শব্দে যেন পুরো স্টেশনটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
রাসেদ হাসল, একটু অপ্রস্তুতভাবে।
“ট্রেন আসছে। ভিড় হবে। একটু সাবধানে থাকবেন।”
মেয়েটি ধীরে মাথা নেড়ে হাসল। সেই হাসিতে সন্ধ্যার লাল আকাশটা যেন আরও নরম হয়ে গেল।
“ধন্যবাদ,” বলেই সে একপাশে সরে দাঁড়াল।
ট্রেন এলো, মানুষ ছুটল, শব্দে ভরে গেল স্টেশন। কিছুক্ষণ পর সব আবার শান্ত। রাসেদ তাকিয়ে দেখল,তরুণী নেই। যেন কখনো ছিলই না।
শুধু নুপুরের ক্ষীণ এক স্মৃতি, আর মনে গেঁথে থাকা একটি বিকেল।ফুলতলা স্টেশনের, লাল আকাশের, আর অচেনা এক মানুষের প্রতি অদ্ভুত দায়িত্ববোধের।
১
১ মন্তব্য