সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:২১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
জহির রায়হান ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ও চলচ্চিত্রের এক অনন্য প্রতিভা, যিনি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মানবিক চেতনার ধারক ছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও চলচ্চিত্র আজও আমাদের জাতীয় ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।
জহির রায়হান (১৯ আগস্ট ১৯৩৫ – ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২) ছিলেন একজন বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল মানুষ—ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর জীবন ও কর্ম বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
জন্ম: ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে
শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
জহির রায়হানের সাহিত্যিক অবদান:
উপন্যাস: “শেষ বিকেলের মেয়ে” (১৯৬০), “হাজার বছর ধরে” (১৯৬৪), “আরেক ফাল্গুন” (১৯৬৬)
গল্প: “সারেং বৌ”, “বরফ গলা নদী”
প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতা: তিনি ছিলেন “প্রবাহ” পত্রিকার সম্পাদক এবং “জাগো আরেকবার” আন্দোলনের সক্রিয় মুখ
তাঁর লেখায় উঠে এসেছে:
ভাষা আন্দোলনের চেতনা
সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক সংকট
প্রেম, প্রতিবাদ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা
জহির রায়হান ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একজন পথিকৃৎ। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
| চলচ্চিত্রের নাম | বছর | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| কাচের দেয়াল | ১৯৬৩ | সমাজের শ্রেণিবিভাজন |
| জীবন থেকে নেয়া | ১৯৭০ | রাজনৈতিক প্রতীকী চিত্রায়ন |
| স্টপ জেনোসাইড | ১৯৭১ | পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতা তুলে ধরা |
“জীবন থেকে নেয়া” চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এবং এটি গণজাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭২)
একুশে পদক (১৯৭৭, মরণোত্তর)
স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯২, মরণোত্তর)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৭৫, বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা)
১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি, মুক্তিযুদ্ধকালীন নিখোঁজ সাংবাদিক শাহিদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে জহির রায়হান নিজেও নিখোঁজ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ আজও জাতির হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
জহির রায়হান ছিলেন এক কিংবদন্তি, যিনি সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর সৃষ্টি শুধু শিল্প নয়, বরং ইতিহাসের দলিল। নতুন প্রজন্মের জন্য তাঁর জীবন ও কর্ম এক অনুপ্রেরণা।
১
১ মন্তব্য