সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সুলতান বায়েজিদ (প্রথম) ছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের এক মহান শাসক। তিনি বুলগেরিয়া, বসনিয়া এবং আলবেনিয়ার মতো ইউরোপীয় এলাকা জয় করেছিলেন।
একদিন সুলতান একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে কাজীর আদালতে উপস্থিত হলেন। তখন প্রধান বিচারপতি (কাজী) ছিলেন বিখ্যাত আলেম ও ফকিহ শামসুদ্দিন ফানারী (রহ.)। সুলতান কোনো রাজকীয় দম্ভ ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো হাত বেঁধে মাথা নিচু করে কাঠগড়ায় দাঁড়ালেন।
কাজী শামসুদ্দিন সুলতানের দিকে তাকালেন এবং এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন:
"হে সুলতান! আপনার সাক্ষ্য এই আদালতে গ্রহণ করা হবে না। কারণ আপনি জামাতের সাথে নামাজ আদায়ে নিয়মিত নন। আর যে ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া জামাত তরক করে, সে মিথ্যা সাক্ষ্যও দিতে পারে।"
কাজীর এই কথা শুনে পুরো আদালত স্তব্ধ হয়ে গেল। সবাই ভাবল, সুলতান হয়তো রেগে গিয়ে কাজীর গর্দান নেওয়ার হুকুম দেবেন। কারণ পৃথিবীর কোনো বাদশাহ এমন অপমান সহ্য করেন না।
কিন্তু ইতিহাস অবাক হয়ে দেখল, সুলতান বায়েজিদ রাগ করলেন না, প্রতিবাদও করলেন না। তিনি চুপচাপ মাথা নিচু করে আদালত থেকে বেরিয়ে গেলেন। তিনি মেনে নিলেন যে, আল্লাহর আইনের ঊর্ধ্বে সুলতানও নন।
সেদিন ফিরে গিয়েই সুলতান হুকুম দিলেন তার প্রাসাদের ঠিক পাশেই একটি মসজিদ নির্মাণ করার, যাতে তিনি আর কখনো জামাত মিস না করেন। মসজিদ তৈরি হলে তিনি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করতে শুরু করলেন।
১
১ মন্তব্য