সহকারী শিক্ষক
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:১৩ অপরাহ্ণ
সময় সবচেয়ে বড় শিক্ষক
ঘড়িতে ছয়টা বাজতেই ঘুম ভাঙল। অ্যালার্ম বন্ধ করলাম, দিনের শুরুটাও যেন দায়িত্বের মতো। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম গ্রামের পথে। শরীরের ভেতর তখনো রাতের শীত জমে আছে। আজকের ঠান্ডা গতকালের চেয়েও তীক্ষ্ণ,এ কথা বুঝতে বেশি সময় লাগল না।
ইজি বাইকে উঠে খুলনা ভার্সিটির সামনে এসে দাঁড়ালাম। চালকের কণ্ঠে একটা সাধারণ বাক্য,
“আজ ঠান্ডা বেশিই।”
কিন্তু সেই কথার ওজন তখন আমার শরীরই ভালোভাবে বুঝছিল।
গন্তব্য পানখালি। সামনে সিটে বসেছি—তবু শীতের সামনে কোনো আসনই নিরাপদ নয়। বাতাস শরীর ভেদ করে ঢুকছিল, যেন আমাকে নয়—আমার ধৈর্যকে পরীক্ষা করছে। বাম পাশের সিটে বসে বুঝলাম, জীবনে অনেক কষ্টই আসে এমন জায়গা থেকে, যেটা আমরা বেছে নিইনি।
সময় গড়াচ্ছে, আর শীত বাড়ছে। মনে হচ্ছিল,শুধু শরীর নয়, মনও জমে যাচ্ছে। মনে প্রশ্ন জাগল,
এই কাঁপুনি কি কখনো থামবে?
নাকি এভাবেই চলতে থাকবে?
ঘড়ির কাঁটা যখন প্রায় এগারো ছুঁল, তখন সূর্যটা অবশেষে নিজের অস্তিত্ব জানান দিল। ধীরে ধীরে শীত সরে যেতে লাগল। আমি মোটা কাপড় খুলে ফেললাম। একটু আগেও যা বাঁচার আশ্রয় ছিল, তা এখন অপ্রয়োজনীয়।
ঠিক তখনই বুঝলাম,জীবনের অনেক দুঃখ-কষ্ট আসলে স্থায়ী নয়।
আমরা যাকে অসহনীয় ভাবি, সময়ই একদিন তাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তোলে।
শীত যেমন সময়ের কাছে হার মেনে যায়,তেমনি মানুষের জীবনেও অনেক অন্ধকার শুধু অপেক্ষা চায়।
সব সমস্যার সমাধান লড়াই নয়—কিছু সমাধান শুধু সময়।
১৫
২৫ মন্তব্য