Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৫:৩১ অপরাহ্ণ

পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার -মোঃ মুজিবুর রহমান



পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

মায়ের দুধে গড়া জীবন, বাবার ঘামে রুজি,

এই দুইজনের ঋণ শোধে ব্যর্থ হয় সব পুঁজি।

রাত জেগেছে, দিন কেটেছে সন্তানের কল্যাণে,

তবু তারা চায় না কিছু—শুধু দোয়া গোপনে।

একটি উফ্‌ নয়, কটুকথা নয়, নয় অবজ্ঞার তীর,

নরম বাক্য, বিনীত চিত্ত—এই সন্তানের শির।

চোখের দৃষ্টে শ্রদ্ধা রেখে কথা বলো ধীরে,

এই আদবেই খুশি হন তারা অন্তরের নীড়ে।

আল্লাহ বলেন কিতাবে তাঁর—তাদের প্রতি দয়া,

তাঁদের সেবায় জান্নাত খোঁজে মুমিনেরই ছায়া।

যে করেছে পিতা-মাতার সেবন মনপ্রাণে,

তার জীবন ভরে রহমতে, সফলতা পানে।

আজ তারা বৃদ্ধ, শক্তিহীন, কাঁপে দুটি হাত,

আজ সন্তানের দায়িত্ব হলো সেবার ইবাদাত।

যে সন্তান রাখে তাঁদেরে সম্মানের আসনে,

তার নাম লেখা থাকে সদা আল্লাহর হাসনে।

হে সন্তানগণ! বুঝে নাও এই অমূল্য বাণী,

পিতা-মাতা সন্তুষ্ট হলে সন্তুষ্ট হন জান্নানি।

বাররুল ওয়ালিদাইন শুধু কথা নয়, নয় গান—

এই আদর্শে গড়া জীবনেই সফল মুসলমান।

 ****

শুরুতে ছিল অন্ধকার, ছিল না পথের চিহ্ন,

মায়ের কোলে আলো জ্বলে, পায় জীবন-পরিচয়।

বাবার হাতে শক্ত ভর, শেখে দাঁড়াতে ধীরে,

এই দুই স্তম্ভে দাঁড়িয়েই গড়ে মানবের নীড়ে।

মায়ের বুকে ক্ষুধা লুকায়, সন্তান খায় নিশ্চিন্ত,

বাবার কাঁধে ঝরে ঘাম, মুখে হাসি অচিন্ত্য।

রাতের পর রাত নিদ্রাহীন, দিনের পর দিন ক্লান্ত,

তবু সন্তানের ভবিষ্যৎ তাদের কাছে মহান্ত।

কখনো রোগ, কখনো শোক, কখনো অভাব-ভয়,

সন্তান বাঁচুক—এই কথাই তাদের একমাত্র রয়।

নিজের সুখ বিসর্জনে গড়ে সন্তানের সুখ,

এই ত্যাগের তুল্য কিছু নেই—এ সত্য অমোঘ, মুখ।

তাই কি সন্তান কঠিন বাক্য ছুঁড়বে তাঁদেরে?

তাই কি অবজ্ঞা করবে সে জন্মদাতা প্রাণে?

