সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
-সুর সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শহীদ শের শাহ সুরীর সমাধিসৌধ, যা ইসলামি স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্যসাধারণ নিদর্শন। এটি বিহারের তাজমহল নামেও পরিচিত। সুলতান স্বয়ং নিজের জন্য এই সমাধিসৌধ তৈরি করেছিলেন। ১৫৪২ ঈসাব্দে তিনি এই সমাধিসৌধের নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু এটি সম্পন্ন হওয়ার মাত্র ০৩ মাস আগে ১৫৪৫ ঈসাব্দের ২২ মে মধ্য-ভারতের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করে রাখার সময়ে বারুদ বিস্ফোরণে তিনি শহীদ হয়ে যান। সুলতানের মৃত্যুর পর তার ছেলে সুলতান সেলিম শাহ সুরী এর নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন, যা ১৫৪৫ ঈসাব্দের ১৬ আগস্ট সম্পন্ন হয়। তৎকালীন যুগে এটি ছিল হিন্দুস্তানের সবচেয়ে বড় সমাধিসৌধ।
-এই সমাধিসৌধ একটি কৃত্রিম হ্রদের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে, যা একটি সরু রাস্তার মাধ্যমে মূল ভূমির সাথে সংযুক্ত। এই হ্রদটি স্থানীয়ভাবে "পানি রোজা" নামে পরিচিত। আয়তাকার এই হ্রদটি দৈর্ঘ্যে ৩৭০ মিটার (১২০০ ফুট) এবং প্রস্থে ২৭০ মিটার (৯০০ ফুট)। সমাধিসৌধটির উচ্চতা ৩৭ মিটার (১২২ ফুট)। এটি লাল বেলেপাথর দিয়ে তৈরি। এটি একটি তিনতলা অষ্টভুজাকার ভবন। মাঝের বিশাল গম্বুজটির ব্যাস ২৪ মিটার (৮০ ফুট)। সমাধিসৌধটি ০৬.০৭ মিটার (২২ ফুট) উঁচু একটি বর্গাকার পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে আছে।
-ব্রিটিশ-ভারতের বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম তাজমহলের তুলনায় এই সমাধিসৌধকেই বেশি পছন্দ করেছেন। ব্রিটিশ-ভারতের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও ভারতত্ত্ববিদ ভিনসেন্ট আর্থার স্মিথের মতে, এই সমাধিসৌধ ভারতীয় স্থাপত্যশিল্পের মধ্যে সর্বাধিক সুপরিকল্পিত এবং সুন্দর। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রীঅনিলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় একজন শিল্প-সমালোচকের উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন এভাবে—"শের শাহের সমাধি ভবন একটি জলবেষ্টিত ভূখণ্ডের উপর দাঁড়াইয়া আছে—ধূসর ও ধ্যানমগ্ন। ভারতীয় সমাধি সৌধগুলির মধ্যে সম্ভবতঃ এটি সর্বাপেক্ষা বেশী ভাবোদ্রেককারী।"
-চারপাশে হ্রদের জল দ্বারা বেষ্টিত এই অপূর্ব সুন্দর সমাধিসৌধটি পূর্ব ভারতের বিহার রাজ্যের রোহতাস জেলার সাসারাম শহরে অবস্থিত।
৪
৭ মন্তব্য