Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

আসমান ফেটে যাওয়ার পর -মোঃ মুজিবুর রহমান



আসমান ফেটে যাওয়ার পর

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

যখন আসমান ফেটে যাবে বিকট বজ্রনাদে,

তার প্রভুর আদেশে সে নত হবে বিনীত সাধে।

মেঘের পর্দা সরে যাবে, নক্ষত্র ঝরবে ধূলি,

কালের বুক চিরে উঠবে হাশরের ভয়াল হুলি।

যখন জমিন উগরে দেবে তার গোপন সব ভার,

মানুষ দাঁড়াবে সারি সারি, নিঃসহায়, নগ্ন, সার।

প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে সবাই হবে হাজির,

কারো চোখে আশার আলো, কারো বুকে শুধু হাহাকার বিরহীর।

যার ডান হাতে আমলনামা হাসবে সে তৃপ্ত প্রাণে,

সহজ হিসাব, শান্ত সমাপ্তি—রহমতেরই দানে।

পরিবারে ফিরবে সে বিজয়ীর সম্মানে ভরা,

জীবনের প্রতিটি সিজদা পাবে পূর্ণ স্বীকৃতির ধরা।

আর যাকে দেওয়া হবে পিঠের পেছনে তার বই,

সে চিৎকারে ডাকবে ধ্বংস—“হায়! যদি না থাকত এই!”

আগুনের দিকে ঠেলে দেবে তারই কৃত কর্মফল,

হাস্য-উল্লাসে ছিল যে মত্ত—আজ তার সবই নিষ্ফল।

সে ভাবত, আর ফিরতে হবে না প্রভুর আদালতে,

ভুলে গিয়েছিল—চোখের দৃষ্টি আছেন যিনি দেখাতে।

নিশ্চয়ই তার রব ছিলেন সদা সর্বদ্রষ্টা,

লিখে রেখেছেন প্রতিটি কাজ—গোপন, প্রকাশ্য, নীরবতা।

হে মানুষ! ফিরে তাকাও আজ, সময় এখনো আছে,

আমলের খাতায় লেখো আলো—অন্ধকার নয় পাশে।

যেদিন আসমান ফেটে যাবে সত্যের ঘোষণায়,

সেদিন ডান হাতে আমলনামা পাওয়াই মুক্তির একমাত্র উপায়।

 ***

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে, আদেশে রবের মহা,

নত হবে সে ভয়ভক্তিতে, ভাঙবে অহংকারের গাঁথা।

নক্ষত্র ঝরবে শূন্য পথে, কালের বুকে ক্ষত,

জমিন উগরাবে তার বোঝা, গোপন যত কথা যত।

মানুষ দাঁড়াবে সারি সারি, নিঃসহায় নিরাভরণ,

ডাক আসবে রবের দরবারে—“এসো, দাও হিসাব-পণ।”

যার ডান হাতে আমলনামা, মুখে হাসি, চোখে আলো,

সহজ হিসাব, শান্ত পরিণাম—রহমতেরই ভালো।

সে ফিরবে আপন পরিবারে, বিজয়ীর আনন্দভরে,

কঠিন দিনে করা সিজদা ফল দেবে স্বর্ণধরে।

আর যাকে দেওয়া হবে বই পিঠের পেছন-পানে,

ধ্বংস সে ডাকবে আর্তনাদে—হায়! কী লজ্জা প্রাণে!

আগুনের পথে ঠেলে দেবে তারই কৃত আচরণ,

ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিল যে, আজ সে নিঃস্ব, শূন্য মন।

