প্রভাষক
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায়।।
কম্পিউটার আমাদের কাজের উৎপাদনশীলতা এবং ধৈর্য—উভয়কেই মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আধুনিক ২০২৩, ২০২৪ এবং বর্তমানে ২০২৫ সালের সফটওয়্যারগুলোর উচ্চ চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। একটি কম্পিউটার সময়ের সাথে সাথে কেন ধীর হয়ে যায়, তা বোঝা যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি কিছু কৌশল প্রয়োগ করে এর আদিম ক্ষিপ্রতা ফিরিয়ে আনাও সম্ভব। নিচে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে কম্পিউটার ফাস্ট করার বিভিন্ন কার্যকরী পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
১. স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণ করা
অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করি যে কম্পিউটার চালু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ল্যাগ করে বা কাজ করতে দেরি হয়। এর প্রধান কারণ হলো অনেকগুলো অ্যাপ্লিকেশন কম্পিউটার অন হওয়ার সাথে সাথেই ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়। একে 'স্টার্টআপ অ্যাপস' বলা হয়। এটি বন্ধ করতে টাস্ক ম্যানেজার (Task Manager) ব্যবহার করতে হবে ।
কিবোর্ডে Ctrl + Shift + Esc চেপে টাস্ক ম্যানেজার ওপেন করতে হবে।
'Startup' ট্যাবে গিয়ে কোন অ্যাপগুলোর 'Startup impact' বেশি বা হাই (High)।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সিলেক্ট করে 'Disable' বাটনে ক্লিক করতে হবে। এটি করলে র্যাম এবং প্রসেসরের ওপর চাপ কমবে এবং কম্পিউটার দ্রুত বুট হবে।
২. হার্ড ড্রাইভ থেকে এসএসডি (SSD) তে আপগ্রেড করা
২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে একটি কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর এবং বৈপ্লবিক পদ্ধতি হলো হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ (HDD) পরিবর্তন করে একটি সলিড স্টেট ড্রাইভ বা SSD ইনস্টল করা। সাধারণ হার্ড ড্রাইভের তুলনায় এসএসডি প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। যদি পুরোনো ল্যাপটপ বা ডেক্সটপে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমটি একটি এসএসডিতে সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে দেখা যায় কম্পিউটার চালু হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় নিচ্ছে এবং ভারী সফটওয়্যারগুলো চোখের পলকে ওপেন হচ্ছে।
৩. স্টোরেজ পরিষ্কার এবং ডিস্ক ক্লিনআপ
কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ বা এসএসডি যদি পূর্ণ হয়ে যায়, তবে অপারেটিং সিস্টেমের জন্য টেম্পোরারি ফাইল বা সোয়াপ ফাইল (Swap file) তৈরি করার জায়গা থাকে না, যা সিস্টেমকে ধীর করে দেয়। উইন্ডোজের নিজস্ব টুল Disk Cleanup ব্যবহার করে সহজেই অপ্রয়োজনীয় ক্যাশ ফাইল এবং পুরোনো আপডেট ফাইল মুছে ফেলা উত্তম।
সার্চ বারে 'Disk Cleanup' লিখে সার্চ দিয়ে এবং ড্রাইভ সিলেক্ট করতে হবে।
এরপর 'Clean up system files' অপশনে ক্লিক করে অপ্রয়োজনীয় সব ফাইল ডিলিট করতে হবে।
এছাড়া উইন্ডোজের আধুনিক ফিচার Storage Sense চালু করে রাখলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাশ বা রিসাইকেল বিন এবং টেম্পোরারি ফাইলগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
৪. র্যাম (RAM) বৃদ্ধি এবং ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস বন্ধ করা
আধুনিক মাল্টিটাস্কিং বা গুগল ক্রোম ব্রাউজারের মতো মেমোরি-হাংরি অ্যাপ চালানোর জন্য বর্তমানে অন্তত ৮ জিবি থেকে ১৬ জিবি র্যাম থাকা আবশ্যক। যদি ৪ জিবি র্যাম থাকে, তবে নতুন র্যাম স্টিক যুক্ত করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া ব্রাউজারে অপ্রয়োজনীয় ট্যাব খুলে রাখা পরিহার করতে হবে।কারণ প্রতিটি ট্যাব প্রচুর পরিমাণে র্যাম দখল করে রাখে।
৫. অ্যানিমেশন এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কমিয়ে আনা
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে অনেক সুন্দর সুন্দর অ্যানিমেশন এবং শ্যাডো ইফেক্ট থাকে যা দেখতে ভালো লাগলেও প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স কার্ডের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যাদের কম্পিউটার কনফিগারেশন একটু পুরোনো, তাদের জন্য এটি বন্ধ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
'This PC' তে রাইট ক্লিক করে 'Properties' এ যেয়ে
সেখান থেকে 'Advanced system settings' এ গিয়ে 'Performance' ট্যাবের 'Settings' এ ক্লিক করতে হবে।
এখানে 'Adjust for best performance' সিলেক্ট করতে হবে। এটি উইন্ডোজের বাহ্যিক চাকচিক্য কিছুটা কমিয়ে দিলেও সিস্টেমের রেসপন্স টাইম অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।
৬. নিয়মিত আপডেট এবং ভাইরাসের সুরক্ষা
সফটওয়্যার ডেভেলপাররা প্রতিনিয়ত সিকিউরিটি প্যাচ এবং পারফরম্যান্স উন্নতির জন্য আপডেট পাঠিয়ে থাকেন। তাই অপারেটিং সিস্টেম এবং ড্রাইভারগুলো নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। বিশেষ করে গ্রাফিক্স ড্রাইভার এবং চিপসেট ড্রাইভার আপডেট থাকলে হার্ডওয়্যারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি কোনো ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস যেন ব্যাকগ্রাউন্ডে রিসোর্স চুরি করতে না পারে, সেজন্য উইন্ডোজ ডিফেন্ডার বা ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে নিয়মিত স্ক্যান করা উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, কম্পিউটারের গতি বজায় রাখা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার মতো। যদি মাসে অন্তত একবার ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট (HDD এর ক্ষেত্রে) করা হয়, স্টার্টআপ অ্যাপগুলো চেক করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় বড় ফাইলগুলো মুছে ফেলতে হবে তবে কম্পিউটার দীর্ঘ সময় পর্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করবে।
১
১ মন্তব্য