সহকারী শিক্ষক
২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১৪ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
রাজিয়া খান: সাহিত্যের দীপ্ত নারী, চিন্তার সাহসী কণ্ঠস্বর
বাংলা সাহিত্যজগতে রাজিয়া খান ছিলেন এক অনন্য প্রতিভা—যিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং নাট্যশিল্পী। তাঁর সাহিত্যিক জীবন, ব্যক্তিত্ব এবং সমাজচিন্তা তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শক্তিশালী নারী লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জন্ম: ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬, রাজবাড়ি জেলা, বাংলাদেশ।
পিতা: তমিজউদ্দিন খান—অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী, আইনসভার সদস্য এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার।
মাতা: রাবেয়া রাহাত খান।
শিক্ষা: কলকাতা ও করাচিতে স্কুল-কলেজ জীবন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও এম.এ। পরে ব্রিটিশ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা।
রাজিয়া খানের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় কৈশোরেই। তাঁর লেখায় নারীর আত্মপ্রকাশ, সমাজের দ্বন্দ্ব, প্রেম, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে গভীরভাবে।
উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
বটতলার উপন্যাস
দ্রৌপদী
ডিফারেন্ট স্প্রিং
কালের পরীক্ষা ও আমার জীবনের দিনগুলি
শৈলী: তাঁর লেখায় রয়েছে মননশীলতা, ব্যঙ্গ, নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভাষার সৌন্দর্য। তিনি সাহিত্যে নারীর অভিজ্ঞতা ও আত্মপরিচয়কে তুলে ধরেছেন সাহসিকতার সঙ্গে।
পত্রিকা: ইংল্যান্ড থেকে ফিরে The Observer পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে যোগ দেন। সেখানে তিনি “কালচার কেটল” নামে ব্যঙ্গাত্মক কলাম লিখতেন।
নাট্যচর্চা: লেখালেখির পাশাপাশি তিনি মঞ্চে অভিনয়ও করেছেন, যা তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভার পরিচয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু।
পরে সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন।
| পুরস্কার | বছর |
|---|---|
| বাংলা একাডেমি পুরস্কার | অজানা |
| একুশে পদক | অজানা |
মৃত্যু: ২৮ ডিসেম্বর ২০১১, ঢাকায়। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য হারায় এক দীপ্ত কণ্ঠস্বর।
রাজিয়া খান ছিলেন নারীর আত্মপ্রকাশের সাহসী লেখক। তাঁর সাহিত্য শুধু নারীর কথা বলে না, বলে সমাজের, সময়ের, এবং মানুষের কথা। তিনি ছিলেন এমন একজন লেখক, যিনি ভাষাকে ব্যবহার করেছেন চিন্তার অস্ত্র হিসেবে।
উপসংহার: রাজিয়া খান ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক দীপ্ত নক্ষত্র, যাঁর লেখনী আজও পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাঁর সাহিত্য আমাদের শেখায়—নারী শুধু পাঠক নয়, লেখকও হতে পারে, চিন্তাশীলও হতে পারে, সমাজের পরিবর্তনের কণ্ঠস্বরও হতে পারে।
১৫
২৫ মন্তব্য