সহকারী শিক্ষক
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:৪৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সেলিম আল দীন: বাংলার মাটির নাট্যকার ও লোকজ জীবনের শিল্পী বাংলা নাট্যচর্চায় সেলিম আল দীন এক অনন্য নাম—যিনি গ্রামীণ বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনকে নাট্যরূপ দিয়ে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল শিল্পভাণ্ডার। তিনি ছিলেন নাট্যকার, গবেষক, শিক্ষক এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক।
জন্ম: ১৮ আগস্ট ১৯৪৯, ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখালি গ্রামে
মৃত্যু: ১৪ জানুয়ারি ২০০৮, ঢাকা
শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
পেশা: নাট্যকার, অধ্যাপক, নাট্যতত্ত্ববিদ
প্রতিষ্ঠান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা
সেলিম আল দীন ছিলেন লোকজ নাট্যরীতির পুনরুদ্ধারকারী। তিনি বিশ্বাস করতেন, নাটক হতে হবে বাংলার মানুষের ভাষায়, বাংলার মাটির গন্ধে। তাঁর নাটকে উঠে এসেছে পল্লির জীবন, ইতিহাস, সংগ্রাম ও মানবিকতা।
| নাটকের নাম | প্রকাশকাল | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| কিত্তনখোলা | ১৯৯৬ | গ্রামীণ জীবন ও লোকজ রীতির নাট্যরূপ |
| চাকা | ১৯৯০ | সময়, মৃত্যু ও পুনর্জন্মের প্রতীক |
| যৈবতী কন্যার মন | ২০০০ | নারীর মনস্তত্ত্ব ও সমাজচিত্র |
| হাত হদাই | ২০০৩ | লোকজ ভাষা ও নাট্যরীতির সংমিশ্রণ |
তিনি নাট্যতত্ত্বে বাংলা নাটকের নিজস্ব ভাষা ও কাঠামো নির্মাণে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণায় উঠে এসেছে মধ্যযুগীয় বাংলা নাট্যরীতি, পালাগান, জারিগান, এবং লোকনাট্যের ঐতিহ্য।
বাংলা একাডেমি পুরস্কার: ১৯৮৩
একুশে পদক: ২০০৭
মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক: ২০২১
সেলিম আল দীন ছিলেন বাংলার মাটির নাট্যকার। তাঁর নাটক শুধু মঞ্চ নয়, বরং বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের আত্মার প্রতিচ্ছবি। তিনি প্রমাণ করেছেন—নাটক হতে পারে লোকজ জীবনের ভাষা, প্রতিবাদের মাধ্যম, এবং শিল্পের শক্তিশালী রূপ।
১
১ মন্তব্য