সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
সরিষা চাষ পদ্ধতি.... আবহাওয়াঃ সরিষা ১২°-২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাল জন্মায়।
সরিষা চাষ পদ্ধতি....
আবহাওয়াঃ
সরিষা ১২°-২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভাল জন্মায়। তবে, গাছের ভালো বৃদ্ধির জন্য ২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা উত্তম।
মাটিঃ
সরিষা বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে ভাল ফলন দিয়ে থাকে ।
সরিষা চাষের উপযুক্ত সময়ঃ
সরিষা বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর।
(তবে কিছু অঞ্চলে ৩০ শে নভেম্বর পর্যন্ত বীজ বপন করা যায় )
জমি নির্বাচনঃ
উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি সরিষার জন্যে ভালো৷ সারাদিন রোদ পড়ে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে।
সরিষার জাত ও জীবনকালঃ
বয়সের উপর ভিত্তি করে সরিষার জাতগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১) স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন জাতঃ (৭৫-৮৫ দিন এবং বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে ৫-৬ মন)
* বারি সরিষা - ১৭
* বারি সরিষা - ১৪
* বারি সরিষা - ২০
* বিনা সরিষা-৪
* বিনা সরিষা - ৯
* বিনা সরিষা - ১০ (বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে ৬-৭ মন)
২) মাঝারি জীবনকাল সম্পন্ন জাতঃ (৮৫-৯৫ দিন এবং বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে ৭-৮ মন)
* বারি সরিষা - ৭
* বারি সরিষা - ৮
* বারি সরিষা - ১৩
৩) দীর্ঘ জীবনকাল সম্পন্ন জাতঃ (৯৫-১১৫ দিন এবং বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে ৭-৮ মন)
* বারি সরিষা - ১১
* বারি সরিষা - ১৬
* বারি সরিষা - ১৮
* বিনা সরিষা - ৭
* বিনা সরিষা - ৮
জমি তৈরি পদ্ধতিঃ
জমিতে ২ টি আড়াআড়ি চাষ করে সরিষা বীজ ছিটিয়ে আরো ১টি চাষ করে মই দিতে হবে৷ সরিষার জমি ২ চাষ করে ভালো করে শুকিয়ে নিতে পারলে ভালো হয় ।
এলাকা ভেদে চাষ কম বেশি হতে পারে এবং অনেক এলাকাতে সরিষার বীজ ১ চাষের নিচে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, শুধুমাত্র মই দিলেই হয়।
বীজ শোধনঃ
বীজ বপনের পূর্বে এসিফ্লো/নোইন/ অটোস্টিন/ থিরাম যে কোন একটি ছত্রাকনাশক দিয়ে ১ কেজি বীজে ২-৩ গ্রাম মিশিয়ে বীজ শোধন করে বপন করা ভালো।
বীজ বপন পদ্ধতিঃ
সরিষার বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়৷
বীজের হারঃ
বিঘা প্রতি ৮০০-৯০০ গ্রাম।
সারের পরিমাণঃ (বিঘা প্রতি ৩৩ শতাংশে)
ইউরিয়া -- ৩৩-৩৭ কেজি
টি এস পি -- ২৩ কেজি
এমওপি -- ১৫ কেজি
জিপসাম -- ২২ -কেজি
জিংক -- ১ কেজি
বোরন -- ৪০০ গ্রাম
গোবর -- ১ টন
নোট: টিএসপি এবং জিংক দুটি একসাথে ব্যবহার করা যাবে না। জিংক আলাদাভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।
সরিষার জাত/মাটির উর্বরতা ভেদে সারের পরিমাণ কিছুটা কম বেশি হতে পারে।
সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
অর্ধেক ইউরিয়া ও অন্য সব সার জমি তৈরির সময় ২য় চাষে প্রয়োগ করতে হবে৷ চারা গজানের ২৫-৩০ দিন বয়সে বাকি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।
হাত নিড়ানিঃ
বীজ বপনের ১৫-২০ দিন পর সরিষার গাছ পাতলা করে দিতে হবে যাতে সরিষার গাছ প্রতি বর্গমিটারে ৫০-৬০ টি থাকে।
পাতলা করার কৌশল: দুর্বল, রোগাক্রান্ত বা অতিরিক্ত চারা সাবধানে তুলে ফেলতে হবে, যাতে নির্বাচিত সুস্থ চারাগুলোর শিকড়ের কোনো ক্ষতি না হয়।
সেচ প্রয়োগঃ
প্রথম সেচ: বীজ বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে।
দ্বিতীয় সেচ: বীজ বপনের ৫০-৬৫ দিনের মধ্যে।
পোকাঃ
সরিষার প্রধান পোকা সমূহ..
* জাবপোকা-ইমিটাফ/গেইন/ইমপেল/টিডো /বিলডর ১ মিলি হারে দিতে হবে।
* ফ্লি বিটল পোকা- লাহিব/অটোমিডা ০.৫ মিলি হারে অথবা পাইক্লোরেক্স /ডারসবান ১.৫-২ মিলি হারে স্প্রে করতে হবে।
* কাটুই পোকা-নাইট্রো/এসিমিক্স/সেতারা/৫৫৫ ইসি যে কোন একটি ২ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করবেন।
রোগঃ
সরিষা আবাদে প্রধান রোগ সমূহ হলো:
অলটারনারিয়া ব্লাইট/পাতা ঝলসানো-- রোভরাল/রোভানন/নেক-ব্লচ ৫০ ডাব্লিউপি যে কোন একটি ছত্রাক নাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
হোয়াইট মোল্ড -- টিল্ট/প্রাউড/প্রোটেন্ট ২৫০ ইসি যে কোন একটি ছত্রাক নাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
ফসল সংগ্রহঃ
ফল পাকার সঙ্গে সঙ্গে গাছও শুকিয়ে যায়। ফলসহ গাছের গোড়ার একটু উপরে কেটে ভালভাবে রৌদে শুকিয়ে দিয়ে মাড়াই করতে হবে।
সংগৃহিত
১
১ মন্তব্য