Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

সদালাপ - মোঃ মুজিবুর রহমান


সদালাপ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

কঠিন কথা নরম করে বলাই সদালাপ,

রাগের আগুন নিভিয়ে দেয় মধুর আলাপ।

চোখের ভাষা, মুখের হাসি, হৃদয়ের সুর,

ভাঙা দেয়াল গড়ে তোলে বিশ্বাসের নূর।

কটু বাক্যে বাড়ে দূরত্ব, জমে ভুল–অভিমান,

সদালাপে মুছে যায় সব অন্ধকারের টান।

একটু ধৈর্য, একটু শোনো, একটু সহানুভূতি,

তাতেই ফিরে আসে জীবনে শান্তির অনুতি।

স্বামী–স্ত্রীর, বন্ধু–ভাইয়ের, পিতা–সন্তান,

সদালাপেই দৃঢ় হয় সম্পর্কের বন্ধন।

কথা নয় শুধু শব্দের খেলায় বাঁধা সূত্র,

এ হৃদয় থেকে হৃদয়ে পৌঁছানোর পবিত্র সেতু।

যেখানে সদালাপ আছে, সেখানে শান্তি বাস,

ভুল বোঝাবুঝি হার মানে, জিতে যায় বিশ্বাস।

মানুষ হওয়া শেখায় যে নীরব শিক্ষাপাঠ,

সদালাপই জীবন গড়ার শ্রেষ্ঠ আলোক–পথ।

****

সদালাপ

কটু কথাতে বাড়ে দ্বন্দ্ব, বাড়ে শুধু গ্লানি,

মধুর বাণীতে মুছে যায় দুঃখের নিশানি।

রাগের ভাষা আগুন জ্বালে, ভস্ম করে প্রাণ,

সদালাপে শান্ত হয় সব, ফেরে স্নিগ্ধ টান।

শোনার আগে বলো না কথা, ভাবো শব্দের ভার,

একটি বাক্য গড়তে পারে ভাঙা সংসার।

নম্র কণ্ঠে সত্য বলা—সদালাপের ধর্ম,

তাতেই রক্ষা পায় সম্পর্ক, পায় বিশ্বাসের মর্ম।

স্বামী–স্ত্রীর মতের ভেদ, পিতা–সন্তান রোষ,

সদালাপেই মেটে সব দুঃখ, নাশ হয় কোষ।

কঠোর বাক্য দেয় যে আঘাত, সারাতে লাগে কাল,

নরম কথা মুহূর্তে দেয় হৃদয়ের সমাধান।

সভ্যতারই প্রথম পাঠ—ভাষার সংযম বোধ,

কথার মধ্যে চরিত্রের প্রকাশ ঘটে শোধ।

যে জানে কথা মেপে বলতে, সে-ই প্রকৃত মহান,

সদালাপেই প্রকাশ পায় মানুষের পরিচয়–জ্ঞান।

তাই তো বলি, জীবনের পথ যতই হোক ঘোর,

সদালাপকে করো সাথী—হবে যাত্রা ভোর।

ভদ্র ভাষা, সত্য বাণী, সংযমী ব্যবহার,

এই তিনেই গড়ে ওঠে আদর্শ পরিবার।

***

শব্দই মানুষ, শব্দেই পরিচয়,

শব্দেই গড়ে ভাঙে সংসার–সমাজ।

একটি বাক্য আলো জ্বালে হৃদয়–গহনে,

আরেকটি বাক্য ডোবায় যুগের ইতিহাস।

এই শব্দের রাজ্যে যে রাখে সংযমের লাগাম,

তার নামই লেখা থাকে সদালাপের কাব্যে।

আদি কালে মানুষ জাগল বাক্যের আলোয়,

নাম দিলো বস্তু, চিনল আপন জন।

কণ্ঠে কণ্ঠে জন্ম নিলো সভ্যতার বীজ,

ভাষার ধারায় গড়ে উঠল মানব–মন।

কিন্তু হায়! শব্দ যখন হারাল তার শাসন,

কটু বাণীতে জমল দ্বন্দ্ব–অভিমান।

একটি কঠিন কথা ভেঙে দিল সেতু,

যে সেতু বেয়ে চলত হৃদয়ের যান।

তখনই জন্ম নিল নীরব এক সাধনা,

নাম তার সদালাপ—নম্র ভাষার পথ।

রাগকে বেঁধে রাখে ধৈর্যের শিকলে,

সত্যকে বলে বিনয়ের সঙ্গে অবিচল সত্য।

এ ভাষা চিৎকার করে না,

এ ভাষা আঘাত হানে না বুকে,

এ ভাষা শোনে আগে, বোঝে গভীরে,

তারপর বলে প্রয়োজনীয়টুকু।

স্বামী–স্ত্রীর মাঝে জমে যখন মেঘ,

অভিমান নামে চোখের পাতায়।

কটু কথা দিলে নামে ঝড়,

ঘর ভরে ওঠে নীরব কান্নায়।

সদালাপ তখন দীপশিখা হয়ে জ্বলে,

“চলো, বসি, কথা বলি”—এই মন্ত্রে।

একটু শোনা, একটু মানা,

ফিরে আসে ভাঙা বিশ্বাস অন্তরে।

