Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:০০ অপরাহ্ণ

সদালাপ (পরিবারে ও সমাজে) - মোঃ মুজিবুর রহমান

 

সদালাপ (পরিবারে ও সমাজে)

 

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

কথাই মানুষ, কথাই পরিচয়,

কথাতেই গড়ে ভাঙে হৃদয়–সম্বয়।

একটি মধুর বাক্য হাসায় সংসার,

আরেকটি তীক্ষ্ণ বাক্য জ্বালায় আগুন–আঁধার।

ঘরে ঘরে যদি সদালাপ বাজে,

মায়ের কণ্ঠে, বাবার ভাষায়, ভাইয়ের সাঝে—

রাগের জায়গায় যদি আসে ধৈর্য–বাণী,

শান্তির নদী বইবে ঘরে, মুছবে সব গ্লানি।

স্বামী–স্ত্রীর কথায় থাকুক সম্মান,

শিশুর কানে পড়ুক ভালোবাসার গান।

শাসন হোক নরম, ভাষা হোক স্নিগ্ধ,

তাতেই গড়ে ওঠে চরিত্র দৃঢ় ও বিশুদ্ধ।

সমাজে সদালাপ এক মহামূল্য রত্ন,

ভাষার শালীনতায় হয় মানুষ পরিপক্ব।

কটু কথা ভাঙে সেতু, তোলে দেয়াল,

মধুর বাক্য গড়ে দেয় মানবতার জাল।

কে বড়, কে ছোট—ভুলে গিয়ে সবাই,

ভাষায় রাখি মানবিকতার পরিচয় পাই।

সদালাপই শেখায় সহনশীল পথ,

তাতেই জাগে সমাজে শান্তির সত্য।

চলো আমরা শপথ করি আজকের প্রহরে—

কথা হবে পবিত্র, মধুর, সংযমে ভরে।

পরিবার থেকে সমাজ, ছড়াক সেই আলো,

সদালাপেই সুন্দর হোক জীবন–ভালো।

****

কথাই গড়ে মানুষ নাম, কথাই দেয় মান,

কথার ভারে শান্তি আসে, ভাঙে অভিমান।

মধুর ভাষা হৃদয় জোড়ে, বাড়ায় বন্ধন-সূত্র,

কটু বাক্য ছিন্ন করে সব, জ্বালায় ঘর-সূত্র।

ঘরে যদি সদালাপ থাকে, থাকে যদি লাজ,

মা-বাবার কণ্ঠে ঝরে তবে আদর্শের সাজ।

ভাইয়ের ভাষা স্নিগ্ধ হলে, বোনের চোখে আলো,

সংসার তখন স্বর্গসম, জীবন হয় ভালো।

স্বামী-স্ত্রীর কথার মাঝে থাকুক সংযম-বোধ,

রাগের আগুন নিভে যায় ভাষার নরম শোধ।

শাসন হবে স্নেহমাখা, বাণী হবে সোজা,

তাতেই গড়ে চরিত্র সব, ভাঙে না সে খোঁজা।

সমাজ জুড়ে সদালাপ এক শক্ত ভিত্তি-তল,

ভাষার শুদ্ধ ব্যবহারে জাগে মানব-ফল।

কটু কথা দেয় বিভেদ, তোলে অমানিশা,

মধুর বাক্য জাগায় আলো, ভাঙে সবই দিশা।

বড়-ছোটের ভেদ ভুলে, কথা হোক শালীন,

ভাষায় প্রকাশ পাক যেন মানবিক ঋণ।

সদালাপেই শান্ত সমাজ, সুস্থ মানবগোষ্ঠী,

ভাষার সংযমেই গড়ে সভ্যতার দৃষ্টি।

চলো আমরা গ্রহণ করি এ মহৎ বিধান,

কথা হবে সত্য-মধুর, পরিমিত-প্রমাণ।

পরিবার থেকে সমাজে ছড়াক সেই গান—

সদালাপেই সুন্দর হোক মানুষের পরিচয়-স্থান।

 ****

শব্দেই শুরু মানুষ, শব্দেই শেষ পরিচয়,

শব্দে জাগে সভ্যতা, শব্দেই হয় ক্ষয়।

একটি বাক্য আলো জ্বালে নিভৃত হৃদয়তলে,

আরেকটি বাক্য ঝড় তোলে সমাজের অচলে।

