সহকারী শিক্ষক
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৫০ অপরাহ্ণ
জীবনের সেরা বন্ধু রূপা!
জীবনের সেরা বন্ধু রূপা!
১৯৯৭ সালটা এখন ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যা মাত্র। কিন্তু আমার কাছে সেটা একখণ্ড জীবনের নাম। আমি তখন সেভেনে, রূপা ফাইভে। বয়সে ছোট-বড় ছিলাম, কিন্তু হৃদয়ে সমান। কোনো ঘোষণা ছাড়াই, কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই আমাদের বন্ধুত্ব জন্ম নিয়েছিল,নীরবে, স্বাভাবিকভাবে।
হাটি হাটি পা পা করে বড় হয়েছি আমরা দুজন। পড়াশোনা, ভয়, স্বপ্ন, অভিমান,সব কিছুর মাঝখানে রূপা ছিল। সে কখনো বড় করে কথা বলেনি, কিন্তু উপস্থিতিটাই ছিল আশ্রয়ের মতো। বিপদে ওর চোখ দুটো আগে কথা বলত,“আমি আছি।”
জীবন যখন আমাকে বারবার দুর্বল করে দিয়েছে, রূপা তখন শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় কিছু না বলেই পাশে বসে থেকেছে। সেই নীরবতাই ছিল সবচেয়ে গভীর সান্ত্বনা।সবচেয়ে অবাক করা স্মৃতিটা আসে ওর বিয়ের দিনগুলো ভাবলে। বউভাত,নতুন জীবনের প্রথম উৎসব। সেদিন সবাই আনন্দে ডুবে থাকে। অথচ রূপা, নতুন বউয়ের সাজে, হাতে মেহেদি, মনভরা দায়িত্ব আর লাজুক হাসি নিয়েও আমাকে দেখতে এসেছে হাসপাতালে।
হাসপাতালের সাদা দেয়ালের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানুষটাকে দেখে আমার বুকের ভেতর কিছু একটা ভেঙে গিয়েছিল। আমি অসুস্থ, দুর্বল আর ও তখন জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনে এসেও আমাকে একা থাকতে দেয়নি। সেদিন বুঝেছিলাম, বন্ধুত্ব মানে শুধু একসাথে হাসা নয়; বন্ধুত্ব মানে নিজের আনন্দকে থামিয়ে অন্যের কষ্টের পাশে দাঁড়ানো।রূপা আমার জীবনের গল্পের একটি অধ্যায় নয়—সে পুরো বইয়ের নীরব মেরুদণ্ড। যে না থাকলে গল্পটা হয়তো দাঁড়িয়েই থাকত না।
কিছু মানুষ সময়ের সাথে হারিয়ে যায়।আর কিছু মানুষ সময়কে হার মানিয়ে দেয়।
রূপা সেই মানুষ।
১
১ মন্তব্য