মুদ্রা প্রচলনের ইতিহাস >>বিনিময় প্রথার<< পর ধাতব মুদ্রার ব্যবহার শুরু হয়, যা লিডিয়াতে (খ্রিস্টপূর্ব ৭০০) প্রথম প্রচলন হয় এবং পরে পারস্যে (খ্রিস্টপূর্ব ৫৪৬) < সাইরাস দ্য গ্রেট<< প্রচলন করেন, যা ছিল মূলত ধাতু কেটে তৈরি করা মুদ্রা। বাংলায় < প্রাচীন<< আমল থেকেই মুদ্রার ব্যবহার ছিল (যেমন: মহাস্থানগড়ের 'গণ্ডক'), যা পরে সুলতানি ও মুঘল আমলে 'টাকা' বা 'টঙ্কা' নামে পরিচিত হয় এবং আকবরের সময়ে মুদ্রায় ফার্সি ও ইলাহি প্রচলন হয়, যা আজকের বাংলাদেশী টাকার < পূর্বসূরি<<।
বিশ্বে মুদ্রার প্রচলন:
- প্রারম্ভিক: বিনিময় প্রথা<< (Barter System) ছিল, যেখানে সরাসরি পণ্যের আদান-প্রদান হত, যা অদক্ষ ছিল।
- ধাতব মুদ্রা: খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দের দিকে লিডিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) প্রথম ধাতব মুদ্রা চালু হয়, যা সহজলভ্য ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য ধাতু দিয়ে তৈরি হতো।
- প্রথম প্রচলনকারী: লিডিয়ার রাজা ক্রোয়েসাস (Croesus) ইতিহাসে প্রথম পরিচিত মুদ্রা প্রচলনকারী, যা পরে পারস্য সাম্রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলায় মুদ্রার ইতিহাস:
- প্রাচীন যুগ: প্রাচীন বাংলায় মহাস্থানগড়<< থেকে প্রাপ্ত 'গণ্ডক' নামক মুদ্রার প্রচলন ছিল, যা উচ্চতর অর্থনীতি<< ও বাণিজ্যিক প্রমাণের < দৃষ্টান্ত<<।
- সালতানাত ও মুঘল যুগ: এই সময়ে 'টাকা' বা 'টঙ্কা'র ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং টাকশালগুলো থেকে বিভিন্ন ভাষায় (সংস্কৃত, আরবি, ফার্সি) মুদ্রা তৈরি হতো।
- আকবরের সময়: ১৫৮৫ সালের পর মুঘল সম্রাট আকবর মুদ্রায় আরবি কলমার বদলে 'আল্লাহু আকবার' এবং 'ইলাহি' শব্দ খোদাই করেন এবং ফার্সি লেখার প্রচলন করেন, যা 'দিন-ই-ইলাহি' মতবাদ প্রচারের < লক্ষ্যে<< ছিল।
বাংলাদেশে (স্বাধীনতার পর):
- প্রথম প্রচলন: ১৯৭১ সালে স্বাধীন<< হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথম 'টাকা' ও 'পয়সা'র প্রচলন শুরু হয়।
- ধাতব মুদ্রা: ১৯৭৩ সাল থেকে ৫, ১০, ২৫, ৫০ পয়সা এবং পরে ১ ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা চালু হয়, যা বর্তমানেও প্রচলিত আছে।
১৫
২৫ মন্তব্য