সহকারী অধ্যাপক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:১৫ অপরাহ্ণ
ঈমানের শাখা -মোঃ মুজিবুর রহমান
ঈমানের শাখা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পথের ধারে কাঁটাভরা ডাল,
চলতি মানুষ পায় যে জ্বালা–জাল।
একজন দেখল, থামল ক্ষণ,
সরিয়ে দিল নীরব মন।
কেউ দেখেনি, ছিল না সাক্ষী,
ছিল না লোকের বাহবা–আশী।
ছিল শুধু রবের ভরসা,
আর অন্তরের নিঃশব্দ পিপাসা।
আল্লাহ দেখেন ক্ষুদ্র কাজ,
যা গোপনে গড়ে ঈমানের রাজ।
সেই সামান্য দয়ার ছোঁয়ায়,
মুছে দিলেন গুনাহ স্নিগ্ধ ছায়ায়।
বলেছেন নবী, সত্যের দীপ,
ঈমান বহু শাখায় বিস্তৃত রূপ।
ষাটের বেশি, সত্তরের ঊর্ধ্বে,
প্রতিটি শাখা নূরের অর্ঘ্যে।
শীর্ষে আছে তাওহীদের গান—
“আল্লাহ ছাড়া নেই কোনো ইলাহ” ঘোষণা মহান।
আর তলানিতে, ক্ষুদ্র বলে নয়,
পথের কষ্ট দূর করা যে পরিচয়।
লজ্জা সেখানে ঈমানের ফুল,
অন্তরের সৌন্দর্যে অনন্য মুকুল।
যে লজ্জা পাপে টানে না মন,
সে-ই তো ঈমানের জীবন্ত ধন।
তাই পথ চলায় যত্ন নিও,
ক্ষুদ্র কাজকেও মহান জেনো।
একটি কাঁটা, একটুখানি দয়া—
হতে পারে জান্নাতের চাবিকাঠি হায়!
***
ঈমানের শাখা
পথের মাঝে কাঁটার ডাল দেখিল সে জন,
থামিল ক্ষণে, সরাইল তা নীরব মন।
কেহ দেখিল না তার সে ক্ষুদ্র কর্ম,
ছিল না লোক-প্রশংসা, না যশ-ধর্ম।
ছিল শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি সাধন,
ছিল শুধু ঈমানে জাগ্রত চেতন।
রব দয়ালু, ক্ষুদ্র কাজ করিল ক্ববুল,
মুছিল গুনাহ, খুলিল রহমতের ফুল।
বলেছেন নবী, সত্যের দীপ্ত বাণী,
ঈমান শাখায় ভরা এক নূরের বাগানী।
সত্তরের ঊর্ধ্বে তার বিস্তৃত পরিধি,
প্রতিটি শাখা দেয় নাজাতের নিধি।
শীর্ষে আছে তাওহীদের অমলিন ডাক—
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”—চিরন্তন পাক।
আর সর্বনিম্ন শাখা, তুচ্ছ নয় কভু,
পথের কষ্ট সরানো—ইবাদত প্রভু।
লজ্জা সেখানে ঈমানের মধুর রূপ,
পাপের পথে রাখে না সে অবাধ কূপ।
অন্তরের শালীনতা, সংযমের বল,
লজ্জাতেই রক্ষা পায় চরিত্র-ফসল।
তাই পথ চলায় শিখো এই নূরের পাঠ,
একটি কাঁটা, একটুখানি দয়ার পরিচয়,
হতে পারে মুক্তির সে অমূল্য সহায়।
****
ঈমানের শাখা
পথের ধুলোয় লেখা থাকে মানবের ইতিহাস,
ক্ষুদ্র কাজে প্রকাশ পায় ঈমানের আভাস।
নীরব কর্মে ধ্বনিত হয় অন্তরের ডাক,
রবের দরবারে ওঠে সেই আমলের পাক।
যে কাজ চোখে পড়ে না লোকালয়ের ভিড়ে,
সেই কাজই ঝলসে ওঠে আরশের নীড়ে।
পথের মাঝে কাঁটাভরা ডাল দেখিল সে জন,
চলতি মানুষের বুকে জাগে ব্যথার ক্ষণ।
সে থামিল ক্ষণে, ভাবিল কারও দুঃখ,
সরাইল কাঁটা—মুখে ছিল না কোনো সুখ।
নাই রইল বাহবা, নাই রইল সাক্ষী,
ছিল না ক্যামেরা, ছিল না লোক-আশী।
ছিল শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির তৃষা,
আর ঈমানের আলোয় জাগ্রত মনীষা।
**রবের কবুলিয়াত**
রব দয়ালু, দেখেন তিনি অন্তরের কথা,
ক্ষুদ্র কর্মে মুছান তিনি বহু পাপব্যথা।
সে কাজ সাদরে নিলেন মহান রব,
মাফ করিলেন গুনাহ—করুণার সব।
মানুষ ভাবে ছোট, রব বলেন মহান,
একটি দয়ার বীজেই বদলে যায় মান।
**ঈমানের পরিচয়**
বলেছেন নবী, সত্যের দীপ্ত বাণী,
ঈমান শাখায় ভরা নূরের বাগানী।
ষাটেরও ঊর্ধ্বে, সত্তরের বেশি,
প্রতিটি শাখা নাজাতের সে নিশি।
কিছু আছে অন্তরে, কিছু আচরণ,
কিছু কথায় জ্বলে ওঠে বিশ্বাস-চরণ।
***তাওহীদের শীর্ষ***
শীর্ষে আছে তাওহীদের অমলিন গান,
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”—চিরন্তন মান।
এই ঘোষণায় ভাঙে মিথ্যার প্রাচীর,
এই ঘোষণায় মুক্ত হয় আত্মার শৃঙ্খল-নীর।
যে কণ্ঠে উচ্চারিত হয় একত্বের নাম,
তার জীবনে নেমে আসে হিদায়াত-ধাম।
**নিম্ন শাখার মর্যাদা**
আর সর্বনিম্ন শাখা—তুচ্ছ নয় কভু,
পথের কষ্ট সরানো—ইবাদত প্রভু।
যে হাত তুলে নেয় কাঁটা পথের ধুলো,
সে হাতই গড়ে দেয় দয়ার সেতু-চুলো।
মানুষের আরামে আল্লাহর রিজা,
এই শিক্ষাই দেয় নবীর পবিত্র নিদা।
** লজ্জার মাহাত্ম্য***
লজ্জা সেখানে ঈমানের মধুর রূপ,
পাপের পথে রাখে না অবাধ কূপ।
চোখে রাখে সংযম, বাক্যে শালীনতা,
কর্মে রাখে সততা, মনে বিনয়তা।
যে লজ্জা হারায়, হারায় পথের দিশা,
আর যে লজ্জা পায়, পায় নাজাতের নিশা।
** ***
তাই পথ চলায় শিখো এই নূরের পাঠ,
ক্ষুদ্র কাজেও লুকায় জান্নাতের হাত।
একটি কাঁটা, একটুখানি দয়ার চিহ্ন,
হতে পারে মুক্তির সে উজ্জ্বল দিগন্ত।
আজ যে কাজ করিলে নীরবতায় ভরে,
কাল সে কাজই সাক্ষী হবে হাশরের ঘরে।
পথ পরিষ্কার করো, মন করো স্বচ্ছ,
ঈমানের শাখায় গড়ো আমলের বৃক্ষ।
১৫
২৫ মন্তব্য