না—আল্লাহর বিধান স্পষ্ট, কুরআনের বাণী,

“উফ্‌ বলিও না”—এই আদেশ চিরকালীন জ্ঞানি।

নরম ভাষা, শান্ত দৃষ্টি, বিনীত ব্যবহার,

এই আদবেই সন্তানের হয় প্রকৃত পরিচয় সার।

যে কণ্ঠে ঝরে সম্মান, যে চরণে সেবা,

সে পথ ধরেই জান্নাত আসে—এ নয় কেবল কেবা।

আজ যারা শক্ত, দৃঢ়দেহ, কাল হবে ক্ষয়প্রাপ্ত,

আজ যারা চলার ভরসা, কাল হবে ক্লান্ত।

আজ বাবা-মা বৃদ্ধ হলে, কাঁপে তাদের হাত,

সেই সময়ই সন্তানের হয় সেবার ইবাদাত।

খাবার তুলে মুখের কাছে, পথ দেখিয়ে চলা,

রোগে-শোকে পাশে থাকা—এও ইবাদাত জ্বালা।

এই সেবাতেই মুছে যায় পাপ, বাড়ে রহমত ঢল,

এই সেবাতেই খুলে যায় জান্নাতের দরজা সব।

যে সন্তান পিতা-মাতার চোখে জল আনে,

সে যত ইবাদাতই করুক, তাতে নেই মানে।

আর যে সন্তুষ্ট রাখে তাঁদেরে অন্তর দিয়ে,

তার ছোট কাজও ওজন পায় আখিরাতে গিয়ে।

ইতিহাস বলে, কালের কণ্ঠে প্রতিধ্বনি ওঠে,

যে জাতি বাবা-মাকে সম্মান দেয় না গোড়ে,

সে জাতি টেকে না বেশিদিন, ভেঙে পড়ে দ্রুত,

নৈতিকতায় শূন্য হলে সভ্যতা হয় নিস্তব্ধ।

হে সন্তান! মনে রেখো এই জীবনের মান,

পিতা-মাতার সেবাতেই লুকায় পরকালের প্রাণ।

বাররুল ওয়ালিদাইন শুধু কবিতার ছন্দ নয়,

এ জীবনব্যাপী সাধনা, এ আল্লাহর পথ-রয়।

শেষে এই প্রার্থনাই থাক হৃদয়ের গভীরে—

“হে রব! দয়া কর তাঁদেরে যেমন তাঁরা করেছিল আমাকে ঘিরে।”

এই দোয়াতেই পূর্ণতা পায় ঈমানের গুণ,

এই আদর্শে গড়া মানুষই প্রকৃত সফল জন।

 ****

মায়ের কোলে জাগে জীবন, আলো পায় পথচেনা।

বাবার ঘামে গড়ে ওঠে ভবিষ্যতের সোপানা।

রাত জেগে যায় চোখের পাতা, দিন যায় ক্লান্তিহীন।

সন্তান হাসুক—এই চাওয়াই তাদের জীবনের ঋণ।

নিজের সুখে দেয় বিসর্জন, লুকায় ব্যথার ঢেউ।

সন্তানেরে বাঁচাতে তারা ভাঙে নিজের নৌ।

এই ঋণের কি শোধ আছে রে, দুনিয়ার কোন দামে?

শত জন্মেও শোধ হয় না—বুঝে নাও হে মানে।

তাই তো কুরআন ঘোষণা দেয় স্পষ্ট কঠোর ভাষা:

