Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:০৮ অপরাহ্ণ

নিকৃষ্ট সৃষ্টির পরিণাম মোঃ মুজিবুর রহমান



নিকৃষ্ট সৃষ্টির পরিণাম

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

যারা সত্য জেনেও মুখ ফেরায়,

আসমানি বাণী অস্বীকারে ধায়,

কিতাব হাতে, তবু পথহারা,

অহংকারে ডুবে, হৃদয় অন্ধ তারা।

মুশরিক যারা রবের একত্ব ভাঙে,

সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টাকে ভাগে ভাগে,

হেদায়াত ডাকে, তারা কানে নেয় না,

ভ্রান্ত পথেই চলে, ফিরে তাকায় না।

আল্লাহ বলেন—শোন, মানবজাতি,

এই অবাধ্যরাই নিকৃষ্ট সৃষ্টি,

জাহান্নামের আগুন তাদের ঠিকানা,

চিরস্থায়ী সে শাস্তি—শেষ নেই জানা।

না মৃত্যু এসে শাস্তি কমাবে,

না সময়ের স্রোত আগুন নেভাবে,

কারণ সত্য এসেছিল স্পষ্ট ভাষায়,

তবু তারা ডুবেছিল কুফরীর গহ্বরে গাঢ়তায়।

হে মানুষ! আয়াত থেকে নাও শিক্ষা,

অহংকার ভেঙে ধরো তাওহীদের দীপশিখা,

আজই ফিরো, খোলা আছে তওবার দ্বার,

নইলে পরকাল হবে ভীষণ ভার।

***

 

নিকৃষ্ট সৃষ্টির সিদ্ধান্ত

সত্য জেনেও যারা সত্য মানে না,

রবের বাণী জেনেও প্রাণ টানে না।

কিতাব হাতে অহংকারে অন্ধ,

আলো পেয়েও থাকে তারা চরম বন্ধ।

মুশরিক যারা স্রষ্টারে ভাগে,

সৃষ্টির মাঝে শিরক তুলে জাগে।

তাওহীদের ডাক কানে তোলে না,

হেদায়াতের পথ তারা বোঝে না।

আল্লাহ বলেন—এরা নিকৃষ্ট,

সকল সৃষ্টির মাঝে ঘোর দুষ্ট।

জাহান্নামের আগুনে ঠিকানা,

চিরকালীন শাস্তি—শেষ জানা না।

না মৃত্যু আসবে শাস্তি ভাঙে,

না সময় এসে আগুন থামায় রাঙে।

কারণ স্পষ্ট ছিল সত্যের ভাষা,

তবু কুফরেই বাঁধল তারা আশা।

হে মানব! আয়াত থেকে শিক্ষা নাও,

অহংকার ভেঙে তাওহীদ গাঁও।

আজই ফিরো, তওবার দ্বার,

নইলে আখিরাত হবে ভয়ংকর ভার।

 

 

নিকৃষ্ট সৃষ্টির মহাকাব্য

 

যে দিন নাযিল হলো সত্যের ঘোষণা,

আসমান থেকে ঝরল হেদায়াতের বাণীখানা,

নবীর কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হল আহ্বান—

“আল্লাহ এক, তাঁকেই মানো, এটাই ইমান।”

কিতাব এল, নিদর্শন এল স্পষ্ট রূপে,

অন্ধকার ভাঙল দীনের আলোক-ছুপে,

তবু কেউ কেউ ফিরল না সত্যের পথে,

অহংকারে বসল তারা ভ্রান্তির রথে।

তারা জানত—এ সত্য, এতে নেই ভ্রান্তি,

তবু প্রবৃত্তির দাসত্বে হারাল শান্তি,

জ্ঞান ছিল হাতে, অন্তর ছিল শূন্য,

অহংকারে ভারী হয়ে উঠল মন ধন্য।

কিতাবীরা জেনেও মানল না রাসূল,

মুশরিকরা ভাঙল তাওহীদের মূল,

স্রষ্টার অধিকার ভাগে ভাগে দিল,

নিজ হাতে নিজেদের পতন লিখিল।

আল্লাহ বলেন—শোনো মানবজাতি,

এরা সকল সৃষ্টির নিকৃষ্ট সৃষ্টি,

কারণ সত্য পেয়েও তারা ফিরেছে মুখ,

আলো দেখেও বেছে নিয়েছে অন্ধকারের দুঃখ।

জাহান্নামের আগুন তাদের ঠিকানা,

সেখানে থাকবে তারা চিরকালানা,

না সময় আসবে শাস্তি লাঘব করতে,

না মৃত্যু দেবে মুক্তি সেই আগুন হতে।

সে আগুন সাক্ষী হবে অবাধ্যতার,

অহংকারের, কুফরীর, শিরকের ভার,

যে আগুন জ্বলে ন্যায়ের আদেশে,

জুলুমের ফল ভোগাবে নির্দিষ্ট দেশে।

হায়! যদি তারা ফিরত একদিন,

ভেঙে দিত অহংকারের কঠিন প্রাচীর-রিন,

যদি বলত—“হে রব, আমরা ভুল করেছি”,

তবে রহমতের বৃষ্টি নেমে আসত নিশ্চয়ই।

কিন্তু তারা হাসল উপদেশ শুনে,

বিদ্রূপ করল আয়াতের বাণী বুনে,

বলল—“এ তো পুরোনো কাহিনি মাত্র”,

আর বাড়াল কুফরীর ভারী যাত্রা।

হে মানুষ! এই আয়াত শুধু ইতিহাস নয়,

এ সতর্কবার্তা—আজও সমান ভয়,

সত্য জেনেও যদি মুখ ফেরাও,

তবে একই পরিণামের পথে যাও।

আজও খোলা আছে তওবার দরজা,

আজও ডাকে দয়া, ডাকে মাগফিরাতের গর্জা,

ফিরে এসো তাওহীদের ছায়াতলে,

নইলে কাল দাঁড়াতে হবে কঠিন বিচারে।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব ইমানে, আমলে,

নত হওয়া হৃদয়ে, রবের আদেশ মানলে,

আর নিকৃষ্টতা জন্মায় অহংকারে,

সত্য জেনেও অস্বীকারের অন্ধকারে।

হে পাঠক! নাও আয়াতের শিক্ষা,

জীবন গড়ো কুরআনের আলো-দীক্ষা,

যাতে কিয়ামতের সেই মহাদিনে,

নিকৃষ্ট নয়—থাকো সফলদের কাতারে, নিশ্চিন্তে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