Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১০:০০ অপরাহ্ণ

খাঁটি তাওবার আহ্বান - মোঃ মুজিবুর রহমান


খাঁটি তাওবার আহ্বান

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

হে ঈমানের পথিকগণ, ফিরে এসো প্রভুর তরে,

খাঁটি তাওবার অশ্রু ঝরাও অন্তরের গভীর ঘরে।

ভাঙা হৃদয়, নত শিরে বলো—“প্রভু, আমি ভুলে গেছি পথ,”

তাঁর দয়ার সাগর তখন ঢেকে দেবে সব পাপ-ক্ষত।

গুনাহে ভরা এ মানবজীবন—ভুলের শেষ নেই হিসাব,

তবু দয়ালু রব বলেন, “তাওবাই আমার প্রিয়তম বাব।”

যে ফিরে আসে অনুতাপে, অশ্রু দিয়ে লেখে মিনতি,

তার অতীত মুছে যায় যেন ভোরের শিশির-কণা নীতি।

নবীর বাণী গুঞ্জরে ওঠে—

“সব আদমসন্তান গুনাহগার জানো,

তবে গুনাহের মাঝে শ্রেষ্ঠ তারা,

যারা তাওবায় ফিরে আসে প্রাণ ভরানো।”

আরও বলেন প্রিয় রাসূল—

“যে তাওবা করে গুনাহ ছেড়ে,

সে নিষ্পাপ, নবজাত শিশুর মতো,

আলোয় ভরা তার জীবনের ভোরের বেড়ে।”

সেদিন হাশরের ময়দানে যখন কাঁপবে দিগন্ত-আকাশ,

মুমিনদের আলো ছুটে চলবে—ডানে, সামনে প্রকাশ।

তারা বলবে কাঁপা কণ্ঠে, আশা আর ভয়ের মাঝে—

“হে আমাদের রব, আলো পূর্ণ করো, ক্ষমা করো আজে।”

লাঞ্ছিত হবেন না নবী, না তাঁর সাথের ঈমানদার,

নদী-প্রবাহিত জান্নাতে মিলবে শান্তির অবিরাম ধার।

ক্ষমাশীল রব তখন বলবেন—“এসো, ভয় কোরো না আর,”

খাঁটি তাওবার পুরস্কার এ যে, অনন্ত সুখের দ্বার।

 ****

খাঁটি তাওবা

হে ঈমানদার, ফিরে এসো প্রভুর পথে আজ,

ভুলের বোঝা নামাও বুকে, ভাঙো গুনাহর কাজ।

খাঁটি তাওবা ডাকছে তোমায়—নিঃশব্দ অশ্রু ঢালো,

ক্ষমার দুয়ার খোলা আছে, দেরি কোরো না কালো।

সব আদম-সন্তান গুনাহে জড়ানো—সত্য বাণী,

নবী বলেছেন, তাওবাকারী শ্রেষ্ঠ মানব-জানী।

যে ফিরে আসে অনুতাপে, অন্তর ভাঙা সুরে,

তার গুনাহ মুছে যায় সব প্রভুর দয়ার জোরে।

গুনাহ ছেড়ে যে তাওবা করে—নবীর স্পষ্ট কথা,

সে নিষ্পাপ শিশুর মতো, মুছে যায় তার ব্যথা।

অতীতের দাগ থাকে না আর হিসাবের খাতায়,

নতুন জীবন শুরু হয় সে রবের রহমত পায়।

হাশরের দিনে মুমিনদের আলো ছুটবে সামনে-ডানে,

ভয়ের মাঠে আশার রেখা জ্বলবে ঈমানের টানে।

তারা বলবে কাঁপা কণ্ঠে—“রব, আলো পূর্ণ করো,

আমাদের সব অপরাধ আজ ক্ষমা করে দাও হে প্রভু।”

নবী ও তাঁর সাথীরা সেদিন হবেন না লাঞ্ছিত,

জান্নাত পাবে নদী-ঘেরা, শান্তি হবে নির্ভীত।

তাওবার পথ যে আঁকড়ে ধরে দুনিয়া থেকে শেষ,

তার জন্যই জান্নাত সাজে—এই আল্লাহর আদেশ।

 ***

খাঁটি তাওবার  ডাক

হে ধূলিধরা পথিক মানব, শোনো রবের ডাক,

ভুলে ভরা এই জীবনে আজ খুলে দাও তাওবার পাক।

পাপের বোঝা ভারী হয়ে নামলো যখন প্রাণে,

দয়ার বৃষ্টি ঝরে তখন “ফিরে এসো”—এই বাণী জানে।

আকাশ-জমিন সাক্ষী থাকে মানুষের কান্না-ডাকে,

ভাঙা অন্তর যখন ডাকে, দয়া নামে প্রভুর আকে।

এই ডাকই তাওবার ডাক, এই পথই মুক্তির দ্বার,

এই পথে হাঁটলে মুছে যায় জীবনের সব অন্ধকার।

**তাওবার আহ্বান***

হে ঈমানদার, ফিরে এসো প্রভুর দিকে আজ,

খাঁটি তাওবা করো হৃদয়ে, ভাঙো গুনাহর সাজ।

লোকদেখানো তাওবা নয়, নয় জিহ্বার ফাঁকা শব্দ,

ভাঙা অন্তর, লজ্জিত প্রাণ—এই তাওবার মূল অর্থ।

আল্লাহ বলেন, “ফিরে এসো, আশা করো ক্ষমা,”

