সহকারী শিক্ষক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৬:১৪ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাওয়া প্রিয় তামিম
হারিয়ে যাওয়া প্রিয় তামিম!
শেষ পিরিয়ডের ঘণ্টাটা বেজে উঠতেই স্কুলটা হঠাৎ করে নীরব হয়ে গেল।ক্লাসঘরের বেঞ্চে ছড়িয়ে,ছিটিয়ে থাকা খাতাগুলো যেন কারও অপেক্ষায়।
চতুর্থ শ্রেণির সেই বেঞ্চটার দিকে তাকালেই বুকটা কেমন হাহাকার করে ওঠে।ওখানেই বসত তামিম ইকবাল।গত বছর তৃতীয় শ্রেণি পাশ করে চতুর্থে উঠেছিল ছেলেটা।
ভালো ছাত্র বলতে যা বোঝায়,তামিম ছিল তার নিখুঁত উদাহরণ।
চোখে লাজুক আলো, কথায় ভদ্রতা, আর খাতার পাতায় যেন ছাপা অক্ষর।ওর হাতের লেখা দেখলে মন ভরে যেত।
শুধু পড়াশোনা নয়,মানুষ হওয়ার সব গুণ যেন ওর ভেতর আগে থেকেই সাজানো।কিন্তু হঠাৎ একদিন…
তামিম আর স্কুলে এল না
খোঁজ নিয়ে জানা গেল,
ওর বাবা চাননি ও আর এখানে পড়ুক।
ভর্তি করে দিয়েছেন মাদ্রাসায়।
সেদিন ক্লাসরুমে ঢুকে অজান্তেই উপস্থিতি খাতায় নাম ডাকতে গিয়ে থমকে গিয়েছিলাম,
“তামিম ইকবাল…” কোনো উত্তর আসেনি।
আজ রেজাল্ট।
মাঠজুড়ে সারি সারি বাচ্চা দাঁড়িয়ে।
এক এক করে নাম ডাকা হচ্ছে—
খুশির চিৎকার, চোখের জল, মায়ের আঁচল ধরা হাত।
কিন্তু একটি নাম ডাকা হবে না।
যে নামটা ডাকলে হয়তো বুকটা ভরে যেত,সেই তামিম।
ও সম্ভাবনাময় তরুণদের একজন হতে পারত।হয়তো একদিন ওর নাম ডাকলে মঞ্চে উঠত,হাততালি পড়ত,
গর্বে বুক ফুলে যেত কারও।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় শেষ ভাবনাটা,আমরা যদি আরেকটু চেষ্টা করতাম!
আরও একটু বুঝাতাম ওর বাবাকে!
হয়তো আজ রেজাল্টের তালিকায়
আরেকটা সুন্দর নাম থাকত—
তামিম ইকবাল।
নামটা শুধু তালিকা থেকে হারায়নি,
হারিয়েছে আমাদের একটুখানি ভবিষ্যৎও।
১৫
২৫ মন্তব্য