সে ভাবত, আর ফিরব না আমি রবের আদালতে,

ভুলে গিয়েছিল—সবই দেখা হয় সর্বদ্রষ্টার চোখেতে।

হে মানুষ! আজই ফিরে এসো, সময় এখনো যায়,

আমলের খাতায় লেখো আলো—অন্ধকার নয় চাই।

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে সত্যের মহারণে,

ডান হাতে আমলনামা পাওয়াই মুক্তি—এ কথা রেখো মনে।

 ***

যখন আসমান ফেটে যাবে বিকট বজ্রনাদে,

তার প্রভুর আদেশে সে নত হবে বিনীত সাধে।

মেঘের পর্দা সরে যাবে, নক্ষত্র ঝরবে ধূলি,

কালের বুক চিরে উঠবে হাশরের ভয়াল হুলি।

যখন জমিন উগরে দেবে তার গোপন সব ভার,

মানুষ দাঁড়াবে সারি সারি, নিঃসহায়, নগ্ন, সার।

প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে সবাই হবে হাজির,

কারো চোখে আশার আলো, কারো বুকে শুধু হাহাকার বিরহীর।

যার ডান হাতে আমলনামা হাসবে সে তৃপ্ত প্রাণে,

সহজ হিসাব, শান্ত সমাপ্তি—রহমতেরই দানে।

পরিবারে ফিরবে সে বিজয়ীর সম্মানে ভরা,

জীবনের প্রতিটি সিজদা পাবে পূর্ণ স্বীকৃতির ধরা।

আর যাকে দেওয়া হবে পিঠের পেছনে তার বই,

সে চিৎকারে ডাকবে ধ্বংস—“হায়! যদি না থাকত এই!”

আগুনের দিকে ঠেলে দেবে তারই কৃত কর্মফল,

হাস্য-উল্লাসে ছিল যে মত্ত—আজ তার সবই নিষ্ফল।

সে ভাবত, আর ফিরতে হবে না প্রভুর আদালতে,

ভুলে গিয়েছিল—চোখের দৃষ্টি আছেন যিনি দেখাতে।

নিশ্চয়ই তার রব ছিলেন সদা সর্বদ্রষ্টা,

লিখে রেখেছেন প্রতিটি কাজ—গোপন, প্রকাশ্য, নীরবতা।

হে মানুষ! ফিরে তাকাও আজ, সময় এখনো আছে,

আমলের খাতায় লেখো আলো—অন্ধকার নয় পাশে।

যেদিন আসমান ফেটে যাবে সত্যের ঘোষণায়,

সেদিন ডান হাতে বই পাওয়াই মুক্তির একমাত্র উপায়।

***

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে, আদেশে রবের মহা,

নত হবে সে ভয়ভক্তিতে, ভাঙবে অহংকারের গাঁথা।

নক্ষত্র ঝরবে শূন্য পথে, কালের বুকে ক্ষত,

জমিন উগরাবে তার বোঝা, গোপন যত কথা যত।

মানুষ দাঁড়াবে সারি সারি, নিঃসহায় নিরাভরণ,

ডাক আসবে রবের দরবারে—“এসো, দাও হিসাব-পণ।”

যার ডান হাতে আমলনামা, মুখে হাসি, চোখে আলো,

সহজ হিসাব, শান্ত পরিণাম—রহমতেরই ভালো।

সে ফিরবে আপন পরিবারে, বিজয়ীর আনন্দভরে,

কঠিন দিনে করা সিজদা ফল দেবে স্বর্ণধরে।

আর যাকে দেওয়া হবে বই পিঠের পেছন-পানে,

ধ্বংস সে ডাকবে আর্তনাদে—হায়! কী লজ্জা প্রাণে!

আগুনের পথে ঠেলে দেবে তারই কৃত আচরণ,

ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিল যে, আজ সে নিঃস্ব, শূন্য মন।

