Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

সদ্ব্যবহার - মোঃ মুজিবুর রহমান


সদ্ব্যবহার

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

মধুর ভাষায় জিতে যায় মন,

কঠোর কথায় ভাঙে যে জন।

একটুখানি হাসি মুখে,

বড় সুখ আনে জীবন-বুকে।

সদ্ব্যবহার অলংকার নয়,

এ যে মানুষের আসল পরিচয়।

ধনে নয়, বলে নয় বড়—

ভদ্র আচরণেই মানুষ শ্রেষ্ঠতর।

কঠিন ক্ষণে নরম বাণী

শান্ত করে ক্ষুব্ধ প্রাণী।

আগুন নেভায় জলের মতো,

মন জুড়ায় কথা মধুর যত।

পিতা-মাতা, ছোট-বড়,

সবাইকে মানো সমান করে।

সম্মানের ভাষা, দয়ার চোখ—

এতেই গড়ে মানব-লোক।

আজ যে হাসে সদ্ভাবে,

কাল সে জ্বলে ইতিহাসে।

সদ্ব্যবহার—মানুষের দীপ,

আঁধার ভেদে জ্বালে প্রদীপ।

 ****

সদ্ব্যবহার

ভাষার শাসনে মানুষ চেনা,

কথার ভঙ্গিতে চরিত্র বোনা।

মধুর বাণী হৃদয় জিতে,

রূঢ় উচ্চারণ সম্পর্ক ছিঁটে।

সদ্ব্যবহার মানব-চিহ্ন,

এতেই গড়ে চরিত্র-নিখুঁত বিন্যাস।

ধন-যশ নয়, রূপ নয় বড়,

ভদ্র আচরণেই মানুষ অমর।

নরম কথা শক্ত মন ভাঙে,

রাগের আগুন শান্তি আনে।

একটি হাসি, একটি বাক্য,

রচনা করে সৌহার্দ্য-পথ্য।

ছোটে স্নেহ, বড়ে সম্মান,

এই তো ভদ্রতার বিধান।

অধিকারে নয়, আচরণে,

মানুষ বড় হয় মানবতাতে।

যে মুখে থাকে সংযম-শোভা,

তার জীবন হয় আলোক-দীপ্ত সভা।

সদ্ব্যবহার—নৈতিক দীপ,

সমাজ-আঁধারে জ্বলে প্রদীপ।

 ****

সদ্ব্যবহার

শব্দেই জন্ম নিল সমাজের রূপরেখা,

শব্দেই রচিত হলো মানবতার রেখা।

একটি বাক্য গড়ে সভ্যতার সিংহাসন,

আরেকটি বাক্য ভাঙে যুগের বন্ধন।

এই শব্দ-রাজ্যে যে জানে সংযমের মান,

তার নামেই লেখা হয় সদ্ব্যবহারের গান।

মানুষ সে নয়, যে কেবল দেহে মানুষ,

মানুষ সে-ই, যার আচরণে মানব-আলো সুস্পষ্ট।

চালচলনে, কথাবার্তায়, দৃষ্টির ভাষায়,

চরিত্র ফুটে ওঠে ক্ষুদ্র ব্যবহারেই আজ।

মুকুটে নয়, রাজদণ্ডে নয়,

আচরণেই প্রকাশ পায় প্রকৃত মহিমা রয়।

নীরব ভদ্রতা, নম্রতার বল,

সে-ই তো গড়ে মানুষকে মহাকালের ফল।

কঠিন কথা তীরের মতো,

বিদ্ধ করে হৃদয় গোপনে যত।

নরম বাণী শিশিরধারা,

রাগের আগুন নেভায় সারা।

একটি “ক্ষমা” থামায় যুদ্ধ,

একটি “ধন্যবাদ” গড়ে বন্ধুত্ব।

একটি “শোনো” দেয় সম্মান,

একটি “বোঝো” আনে কল্যাণ।

বাক্য তাই শুধু ধ্বনি নয়,

এ যে নৈতিক শক্তির পরিচয়।

মায়ের কথায় শ্রদ্ধার ছায়া,

পিতার মুখে মান্যতার মায়া।

ভাইয়ে-ভাইয়ে সহনশীলতা,

বোনে-বোনে সৌহার্দ্যতা।

স্বামী-স্ত্রীর মধুর আলাপ,

গৃহে আনে শান্তির প্রভাত।

একটু সংযম, একটু ছাড়,

ভেঙে দেয় বহু কষ্টের পাহাড়।

যে ঘরে সদ্ব্যবহার দীপ,

সেই ঘরেই জান্নাতের প্রতিচ্ছবি দীপ্ত।

বাজারে, পথে, সভায়, ঘাটে,

একটি ভদ্রতা বদলায় প্রভাতে।

ক্ষমতার আসনে নম্রতা,

নেতৃত্বে আনে কল্যাণতা।

দুর্বল দেখে করুণা যার,

সে-ই তো প্রকৃত শক্তিধর।

যে নত হয় সত্যের তরে,

সে-ই মহৎ ইতিহাস গড়ে।

আইনের আগে নৈতিকতা,

সমাজ টেকে এই ব্যবস্থায় তা।

 

ক্রোধ হলো আগুন অন্ধ,

নিজেকেই আগে করে দগ্ধ।

সদ্ব্যবহার শীতল বায়ু,

যা শান্ত করে অন্তর-মায়ু।

যে রাগে জেতে, সে হারে পরে,

যে সহনে জেতে, সে জেতে চিরতরে।

সংযমী বাক্য, ধীর আচরণ,

এতেই মহত্ত্বের সত্য প্রমাণ।

 

যুগে যুগে যারা মহৎ জন,

তাদের শক্তি ছিল সদাচরণ।

তলোয়ার নয়, ভাষার ধার,

গড়েছে সভ্যতার ইতিহাসভার।

আজও যে রাখে ভদ্রতার পতাকা,

তার পথেই ভবিষ্যৎ আঁকা।

হে মানব! শোনো সময়ের ডাক,

আচরণেই তোমার পরিচয় থাক।

সদ্ব্যবহার ধারণ কর প্রাণে,

মানবতা বাঁচাও কথা ও আচরণে।

যে জীবন সদ্ভাবে দীপ্ত,

সে জীবনই মহাকালে অমর রূপে লিপ্ত।

 ****

ভাষার শাসনে মানুষ চেনা,

কথার ভঙ্গিতে চরিত্র বোনা।

মধুর বাণী হৃদয় জিতে,

রূঢ় উচ্চারণ সম্পর্ক ছিঁটে।

ধন নয় বড়, পদ নয় মান,

আচরণেই মানুষের স্থান।

নম্রতা যার অলংকার,

সে-ই গড়ে সমাজের ভিত-প্রাচীর।

একটি কথা শান্তি আনে,

আরেকটি আগুন জ্বালে প্রাণে।

সদ্ভাষণে জিতে যায় মন,

ভদ্রতাতেই মানুষের গুণ।

মন্তব্য করুন