Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:২৮ অপরাহ্ণ

বেশি শীতকাতুরে হলে যা করতে পারেন

শীতের প্রকোপ এলেই অনেকের শরীর যেন আগেভাগেই বার্তা দিয়ে দেয় এবং কাবু হয়ে যায়। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়, অল্পতেই কাঁপুনি ধরে, মনটা অকারণেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

বয়স, শারীরিক গঠন, রক্তস্বল্পতা, কম ওজন বা মানসিক চাপ— বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ শীতকাতুরতায় বেশি ভোগেন।

তবে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই শীতের এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

পোশাক থেকে শুরু করে খাবার, গোসল, ঘুম ও মানসিক চর্চা— সবকিছুর সমন্বিত যত্নই সবচেয়ে কার্যকর।

পোশাকে উষ্ণতার বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার

শীতে বেশি কাঁপুনি হলে শুধু মোটা জামা পরলেই যথেষ্ট নয়, কীভাবে পরা হয়েছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।

একাধিক স্তরে পোশাক পরলে শরীরের ভেতরের তাপ আটকে থাকে। ভেতরে সুতি বা উষ্ণ কাপড়, তার ওপর হালকা উলের স্তর এবং বাইরে বাতাস ঠেকানোর মতো পোশাক— এই স্তরভিত্তিক পদ্ধতি শরীরকে বেশি আরাম দেয়।

“মাথা, কান, গলা ও পা ঢেকে রাখা জরুরি, কারণ এই অংশগুলো দিয়েই শরীরের তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। ঘরে থাকলেও হালকা সোয়েটার বা শাল ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে।”- বলেন ‘হেল্থ এইড হাসপাতাল’য়ের মেডিকেল অফিসার আফিফ বাসার।

খাদ্যে উষ্ণতা ও পুষ্টির জোগান

শীতকাতুরতা কমাতে খাদ্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শীতে হালকা কিন্তু উষ্ণ খাবার শরীরের ভেতরের তাপ বাড়াতে সাহায্য করে।

ভাত বা রুটির সঙ্গে গরম ডাল, সবজি, মাছ বা ডিম শরীরকে শক্তি দেয়। আদা, রসুন, গোলমরিচের মতো প্রাকৃতিক উপাদান খাবারে যোগ করলে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়।

বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলো এই ক্ষেত্রে পরামর্শ দেন, “গরম সুপ, খিচুড়ি বা ভাপা খাবার শীতে সহজপাচ্য ও আরামদায়ক। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, কারণ শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও পানিশূন্যতা শরীরকে আরও ঠাণ্ডা অনুভব করায়।”

গোসলের সময় সতর্কতা

শীতকাতুরে হলে তাদের জন্য গোসল অনেক সময় সবচেয়ে বড় সংকটের বিষয়। খুব ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে কাঁপুনি বাড়তে পারে। তাই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো।

গোসলের সময় দীর্ঘক্ষণ পানিতে না থেকে দ্রুত সেরে নেওয়া উচিত। গোসলের পরপরই শরীর ভালোভাবে মুছে উষ্ণ পোশাক পরা জরুরি।

আবার খুব ভোরে বা রাতে দেরিতে গোসল না করাই ভালো; দিনের উষ্ণ সময়ে গোসল করলে ঠাণ্ডার প্রভাব কম পড়ে।

ঘুম ও বিশ্রামের ভূমিকা

পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শোবার ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি লাগছে কি-না, তা খেয়াল রাখা দরকার।

জানালা-দরজা ভালোভাবে বন্ধ রেখে কম্বল বা লেপ ব্যবহার করলে শরীর আরাম পায়।

ঘুমানোর আগে হালকা গরম দুধ বা ভেষজ পানীয় শরীরকে শান্ত করে এবং ঘুম ভালো হয়, যা পরদিন শীত সহ্য করার ক্ষমতাও বাড়ায়।

মানসিক চর্চা ও ইতিবাচক মনোভাব

শীতকাতুরতা শুধু শরীরের বিষয় নয়, মানসিক অবস্থার সঙ্গেও এর যোগ আছে।

দুশ্চিন্তা, মনখারাপ বা দীর্ঘদিনের চাপ শরীরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান বা হালকা যোগচর্চা স্নায়ুকে শান্ত করে এবং শরীরের ভেতরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সকালে বা বিকেলে রোদে কিছুক্ষণ বসলে শুধু শরীর উষ্ণ হয় না, মনও ভালো থাকে- জানান মনোবিজ্ঞানী নাদিয়া নাসরিন।

চলাফেরা ও হালকা ব্যায়াম

শীতে অলস হয়ে পড়লে শরীর আরও ঠাণ্ডা অনুভব করে। ঘরের ভেতরেই হোক বা বাইরে, নিয়মিত হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায়।

এতে হাত-পা গরম থাকে এবং কাঁপুনি কমে। একটানা অনেকক্ষণ বসে না থেকে মাঝেমধ্যে উঠে নড়াচড়া করাও শীতকাতুর মানুষের জন্য উপকারী।

দৈনন্দিন ছোট অভ্যাসের প্রভাব

ছোট ছোট অভ্যাসও শীতে শরীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ ঠাণ্ডা মেঝেতে পা না দিয়ে জুতা বা মোজা ব্যবহার করা, রাতে ঘুমানোর আগে হাত-পা হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নেওয়া বা তেল মালিশ করা শরীরকে আরাম দেয়।

এসব অভ্যাস শরীরকে ধীরে ধীরে শীতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

মন্তব্য করুন