সে ভাবত, আর ফিরব না আমি রবের আদালতে,

ভুলে গিয়েছিল—সবই দেখা হয় সর্বদ্রষ্টার চোখেতে।

হে মানুষ! আজই ফিরে এসো, সময় এখনো যায়,

আমলের খাতায় লেখো আলো—অন্ধকার নয় চাই।

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে সত্যের মহারণে,

ডান হাতে আমলনামা পাওয়াই মুক্তি—এ কথা রেখো মনে।

****

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে রবের হুকুমে মহা,

ভেঙে পড়বে নীলের গম্বুজ, থামবে গর্বের গাঁথা।

নক্ষত্রেরা ঝরবে সেদিন শূন্য পথের ধূলায়,

কাল কেঁপে উঠবে আতঙ্কে, সত্য নামবে মূলে-ফুলায়।

সেই দিনটির ভয়াল বার্তা আজই শোন হে প্রাণ,

ঘুম ভাঙাও আত্মার চোখে, জাগাও ইমান।

এ দুনিয়া ক্ষণিক ছায়া, হিসাব তার পিছে,

চিরদিনের জীবন অপেক্ষা করে ওপার প্রান্তে।

যখন আসমান ছিন্নভিন্ন হবে বিধাতার ডাকে,

নত হবে সে বাধ্য হয়ে তার প্রতিপালককে মেনে রাখে।

যে আসমান ছায়া দিয়েছিল যুগ যুগ ধরে,

সে-ই আজ ফেটে পড়বে ভয়ে সত্যের প্রহরে।

যখন জমিন উগরে দেবে তার গোপন সব ভার,

কবর ফেটে উঠবে একে একে, খুলবে ইতিহাসের দ্বার।

লুকানো কান্না, চাপা পাপ, নীরব সাধনার ফল,

সবই ভেসে উঠবে তখন—কিছুই নয় অচল।

মানুষ দাঁড়াবে সারি সারি, নিঃসহায়, নগ্ন প্রাণ,

না থাকবে কোনো ক্ষমতা, না থাকবে কোনো মান।

পিতা ভুলবে সন্তানকে, বন্ধু ভুলবে বন্ধুজন,

সবার চোখে এক প্রশ্ন—আজ কে আমার আপন?

ডাক আসবে রবের দরবারে বজ্রনিনাদ ভরে,

“এসো আমার আদালতে, হিসাব দাও কাজের তরে।”

কাঁপবে হাঁটু, শুকাবে গলা, থমকে যাবে বাক্‌,

আজ আর কাজ দেবে না কিছু—ধন, মান, রাজ্য, লাক্‌।

যার ডান হাতে দেওয়া হবে তার আমলের বই,

মুখে ফুটবে প্রশান্ত হাসি—সে জানে, সে মুক্তই।

সহজ হিসাব, কোমল বিচার, রহমতের আবরণ,

অশ্রু ঝরবে শুকরিয়ায়—“হে রব, তুমি মহান।”

সে বলবে, “নাও পড়ো সবাই, দেখো আমার বই,

ভয় ছিল মনে দুনিয়াতে, আজ সে ভয়ই নেই।”

পরিবারে ফিরবে সে আবার জান্নাতের পথে,

পৃথিবীর দুঃখ ভুলে যাবে রহমতের স্রোতে।

চতুর্থ দৃশ্য : পিঠের পেছনে আমলনামা

আর যাকে দেওয়া হবে বই পিঠের পেছন পানে,

সে চিৎকারে ডাকবে ধ্বংস—হায়, কী লজ্জা প্রাণে!

বলবে, “হায় যদি মাটিতে মিশে যেতাম আজ,

হায় যদি জানতাম আগেই, ফিরতাম সত্যের রাজ!”

আগুনের দিকে ধাবিত হবে নিজেরই কর্মফলে,

হাসি-উল্লাসে মত্ত ছিল যে, আজ সে নিঃস্ব জ্বলে।

দুনিয়াতে যে ভাবত—“আর ফেরা নেই প্রভুর ঘরে”,

আজ সে দেখবে—রব ছিলেন সদা চোখে চোখে।

সে বলবে, “হায়! আমি ছিলাম পরিবারে মত্ত,

খেলাধুলা, ভোগ-বিলাসে কাটালাম জীবন যত।

ভাবিনি একদিন দাঁড়াব হিসাবের কাঠগড়ায়,

আজ আমারই আমল আমায় শৃঙ্খলে বাঁধায়।”

কিন্তু আজ আর ফিরবার পথ নেই কোনোখানে,

কাজের সময় শেষ হয়েছে—ফল ভোগ এখন মানে।

পাপের বোঝা টেনে নেবে আগুনের তলে,

একটি সিজদা করলে আজও বাঁচা যেত বলে।

হে মানুষ! এখনো সময় আছে, চোখ খোলো আজ,

আমলের খাতায় লেখো আলো, মুছে ফেলো লাজ।

ডান হাতে বই পাওয়ার আশায় করো প্রস্তুতি,

তাকওয়া, ইখলাস, সৎকর্মই একমাত্র মুক্তি।

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে সত্যের মহারণে,

কেউ পাশে দাঁড়াবে না তখন—থাকবে তুমি ও তিনি।

আজই ফিরো প্রভুর পথে, আজই করো পণ,

যাতে হাসিমুখে পাও আমলনামা ডান হাতের কণ্ঠন।

সূরা আল-ইনশিকাক ডাকে যুগে যুগে বারবার,

“হে মানুষ! রবের দিকে ফিরে এসো আর।”