“উফ্‌ বলিও না”—এই আদব ঈমানেরই আশা।

কটুকথাতে বিষ ছড়ালে ভাঙে হৃদয়-ঘর।

নরম বাক্যে জান্নাত নামে, খোলে রহমত-দর।

চোখে রেখো সম্মানের ছায়া, কণ্ঠে রাখো ধীর।

এই ভদ্রতায় সন্তানের হয় প্রকৃত তাফসির।

আজ যারা শক্ত, দৃঢ়দেহ, কাল হবে জীর্ণ।

আজ যাদেরে অবলম্বন, কাল তারাই ক্ষীণ।

কাঁপবে হাত, ঝাপসা চোখে থামবে চলার গতি।

সেই সময়েই সন্তানের হয় সেবার ইবাদতি।

খাবার তুলে মুখের কাছে, পথ দেখানো পায়ে।

এই সেবাতেই আল্লাহ দেন জান্নাতেরই ছায়া।

যে সন্তান পিতা-মাতার চোখে আনে জল,

তার নাম লেখে ইতিহাসে ব্যর্থতার ফল।

আর যে রাখে সন্তুষ্ট করে আদর-সম্মানে,

তার ছোট কাজ পাহাড় হয় পরকালের মানে।

বাররুল ওয়ালিদাইন শুধু কথা নয়, নয় ছন্দ।

এ জীবনভিত্তিক সাধনা, এ ঈমানের বন্ধ।

হে রব! দয়া কর বাবা-মা, জীবিত-মরহুম।

যেমন তারা লালন করল আমাদের নির্ভুল।

এই দোয়াতেই পূর্ণ হয় ঈমানেরই রঙ।

এই আদর্শে গড়া জীবন—সফলতার ঢং।

****

মায়ের কোলে আলো নামে অন্ধকারের বুকে।

প্রথম স্পর্শে প্রাণ জাগে জীবনধারার সুখে।

বাবার হাতে শক্ত ভর, শেখে চলার কায়দা।

এই দুইজনেই গড়ে দেয় মানুষেরই মর্যাদা।

শিশু কাঁদে, মায়ের আঁচল ভিজে অশ্রুতে।

বাবা লড়েন জীবনের সঙ্গে কঠিন বাস্তবে।

রাত জেগে যায়, দিন ফুরায় ক্লান্ত শরীর জুড়ে।

সন্তান বড় হোক—এই স্বপ্ন বুকে তারা পুড়ে।

নিজের সুখে দেয় বিসর্জন, চায় না প্রতিদান।

সন্তানের মুখের হাসিই তাদের সর্বস্ব ধন।

ক্ষুধা লুকিয়ে মা বসে থাকে শূন্য থালায়।

বাবার কপাল ঘামে ভেজে রৌদ্রঝালায়।

এই ত্যাগের কি তুলনা হয় দুনিয়ার কোন দামে?

এই ঋণের কি শোধ আছে রে হিসাবের খামে

শত জন্মেও শোধ হয় না এই মহাঋণ ভার।

তাই তো আল্লাহ বিধান দিলেন করুণার ধার।

কুরআন বলে স্পষ্ট ভাষায়, কঠোর নির্দেশে—

“উফ্‌ বলিও না”—এই আদব সন্তানের বেশে।

কটুকথা নয়, চোখ রাঙানি নয় অবহেলা।

নরম ভাষায় জয় করো হৃদয়ের দুর্গকেলা।

বিনীত চিত্ত, শান্ত দৃষ্টি, শ্রদ্ধার আচরণ।

এই গুণেই পূর্ণতা পায় ঈমানেরই ধরণ।

আজ যারা শক্ত, দৃঢ়দেহ, কাল হবে ক্ষীণ।

আজ যারা আশ্রয় তোমার, কাল তারাই জীর্ণ।

চুলে ধরবে বার্ধক্যের ছাপ, কাঁপবে দুটি হাত।

ঝাপসা হবে চোখের তারা, ধীর হবে গতি-পথ।

সেই সময়ে সন্তানের হয় সেবার ইবাদাত।

পথ দেখানো, কথা শোনা—সবই নেক আমলাত।

খাবার তুলে মুখের কাছে, ঔষধ সময়মতো।

এই কাজেই খুলে যায় জান্নাতেরই দ্বারতো।

যে সন্তান পিতা-মাতার চোখে আনে জল।

তার ইবাদাত ডাকে না আর রহমতের ফল।

আর যে রাখে সন্তুষ্ট করে আদর সম্মানে।

তার ছোট কাজ পাহাড় হয় আখিরাতের মানে।

ইতিহাসে শোনো কাহিনি যুগে যুগে ঘটা।

যে জাতি বাবা-মাকে ভুলে, ভাঙে তারই গাঁথা।

নৈতিকতা হারালে পরে সমাজ হয় অন্ধ।

সভ্যতারও মেরুদণ্ড তখন ভেঙে যায় বন্ধ।

ঘর থেকেই শুরু হয় মানুষ গড়ার পাঠ।

পিতা-মাতার সম্মানেই গড়ে চরিত্র-ভিত্তি দৃঢ় বাঁধ।

বাররুল ওয়ালিদাইন শুধু কবিতার ছন্দ নয়।

এ জীবনব্যাপী সাধনা, এ আল্লাহর পথরয়।

এই পথে যে হাঁটে ধীরে ঈমানের আলোয়।

তার জীবন ভরে যায় শান্তি, বরকত আর দোয়ায়।

শেষে তুলে দুই হাত আকাশ-পানে চেয়ে।

হে রব! দয়া কর বাবা-মা, রেখো করুণায় ঘিরে।

জীবিত-মরহুম সবাইকে করো তুমি ক্ষমা।

যেমন তারা লালন করল, দয়া করো তেমনা।

এই দোয়াতেই পূর্ণতা পায় ঈমানের রঙ।

এই আদর্শে গড়া মানুষ—সফলতার ঢং। 

মন্তব্য করুন