যে জাতি ভাষা জানে সংযমে বেঁধে রাখতে,

তার ইতিহাস লেখা থাকে শান্তির স্বাক্ষাতে।

ঘরই প্রথম পাঠশালা, ভাষার প্রথম গান,

মায়ের কণ্ঠে শিশু শেখে জীবনের বিধান।

বাবার কথায় দৃঢ়তা, শালীনতার পাঠ,

ভাই-বোনের আলাপে গড়ে সহমর্মী হাত।

একটি কোমল সম্বোধন মুছে দেয় ক্লান্তি,

একটি রুক্ষ উচ্চারণ ভাঙে ঘরের শান্তি।

রাগের ভাষা আগুন হয়ে জ্বালায় আপনজন,

সদালাপে নেমে আসে প্রশান্তির কিরণ।

সংসার টেকে না ধনে, টেকে না ঐশ্বর্যে,

সংসার টেকে ভাষাতে, সংযমের ঐশ্বর্যে।

যেথা কথায় সম্মান আছে, তেথা ঈমান জাগে,

ভাষার সৌন্দর্যেই ঘর স্বর্গের রূপ লাগে।

স্বামী–স্ত্রীর কথার মাঝে যদি থাকে বিষ,

ভালোবাসার বাগানে নামে অবিশ্বাসের শিশ।

একটি কঠিন বাক্য ভাঙে বহু দিনের সেতু,

একটি নরম উচ্চারণ জোড়ে জীবনের হেতু।

রাগ নয়, ভাষাই হোক সমস্যার সমাধান,

চিৎকার নয়, সদালাপ আনুক শান্তি-দান।

যে দাম্পত্য ভাষায় রাখে সংযমের সীমা,

তার জীবনে ঝড় এলেও হারায় না সে ভীমা।

শিশুর চোখে কথা পড়ে আয়নার মতো স্পষ্ট,

তোমার ভাষাই গড়ে দেবে ভবিষ্যৎ তার দৃষ্ট।

যদি সে শোনে কটু কথা, শিখবে কটু চলন,

যদি শোনে মধুর বাণী, গড়বে সোনার মন।

শাসন হোক দায়িত্বশীল, ভাষা হোক নির্মল,

ভাষার আঘাত শিশুমনে করে গভীর ক্ষতচিহ্ন-ফল।

সদালাপে মানুষ হয়, অবদমনে নয়,

ভাষার মাধ্যমেই গড়ে চরিত্রের পরিচয়।

সমাজ এক বিশাল মঞ্চ, ভাষাই তার রূপ,

একটি কটু স্লোগানে ভাঙে সহাবস্থার ধূপ।

বাজারে, পথে, সভায়, অফিসের দরবারে,

ভাষার শালীনতাই মানুষ চেনে আচারে।

কটু কথা জন্ম দেয় হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ,

সদালাপ গড়ে সেতু, ভাঙে ঘৃণার বেদ।

যে সমাজ ভাষায় রাখে ন্যায় আর শিষ্টতা,

তার মাঝেই জন্ম নেয় সভ্যতার শ্রেষ্ঠতা।

 ****

জাতির ভবিষ্যৎ লেখা হয় কথার কলমে,

নেতার ভাষা দিক নির্ধারণ করে জনমনে।

যদি ভাষা হয় উত্তেজক, জাগে অস্থির ঢেউ,

যদি ভাষা হয় সদালাপ, শান্তি পায় বহু কেউ।

সংলাপেই সমাধান, সংঘাতে নয় কখনো,

সদালাপই শেখায় জাতিকে মানুষ হতে নতুন করে নো।

চলো আমরা শপথ করি ভাষার এই তীরে—

কথা হবে সত্য, মধুর, সংযমে ঘেরা ঘিরে।

ঘর থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র,

সদালাপেই গড়ে উঠুক মানবতার মহাকাশ।

যে মানুষ ভাষা শুদ্ধ রাখে, হৃদয় রাখে পবিত্র,

তার জীবনই হয়ে ওঠে মহাকাব্যের চরিত্র।

শব্দে শব্দে লিখি আমরা শান্তির ইতিহাস—

সদালাপই হোক আমাদের শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার ও প্রকাশ।

