প্রভাষক
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
নারী স্বাধীনতা এখনো পরাধীনতার শিকলে বাঁধা।।
নারী স্বাধীনতা এখনও বহু ক্ষেত্রে পরাধীনতার শিকলে বাঁধা, যা কেবল চলাফেরা বা পোশাকের স্বাধীনতা নয়, বরং সামাজিকভাবে, মানসিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের সমানাধিকার ও পূর্ণ আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ে বিদ্যমান, যেখানে পরিবার, সমাজ, ঐতিহ্য এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যদিও আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি হয়েছে।
বাধাগুলো কোথায়?
সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামো: মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই 'নারীর চেয়ে পুরুষ বড়' এমন ধারণা দেওয়া হয়, ফলে প্রতিষ্ঠিত নারীরাও বাড়িতে পরাধীন থাকেন।
পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি: সমাজ এখনো নারীকে ভোগ্যপণ্য, সেবাদাসী বা যৌনদাসী হিসেবে দেখে, যা তার সামগ্রিক বিকাশকে বাধা দেয়।
মানসিক পরাধীনতা: অনেক সময় নারীরা নিজেকে মানুষ হিসেবে নয়, কেবল নারী হিসেবে দেখতে শুরু করেন, যা মুক্তির পথে অন্তরায়।
প্রথাগত ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতা: বোরখা বা নির্দিষ্ট পোশাককে স্বাধীনতার অন্তরায় হিসেবে দেখা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুশাসনও নারীর স্বাধীনতাকে সীমিত করে।
আইন ও প্রয়োগের পার্থক্য: অনেক আইন (যেমন পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন) প্রণীত হলেও তার সঠিক প্রয়োগ এবং সমাজে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখনো সীমিত।
স্বাধীনতার অর্থ:
নারীর স্বাধীনতা মানে শুধু রাতে ফেরা বা অফিসে যাওয়া নয়, বরং আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং সামাজিক-পারিবারিক শেকল ভেঙে এগিয়ে যাওয়া।
বর্তমান পরিস্থিতি:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়েছে, কিন্তু ঘরের ভেতরের লড়াই এখনো শেষ হয়নি; এটি শুধু ব্যক্তি বা ঘরের নয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
১৫
২৫ মন্তব্য