সহকারী শিক্ষক
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৫৬ অপরাহ্ণ
মধুপুর জাতীয় উদ্যান পরিচিতি
মধুপুর জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ শালবন, যা ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৮২ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রায় ১২৫ কিমি উত্তরে অবস্থিত, যার আয়তন প্রায় ৮,৪০০ হেক্টর। উদ্যানটিতে শাল প্রধান গাছ হলেও, এখানে মুখপোড়া হনুমান, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, বিভিন্ন ধরনের পাখি (যেমন কাঠ ময়ূর, বন মোরগ) ও সরীসৃপসহ নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। বংশী নদী এর দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এবং গারো, কোচসহ নানা আদিবাসী সম্প্রদায় এখানে বসবাস করে।
মধুপুর উপজেলা
মধুপুর উপজেলা
+5
অবস্থান ও পরিচিতি:
অবস্থান: টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায়, ঢাকা থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার উত্তরে।
প্রতিষ্ঠা: ১৯৬২ সালে বন বিভাগ আওতাভুক্ত হয় এবং ১৯৮২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়।
আয়তন: প্রায় ৮,৪০০ হেক্টর (৮,৪৩৬ হেক্টর)।
বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম শালবনগুলোর মধ্যে একটি।
মধুপুর উপজেলা
মধুপুর উপজেলা
+5
ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:
বনভূমি: প্রধানত শালবন, যা বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ ও পাহাড়ি বনাঞ্চলের পর তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন।
নদী: বংশী নদী এই উদ্যানের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
ভূমি: মূলত সমতল ভূমি ও বনভূমির মিশ্রণ, যা একসময় ঘন বন ছিল।
জীববৈচিত্র্য:
উদ্ভিদ: প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতি হলো শাল (Shorea robusta)। এছাড়াও দেশি ফলদ গাছের বাগান করা হয়েছে।
প্রাণী: প্রায় ১৭৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী (যেমন হনুমান, মায়া হরিণ, বন্য শূকর), ৭ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪ প্রজাতির উভচর এবং ৩৮ প্রজাতির পাখির আবাসস্থল।
উল্লেখযোগ্য প্রাণী: মুখপোড়া হনুমান, চিত্রা ও মায়া হরিণ, পেঁচা, কাঠ ময়ূর, বন মোরগ, লাল মুখ বানর ইত্যাদি।
পর্যটন ও অন্যান্য তথ্য:
পর্যটন: প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।
প্রশাসন: টাঙ্গাইল বন বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়।
আদিবাসী সম্প্রদায়: উদ্যানের ভেতরে ও আশেপাশে গারো, কোচসহ বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস।
প্রবেশ: বনে প্রবেশের জন্য রেঞ্জ অফিস (যেমন দোখলা রেঞ্জ) থেকে অনুমতি নিতে হয়।
বন বিভাগের উদ্যোগ:
বন বিভাগ শালবনকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে আগ্রাসী প্রজাতির গাছ (যেমন ইউক্যালিপটাস) অপসারণ এবং দেশি ফলদ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
১৫
২৫ মন্তব্য