 ***

শব্দেই জন্ম নেয় মানুষ, শব্দেই তার ছায়া,

শব্দের আলোয় দেখে সে জীবন–মৃত্যুর মায়া।

নীরব পাথর মানুষ হলো ভাষার স্পর্শ পেয়ে,

গুহার অন্ধকার ছিন্ন করে আলোতে উঠেছে বেয়ে।

একটি শব্দ গড়ে দেয় জাতি, সভ্যতার রথ,

আরেকটি শব্দ ভেঙে দেয় সহস্র বছরের পথ।

তাই ভাষা শুধু ধ্বনি নয়, ভাষা এক মহাশক্তি,

সংযমে বাঁধা ভাষাতেই জন্ম নেয় প্রকৃত ভক্তি।

ঘরই প্রথম বিদ্যালয়, ভাষার প্রথম পাঠ,

মায়ের মুখে শোনা শব্দেই গড়ে জীবনের ভাট।

মায়ের “বাবা”, “মা” ডাকে শিশুর প্রথম গান,

সেই সুরে বাঁধা পড়ে ভবিষ্যতের প্রাণ।

বাবার কথায় দায়িত্ব, ন্যায়ের দৃঢ়তা,

ভাষার শালীন রেখায় শেখে সে সততা।

ভাইয়ের ডাকে সহমর্ম, বোনের কথায় স্নেহ,

সদালাপেই গড়ে ওঠে মানবিক বেহেশত-রেহ।

ঘরে যদি ভাষা হয় রুক্ষ, কণ্ঠ যদি হয় কঠিন,

তবে ভালোবাসা শুকায়, হৃদয় হয় নিঃসঙ্গ-নিঃশীন।

কিন্তু যদি কথায় থাকে ধৈর্য আর লাজ,

তবে অভাবের ঘরেও নামে জান্নাতের সাজ।

রাগ এক আগ্নেয় পাহাড়, ভাষাই তার দ্বার,

খুলে দিলে আগুন ঝরে, পুড়ে যায় সংসার।

একটি কটু বাক্য পারে ভাঙতে বহু দিন,

যা হাজার ক্ষমাও পারে না জোড়া দিতে পুনরায় বিন।

কিন্তু সংযম সে বীর, নীরবতার সৈনিক,

ভাষার লাগাম ধরে সে জয় করে অগ্নি-দৈনিক।

যে রাগের মুহূর্তে নীরব হতে জানে,

সে-ই প্রকৃত বিজয়ী—জীবনের ময়দানে।

স্বামী–স্ত্রী দুই তীর, ভাষা তাদের সেতু,

একটি শব্দেই গড়ে ওঠে বা ভাঙে সে হেতু।

ভালোবাসা টিকে না শুধু আবেগের জোরে,

টিকে ভাষার সৌজন্যে, সম্মানের ভোরে।

চিৎকারে নয় সমাধান, তর্কে নয় শান্তি,

সদালাপেই মুছে যায় মান-অভিমানের গ্লানি।

যে ঘরে ভাষা নরম, হৃদয় সেখানে দৃঢ়,

ঝড় এলেও ভাঙে না সে দাম্পত্যের নীড়।

শিশু এক খোলা পুস্তক, ভাষা তার কালি,

যা লেখা হবে শৈশবে, মুছবে না সে জ্বালি।

তুমি যখন কটু বলো, সে শেখে কটু পথ,

তুমি যখন মধুর বলো, সে পায় মানবিক শপথ।

শাসন যদি হয় অপমান, ভাষা যদি হয় কষাঘাত,

তবে সে শিখে নেয় ভীতি, হারায় আত্মবিশ্বাস-প্রভাত।

কিন্তু সদালাপে শাসন, যুক্তিতে দিকনির্দেশ,

তাতেই গড়ে চরিত্র, নৈতিকতার দেশ।

সমাজ এক বৃহৎ ঘর, আমরা সবাই আত্মীয়,

ভাষাই আমাদের সম্পর্কের দৃশ্যমান সেতু-প্রতীয়।

পথে, বাজারে, কর্মস্থলে, সভা ও আদালতে,

ভাষার শালীনতাই মানুষ চেনে আচরণ-পাতে।

একটি কটু মন্তব্য জন্ম দেয় সহস্র শত্রু,

একটি সদালাপ বানায় অচেনাকে বন্ধু।

ঘৃণার ভাষা ছড়ায় অন্ধকার, বিভেদের রাত,

সদালাপ জ্বালে প্রদীপ, দেখায় সহাবস্থার পথ।

মতভেদ প্রকৃতির নিয়ম, একত্বের শত্রু নয়,

ভাষা কটু হলেই কেবল জন্ম নেয় ভয়।

সংলাপ জানে যে জাতি, সে জাতি অমর,

তর্ক নয়, কথা দিয়েই সে খোঁজে সমাধান-দ্বার।

চিৎকারে হারায় যুক্তি, গালিতে মরে ন্যায়,

সদালাপে জাগে সত্য, প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যায়।

নেতার ভাষা জাতির আয়না, ভবিষ্যতের দিশা,

একটি উত্তপ্ত ভাষণ ডেকে আনে অমানিশা।

আবার একটি সংযত বাণী, দায়িত্বে ভরা,

শান্ত করে উত্তাল জনতা, দেয় আশার জোয়ারা।

রাষ্ট্র টেকে না অস্ত্রে, টেকে না ভয়ে,

টেকে সদালাপে, ন্যায়ের কথায়।

ধর্মের মূল শিক্ষা ভাষায় সংযম,

কটু বাক্যে নেই তাকওয়া, নেই মানবিক ধর্ম।

যে জিহ্বা সংযত রাখে, হৃদয় রাখে পবিত্র,

সে-ই প্রকৃত ধার্মিক, সে-ই শ্রেষ্ঠ চরিত্র।

চলো আমরা শপথ করি শব্দের এই পথে—

ভাষা হবে সত্য, নরম, সংযমে বাঁধা মতে।

ঘর থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র,

সদালাপেই গড়ে উঠুক মানবতার মহাকাশ।

যে জাতি ভাষা শুদ্ধ রাখে, সে জাতি অজেয়,

তার ইতিহাস রচিত হয় শান্তির মহাকাব্যে অমেয়।

শব্দে শব্দে লিখি আমরা আলোর ইতিহাস—

সদালাপই হোক মানুষের চূড়ান্ত পরিচয় ও উত্তরাধিকার।

মন্তব্য করুন