পাপ মোচন আমি করব, দান করব শান্তি-নামা।

নদী-বহমান জান্নাত তরে খুলে দেবো পথ,

যে তাওবার পথে চলবে সে পাবে অনন্ত রথ।

**মানুষ ও গুনাহ**

সব আদম-সন্তান গুনাহে জড়ানো—নবীর কথা,

ভুলের ভারে নুয়ে পড়ে মানুষের নশ্বর ব্যথা।

পাপই মানুষ, মানুষই ভুল—এটাই দুনিয়ার নিয়ম,

কিন্তু দয়ার রব খুলে রেখেছেন ক্ষমার সর্বোত্তম নিয়ম।

গুনাহে পড়ে যে লজ্জিত, ফিরে আসে অনুতাপে,

তার চেয়ে উত্তম বান্দা নেই দয়ার এই পৃথিবীতে।

রাসূল বলেছেন স্পষ্ট করে, দ্বিধা নেই তাতে,

“গুনাহগারদের শ্রেষ্ঠ তারা—তাওবায় যারা আসে।”

**তাওবার মাহাত্ম্য**

যে গুনাহ ছেড়ে তাওবা করে—নবীর বাণী শোনো,

সে নিষ্পাপ শিশুর মতো—এই রহস্য জানো।

তার অতীত মুছে যায় সব হিসাবের খাতায়,

নতুন জীবন লিখে দেয় রব রহমতের পাতায়।

কালো অধ্যায় বন্ধ হয়ে খুলে যায় সাদা দিন,

আকাশে ফেরে আলো, মুছে যায় অন্তরের ঋণ।

তাওবা শুধু ক্ষমা নয়—এ এক নবজন্মের দ্বার,

যেখানে বান্দা ফিরে পায় প্রভুর স্নেহ-অধিকার।

**হাশরের দৃশ্য**

হাশরের দিনে কাঁপবে মাঠ, স্তব্ধ হবে কোলাহল,

প্রাণে প্রাণে ধাক্কা দেবে ভয় আর আশার ফল।

সেই দিনে ঈমানদারদের আলো হবে সহচর,

সামনে-ডানে ছুটবে আলো, ভাঙবে সব অন্তর-অবর।

তারা বলবে কাঁপা কণ্ঠে, অশ্রু ভেজা নয়নে,

“হে আমাদের রব, আলো পূর্ণ করো এ জীবনে।

আমাদের সব অপরাধ আজ ক্ষমা করে দাও,

তুমি সর্বক্ষমতাবান—এই আশ্রয়ই চাও।”

***

নবী ও মুমিনদের মর্যাদা

নবী ও তাঁর সাথীরা সেদিন হবেন না লাঞ্ছিত,

লজ্জার চিহ্ন মুছে যাবে, মুখ হবে আলোকিত।

যে পথে তারা চলেছিল দুনিয়ার অন্ধকারে,

সে পথই আজ জান্নাতমুখী খুলে যাবে সবার তরে।

নদী-বহমান জান্নাতে মিলবে শান্তির বাস,

ক্লান্ত প্রাণ পাবে সেখানে অনন্ত সুখ-আশ্বাস।

এই পুরস্কার তাদেরই জন্য যারা তাওবায় ফেরে,

যারা গুনাহ ছেড়ে দিয়ে রবের পথে হাঁটে ধীরে।

**তাওবার চিরন্তন শিক্ষা**

হে মানব, আজো সময় আছে, বন্ধ হয়নি দ্বার,

আজো ডাকে ক্ষমাশীল রব—“ফিরে এসো বারবার।”

যে তাওবাকে আঁকড়ে ধরে জীবনের শেষ প্রান্তে,

সে-ই সফল, সে-ই মুক্ত, সে-ই নিরাপদ কান্তে।

এই তাওবার পথই আলো, এই তাওবার পথই নূর,

এই পথে হাঁটলে জীবন হয় জান্নাতেরই দূত।

গুনাহে নয়, তাওবায় লেখো জীবনের ইতিহাস,

তাহলেই মিলবে রবের কাছে চিরসুখের আশ্বাস।

মন্তব্য করুন

ব্লগ