বিদীর্ণ আসমানের আগে বিদীর্ণ করো অহংকার,

যাতে হাশরের দিন তুমি হও মুক্তির অধিকার।

***

মানুষের জীবন কেবল দুনিয়ার সীমায় আবদ্ধ নয়।

একটি নির্ধারিত দিনে এ জগতের পর্দা ছিন্ন হবে,

আসমান বিদীর্ণ হবে, জমিন উগরে দেবে তার বোঝা,

আর মানুষ দাঁড়াবে তার রবের সামনে হিসাবের জন্য।

সূরা আল-ইনশিকাক সেই অনিবার্য দিনেরই

ভয়াল ও শিক্ষণীয় চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে।

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে রবের আদেশে মহা,

নত হবে সে বাধ্য হয়ে, ভাঙবে অহংকারের গাঁথা।

যে আসমান ছায়া দিয়েছিল যুগের পর যুগ,

সেই আসমান ফেটে পড়বে সত্যের বজ্রযুগ।

নক্ষত্র ঝরবে শূন্য পথে, থামবে কালের গতি,

প্রভুর ডাকে সাড়া দেবে সৃষ্টি-জগতের প্রতিটি কণা-পতি।

 

যখন জমিন উগরে দেবে তার গোপন সব ভার,

কবর ফেটে উঠবে একে একে, খুলবে আমলের দ্বার।

চাপা কান্না, লুকানো পাপ, নীরব সিজদার ফল,

সবই প্রকাশ পাবে তখন—কিছুই থাকবে না অচল।

মানুষ দাঁড়াবে সারি সারি, নিঃসহায় নিরাভরণ,

না থাকবে ধন, না থাকবে মান, না চলবে আত্মগর্বন।

ডাক আসবে রবের দরবারে—“এসো, দাও হিসাব,”

আজ আর কাজে আসবে না কোনো পরিচয় বা নসব।

পিতা ভুলবে সন্তানকে, বন্ধু ভুলবে বন্ধুজন,

নিজের আমল ছাড়া তখন থাকবে না কিছুই আপন।

যার ডান হাতে দেওয়া হবে তার আমলের বই,

সহজ হিসাব, কোমল বিচার—সে জানে, সে মুক্তই।

মুখে ফুটবে প্রশান্ত হাসি, চোখে শুকরিয়ার জল,

রহমতের ছায়ায় ঢেকে যাবে দুনিয়ার সব ক্লান্ত ফল।

“নাও পড়ো সবাই, দেখো আমার লিখন,

আমি জানতাম একদিন হবো রবের সম্মুখীন জন।”

সে ফিরবে তার পরিবারে জান্নাতের আনন্দ ভরে,

দুনিয়ার কষ্ট ভুলে যাবে চিরশান্তির তরে।

আর যাকে দেওয়া হবে বই পিঠের পেছন পানে,

সে আর্তনাদে ডাকবে ধ্বংস—হায়, কী লজ্জা প্রাণে!

বলবে—“হায়! যদি মাটিতে মিশে যেতাম আজ,

হায়! যদি মানতাম আগেই প্রভুর সত্যের রাজ।”

আগুনের দিকে ধাবিত হবে নিজেরই কর্মফলে,

ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিল যে, আজ সে নিঃস্ব জ্বলে।

সে ভাবত—ফেরা নেই রবের আদালতে,

আজ সে জানবে—সবই লেখা ছিল সর্বদ্রষ্টার চোখেতে।

হে মানুষ! এখনো সময় আছে, ফিরো আজই পথ,

আমলের খাতায় লেখো আলো, ত্যাগ করো সব অনর্থ।

তাকওয়া, ইখলাস, সৎকর্মে গড়ো জীবনের মান,

ডান হাতে বই পাওয়াই যে চিরমুক্তির প্রমাণ।

সূরা আল-ইনশিকাক আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—

এই জীবন পরীক্ষা, আর আখিরাত ফলপ্রাপ্তির ক্ষেত্র।

যেদিন আসমান বিদীর্ণ হবে সত্যের ঘোষণায়,

সেদিন সফল সেই, যে আজই নিজেকে সংশোধনায় আনে।

মন্তব্য করুন