সহকারী শিক্ষক
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সুকান্ত ভট্টাচার্য: আগুনের কবি, বিপ্লবের কণ্ঠস্বর মাত্র ২১ বছর বয়সে জীবনাবসান হলেও সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যে এমন এক দীপ্ত ছাপ রেখে গেছেন, যা আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর কবিতা ছিল ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ, শোষিতের প্রতিবাদ, এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯২৬, কালীঘাট, কলকাতা
পৈতৃক নিবাস: ঊনশিয়া গ্রাম, কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ
পিতা: নিবারণ ভট্টাচার্য
মাতা: সুনীতি দেবী
শিক্ষা: কমলা বিদ্যামন্দির → বেলেঘাটা দেশবন্ধু হাইস্কুল → প্রবেশিকা পরীক্ষায় অকৃতকার্য (১৯৪৫)
সুকান্ত ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য (১৯৪৪)। তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা
তেতাল্লিশের মন্বন্তরের করুণ চিত্র
ফ্যাসিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ও স্বপ্ন
তিনি কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
| গ্রন্থ | প্রকাশকাল | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| ছাড়পত্র | ১৯৪৭ | বিপ্লবী চেতনায় ভরপুর |
| পূর্বাভাস | ১৯৫০ | ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও সংগ্রাম |
| ঘুম নেই | ১৯৫০ | নিপীড়িতের আর্তনাদ |
| আকাল | ১৯৪৪ | সংকলনগ্রন্থ, সম্পাদনা করেন নিজে |
“আমি ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবীর কবি, আমি সব দেখেছি, তাই আমি চুপ করে থাকি না” — এই লাইনটি তাঁর কবিত্বের সারমর্ম।
মৃত্যু: ১৩ মে ১৯৪৭, মাত্র ২০ বছর বয়সে, যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে
উত্তরাধিকার: তাঁর কবিতা আজও বিপ্লবী চেতনার প্রতীক, স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত, এবং গণসচেতনতার অনুপ্রেরণা।
তরুণদের কণ্ঠস্বর: তাঁর কবিতা তরুণদের প্রতিবাদী মনোভাবকে জাগ্রত করে
সামাজিক দায়বদ্ধতা: ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য নিয়ে সরাসরি কথা বলেন
ভাষার শক্তি: সহজ, সরল অথচ তীব্র ভাষায় তিনি সমাজকে নাড়া দিয়েছেন
শেষ কথা: সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন না শুধু কবি, ছিলেন এক বিপ্লবী আত্মা। তাঁর কবিতা আমাদের শেখায়—কবিতা শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রতিবাদও হতে পারে। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আজও আমাদের সাহস জোগায়, প্রশ্ন করতে শেখায়, এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করে।
১
১ মন্তব্য