শাসক–শাসিত, শিক্ষক–শিক্ষার্থী,

পিতা–সন্তান, বন্ধু–ভাই—

যেখানে ভাষা হয় সংযত ও সত্য,

সেখানেই টেকে সমাজের ছায়া।

কঠোর আদেশ জন্ম দেয় বিদ্রোহ,

কটু উপদেশ আনে অবাধ্যতা।

সদালাপ গড়ে শৃঙ্খলার ভিত,

ভয়ের নয়—ভালোবাসার কর্তৃত্বতা।

মানুষ চেনা যায় তার কথার ভঙ্গিতে,

রাগে নয়—সংযমে প্রকাশ চরিত্র।

যে পারে অপমানেও ভদ্র থাকতে,

তার হৃদয়ই শক্ত, তার মনই পবিত্র।

বাক্যের লাগাম যার নিজের হাতে,

সে-ই প্রকৃত বীর এই পৃথিবীতে।

তলোয়ার নয়, জিহ্বার সংযমে

সে জয় করে মানুষের হৃদয়–রাষ্ট্রকে।

শিক্ষালয়ে প্রথম শেখাও এই পাঠ,

অক্ষরের আগে নৈতিকতা।

কী বলব নয়, কীভাবে বলব—

এই জ্ঞানই গড়ে পূর্ণ মানবতা।

কারণ বিদ্যা যদি হয় কটু ভাষায়,

সে বিদ্যা অন্ধকার বাড়ায়।

আর সদালাপে ভরা সামান্য জ্ঞানও

আলো হয়ে যুগ যুগ আলোকিত করায়।

হে মানব, যদি চাও শান্ত সমাজ,

সুখের সংসার, স্থায়ী সম্মান—

তবে সদালাপকে করো জীবননীতি,

সংযত বাক্য হোক তোমার পরিচয়–জ্ঞান।

শব্দকে বানাও ইবাদতসম,

ভাষাকে দাও চরিত্রের ছাপ।

এই পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকবে

যে হৃদয়ে জাগ্রত থাকে সদালাপ

***

আদি প্রভাতে মানুষ জাগে বাক্যে,

নাম পায় বস্তু, আত্মীয়তা চাক্ষুষে।

কণ্ঠে কণ্ঠে সভ্যতার বীজ,

ভাষার স্রোতে মানব–নিজ।

কিন্তু যখন শব্দ হারায় শাসন,

কটু বাণীতে বাড়ে দ্বন্দ্ব–আসন।

একটি কঠিন, অসংযত কথা,

ভেঙে দেয় হৃদয়–সেতুর ব্যথা।

তখনই জাগে নীরব সাধনা,

নাম তার সদালাপ—ভাষার সাধনা।

রাগকে বাঁধে ধৈর্যের শৃঙ্খলে,

সত্য বলে বিনয়–উজ্জ্বল কণ্ঠে।

এ ভাষা চিৎকার জানে না,

আঘাতের পথে হাঁটে না।

আগে শোনে, পরে বলে,

গভীর বোঝায় সত্য ঢালে।

স্বামী–স্ত্রীর মাঝে জমে মেঘ,

অভিমান নামে চোখের স্রোত–রেখ।

কটু কথায় ঝড়ের ডাক,

ঘর ভরে ওঠে নীরব হাহাকার।

সদালাপ তখন দীপ–শিখা,

“চলো, বসি”—এই বাণী–শিখা।

শোনা–মানার ক্ষুদ্র সাধন,

ফেরায় বিশ্বাস, ফেরায় বন্ধন।

শাসক–শাসিত, গুরু–শিষ্য,

পিতা–সন্তান, বন্ধু–বিশ্বাস্য—

যেথা ভাষা সংযত ও শুদ্ধ,

সেথাই সমাজ হয় স্থির ও দৃঢ়।

কঠোর আদেশ ডাকে বিদ্রোহ,

কটু উপদেশ বাড়ায় সংশয়।

সদালাপ গড়ে শাসনের ভিত,

ভয়ের নয়—ভালোবাসার নীতি।

মানুষ চেনা যায় কথার ভঙ্গি,

রাগ নয়—সংযমই চরিত্র–রঙি।

অপমানে যে থাকে সভ্য,

তার হৃদয় বলবান, মন ধৈর্য।

বাক্যের লাগাম যার করায়ত্ত,

সে-ই বীর—অদম্য, সংযত।

তলোয়ার নয়, জিহ্বার বল,

জয় করে হৃদয়–রাষ্ট্র সকল।

শিক্ষার প্রথম নীতি এই,

অক্ষরের আগে নৈতিকতা চাই।

কী বলব নয়, কেমন করে,

এই জ্ঞানই মানুষ গড়ে ভরে।

কটু ভাষার বিদ্যা আঁধার,

আলো নিভে যায়, বাড়ে বিভ্রান্তি ভার।

সদালাপে ভরা অল্প জ্ঞান,

যুগ যুগ আলো—মানব কল্যাণ।

হে মানব, যদি চাও শান্ত সমাজ,

সুখী সংসার, স্থায়ী মর্যাদাবাজ—

সদালাপ করো জীবন–নীতি,

সংযত বাক্য হোক পরিচয়–কৃতি।

শব্দ করো ইবাদত–সম,

ভাষায় দাও চরিত্র–ধর্ম।

এই ধরায় অমর সে-ই নাম,

যার হৃদয়ে জাগে সদালাপ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