সিনিয়র শিক্ষক
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৬:৫৭ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
শৈত্যপ্রবাহ ও জনস্বাস্থ্য
তীব্র শীতে মানুষ বিভিন্ন ধরনের অসুখে ভুগতে পারে। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, অপুষ্টিতে ভোগেন তাদেরই রোগের আশংকা বেশি। টনসিলের প্রদাহ বা গলা ব্যাথা, ডায়রিয়া, আমাশয় জাতীয় পেটের অসুখ, বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ শীতের সাথে সম্পর্কিত সাধারণ রোগ। এছাড়াও কিছু কিছু অসুখে ভোগান্তির পরিমান শীতে বেড়ে যাবার আশংকা রয়েছে। যেমন- শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানী, কিডনির অসুখ, রিউমেটিক ফিভার, হৃদরোগ, ইত্যাদি।
শৈত্যপ্রবাহে সর্তকর্তামূলক পদক্ষেপ
শিশুদের সুস্থ রাখার জন্য করণীয়
প্রবীণদের সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে করণীয়
নিম্নবর্ণিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে অতিসত্বর শিশুকে হাসপাতালে নিতে হবে বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
শৈত্যপ্রবাহে কৃষি ও মৎস্য বিপর্যয় রোধে করণীয়
আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ পাল্টে দেয় কৃষকের সব হিসাব নিকাশ। ঘন ঘন শৈত্যপ্রবাহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ডেকে আনে। শীত আর কুয়াশায় ইরি, বোরো ধানের চারা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রবিশস্য ও আলু, টমেটো, শিমসহ বিভিন্ন ফসলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শৈত্যপ্রবাহে পর্যাপ্ত রোদের অভাবে জলাশয়ের তলদেশের জলজ উদ্ভিদ মারা যেতে পারে। শীতকালে পুকুরের পানির গভীরতা কমে যায়, যেসব পুকুরে মাছের খাবার সরবরাহ করা হয় সেখানে অতিরিক্ত খাবার জলাশয়ের তলদেশে জমে পানি দূষণ ও জীবাণুর সংক্রমণ বাড়াতে পারে। শীতজনিত রোগে (কোল্ড স্ট্রোকে) আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক হারে পাঙ্গাশ, কই, তেলাপিয়া, দেশি মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়।
কি করবেন ?
শৈত্য প্রবাহে পোলট্রি ও গবাদি পশুর রোগবালাই থেকে রক্ষায় করনীয়
অতিরিক্ত ঠান্ডায় হাঁস-মুরগির ডিম পাড়ার পরিমাণ কমে যায়। রানীক্ষেত ও বসন্ত রোগের সংক্রমণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ঠান্ডায় বাচ্চা মারা যেতে পারে। এসময় গরু-ছাগলের মাঠে চরে খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। শৈত্যপ্রবাহের সময় যকৃত কৃমিতে গরু মারা যেতে পারে। শীতের সময় এই রোগের আক্রমণ বেশি ঘটে। এতে গরুর কলিজায় একধরনের কৃমির আক্রমণ ঘটে এবং গরুর রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় ও থুতনির নিচে পানি জমে যায়। এসময় গরুর খাবার গ্রহণও কমে যায়, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে এবং মৃত্যুহার বেড়ে যায়।
কি করবেন ?
শীতের সময় আগুন পোহাতে সতর্কতা
১) এক্ষেত্রে নারীরাই বিপদে
পড়ে থাকে বেশি। গ্রামাঞ্চলে নারীরা সাধারণত শাড়ি পরেন সব সময়। হাড়কাঁপানো শীত
সহ্য করতে না পেরে বাড়ির পাশেই খড়ের মধ্যে আগুন ধরিয়ে তাপ নেয়ার সময় কখন যে
শাড়ির আঁচলে আগুন লেগে যায়, তা শীতের তীব্রতার কারণে বোঝা যায় না। এই
ক্ষেত্রে শাড়ী ভালোভাবে পেঁচিয়ে তারপর বসুন।
২) শীতের মধ্যে এলাকার ছেলেরা কয়েকজন মিলে কৃষকের খড়ের পুঞ্জির
পাশে আগুন পোহাতে গিয়ে সেই পুঞ্জি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কৃষকের জন্য এ ক্ষতি
অপূরণীয়। কৃষকের খড় যেখানে আছে তার থেকে দূরে আগুন পোহালে ভালো, যদি সম্ভব হয় তাহলে আশেপাশে কৃষকে খড় বা কারো বাড়ি নাই এমন স্থানে আগুন
পোহানো।
৩) আগুন পোহানো হয়ে গেলে আগুন ভালোভাবে নিভিয়ে দিন। না হয়
অজান্তে কেউ সেখানে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৪) যারা বার্বিকিউ পার্টি করছেন, যতোটা সম্ভব
সাবধানে থাকুন। নিশ্চিত হোন আপনার ফায়ার প্লেসের আগুন পুরোপুরি নিভেছে কি-না।
সামান্য আগুনের ফুলকা থেকেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৫) বাড়ির ছোট সদস্যদের প্রতি বাড়তি নজর দিন। আগুন থেকে দূরে
রাখুন। প্রয়োজনে বাড়তি গরম কাপড় পরিয়ে রাখুন।
১
১ মন্তব্য