Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৫০ অপরাহ্ণ

কনকনে শীত আর ধূসর সন্ধ্যা!

কনকনে শীত আর ধূসর সন্ধ্যা! 


শেষ বিকেলের সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হারিয়ে গেছে। বেশ কুয়াশা। চারিদিকে আঁধার। কাছাকাছি ও কিছু দেখার উপায় নেই। দীপ বসে আছে খেয়ার অপেক্ষায়। কনকনে শীত।  ঘাটে তবুও বেশ কজনের খেয়ার অপেক্ষা।  চায়ের দোকানে এসে বসল দীপ। এক কাপ চা দিতে বললো।  একটু পরে কালো চাদরে মোড়ানো একটা তরুণী এসেও বসল। সে ও নদী পার হবে।  নদীটা বেশ বড়। মাস্ক পরা। সে ও এক কাপ চায়ের কথা বললো।  দ্রুত চায়ে মুখ রাখল। মৃদু হাসি।মৃদু হাসিটা কুয়াশার ভেতর আরও নরম হয়ে ভেসে উঠল। চায়ের ভাপ দুজনের মাঝখানে ধোঁয়ার মতো উঠানামা করছে। দীপ একবার তাকাল, আবার চোখ নামাল,অচেনা ভিড়ে অচেনা নীরবতা। দূরে কোথাও কুকুরের ডাক, নদীর জল অন্ধকারে ভারী হয়ে শ্বাস নেয়।

খেয়াঘাটের লণ্ঠনটা দুলে উঠল। মাঝির কণ্ঠ ভেসে এলো,

“আর দুইজন! তারপর ছাড়ছি।”

তরুণী উঠে দাঁড়াল। কালো চাদরের ভাঁজে শীত জমে আছে। দীপও উঠে পড়ল। দুজনেই পাশাপাশি হাঁটল,নদীর দিকে, অচেনা অথচ অদ্ভুতভাবে পরিচিত এক পথ ধরে। নৌকায় ওঠার সময় হঠাৎ ঢেউয়ের ঝাঁকুনি,দীপ হাত বাড়াল। মুহূর্তের জন্য দু’হাত ছুঁয়ে গেল। তরুণী মাথা নুইয়ে ধন্যবাদ জানাল, চোখে কৃতজ্ঞতার ঝিলিক।

নৌকা ছাড়ল। জল কেটে এগোনোর শব্দে চারদিক আরও নিস্তব্ধ। কুয়াশার দেয়াল ভেদ করে লণ্ঠনের আলো ছোট ছোট দ্বীপের মতো জ্বলছে। মাঝি বৈঠা চালায়,ছন্দে, ধীরে। তরুণী মুখ ফিরিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। মাস্কের আড়ালেও তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা টের পায় দীপ।

হঠাৎ সে বলল, খুব নিচু স্বরে,

“শীতটা আজ বেশি, তাই না?”

দীপ হেসে মাথা নেড়ে বলল, “নদীর শীত,অন্যরকম।”

নৌকা ভিড়ল ওপারে। নামার আগে তরুণী এক মুহূর্ত থামল। চোখে চোখ পড়ল। কিছু বলা হলো না,তবু যেন অনেক কথা রয়ে গেল কুয়াশার ভেতর। সে হাঁটা ধরল অন্ধকার পথে। দীপ দাঁড়িয়ে থাকল একটু,নদীর দিকে তাকিয়ে। কুয়াশা ধীরে ধীরে সব ঢেকে নিল, শুধু মনে থেকে গেল এক কাপ চা, এক মৃদু হাসি, আর শীতের ভেতর হালকা উষ্ণতার স্পর্শ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