সহকারী শিক্ষক
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন বাংলাদেশের নাট্যচর্চার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র—নাট্যকার, অভিনেতা, পরিচালক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান অনন্য।
বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলন, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রভাব এতটাই গভীর যে তাঁকে ছাড়া আধুনিক নাট্যচর্চার ইতিহাস অসম্পূর্ণ। তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
জন্ম: ১৩ জুলাই ১৯৪২, জামালপুর, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু: ২১ আগস্ট ২০০৮, ঢাকা
শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ (১৯৬৪)
পেশা: বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে কর্মজীবন শুরু, পরে নাট্যকার, পরিচালক, অভিনেতা
আবদুল্লাহ আল মামুনের নাট্যজীবন শুরু হয় মুনীর চৌধুরী ও নুরুল মোমেনের প্রভাবে। তাঁর নাটকে উঠে এসেছে—
সমসাময়িক পারিবারিক ও সামাজিক সংকট
মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দ্বন্দ্ব
বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনের প্রতিচ্ছবি
উল্লেখযোগ্য নাটক:
| নাটকের নাম | বিষয়বস্তু |
|---|---|
| তুই রাজাকার | মুক্তিযুদ্ধ ও বিশ্বাসঘাতকতা |
| কড়ি দিয়ে কিনো | সামাজিক মূল্যবোধ |
| স্পর্ধা | আত্মমর্যাদা ও সংগ্রাম |
| জীবনছবি | পারিবারিক দ্বন্দ্ব |
চলচ্চিত্র পরিচালনা: একহনি সময়, দুই জীবন—দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন
টেলিভিশন নাটক: বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্বর্ণযুগে তাঁর নাটকগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায়
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার: ১৯৭৮
একুশে পদক: ২০০০
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা পরিচালক বিভাগে দুইবার
আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন বাংলাদেশের নাট্যচর্চার পথিকৃৎ, যিনি নাটককে শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর নাটক ও চলচ্চিত্রে মানবিকতা, প্রতিবাদ ও সংস্কৃতির সম্মিলন দেখা যায়।
তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—সাহিত্য ও নাটক শুধু শিল্প নয়, বরং সমাজের আয়না।
১
১ মন্তব্য