Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৮:৪০ অপরাহ্ণ

হাতীর বাহিনী -মোঃ মুজিবুর রহমান



হাতীর বাহিনী

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

তুমি কি দেখোনি, হে চিন্তাশীল প্রাণ,

রবের কুদরতি কেমন ছিল ঘোষণা মহান?

হাতীর অহংকার, শক্তির দম্ভভাষ,

এক ইলাহির ইশারায় ভাঙল সব আশ্বাস।

ষড়যন্ত্র বুনেছিল শক্তির গর্বে তারা,

কাবার আলো নিভাবে—এমন ছিল সারা।

কিন্তু রব কি ছেড়ে দেন জুলুমের পথ?

এক মুহূর্তে ব্যর্থ করলেন সকল ষড়যন্ত্ররত।

আকাশ ভরে উঠল অচেনা ডানার ঢলে,

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এল আল্লাহরই বলে।

ঠোঁটে আর নখে ক্ষুদ্র প্রস্তরকণা,

বৃষ্টির মতো ঝরল, কাঁপল দাম্ভিক সেনা।

না তলোয়ার, না বজ্র, না আগুনের জ্বালা,

তবু ভেঙে গেল শক্তির মিথ্যা জাল।

ভক্ষিত তৃণের মতো চূর্ণ হল দেহ,

ইতিহাসে রইল রবের ক্ষমতার সাক্ষ্য-লেখ।

হে মানুষ, শোন এই নিঃশব্দ আহ্বান,

অহংকার নয়—নম্রতাই মুক্তির জান।

যে রব পাখির ডানায় লেখেন বিজয়গাথা,

তাঁর সামনে নত হও—এই জীবনেরই প্রার্থনা।

 ***

হাতীওয়ালাদের পরিণাম

তুমি কি দেখনি রবের মহা-কার্যরীতি,

হাতীর দম্ভ ভাঙিল এক ইলাহী নীতি।

ষড়যন্ত্র বুনেছিল শক্তির অহংকারে,

মুহূর্তে ব্যর্থ হলো রবের ইশারায় রে।

আকাশ ভরিল পাখির ডানার স্রোতধারা,

ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে এলো আজ্ঞাবহ তারা।

নখে-ঠোঁটে ক্ষুদ্র পাথর আগুনসম,

ঝরিল সেনার উপর অদ্ভুত সে দম।

না ছিল তরবারি, না ছিল আগুন,

তবু চূর্ণ হলো শক্তির গর্বী গুণ।

ভক্ষিত তৃণসম দেহ পড়ে রইল,

রবের কুদরতে ইতিহাস থমকে গেল।

হে মানুষ, শোনো এই সুস্পষ্ট বাণী,

দম্ভে নয়—নম্রতায় মুক্তির নিশানি।

যে রব পাখির ডানায় শাস্তি লেখেন,

তাঁর সামনে নত হও—তবেই পথ দেখেন।

 ***

হাতীওয়ালাদের পতন

(সূরা আল-ফীলের আলোকে

তুমি কি দেখনি রবের মহা-কার্যধারা,

ইতিহাস কাঁপে আজও সেই স্মৃতিসারা।

যে শক্তি দম্ভ করে আকাশ ছোঁয় বলে,

এক ইশারায় রব তা মাটিতে নামালে।

ক্ষমতার গর্জনে কেঁপেছিল প্রান্তর,

হাতীর পদাঘাতে কাঁপত ধূলিধর।

ভাবিল তারা—ভাঙিব কাবার প্রাচীর,

রবের ঘর ভাঙিব—এ কী ভয়ংকর নীর!

**ষড়যন্ত্রের অধ্যায়***

ষড়যন্ত্র বুনে তারা গর্বের জালে,

শক্তির মাপে বিচার সত্যের পাল্লে।

মানুষের চোখে তারা অপ্রতিরোধ্য,

রবের দরবারে সে শক্তি অকিঞ্চিৎ।

হাতীর দলে দলে দাম্ভিক অগ্রযান,

লোহার ন্যায় দৃঢ় তাদের মিথ্যা জ্ঞান।

কিন্তু কে জানে অদৃশ্য বিধান,

যেখানে লেখা থাকে পতনের স্থান।

**রবের ফয়সালা***

রব কি ছেড়ে দেন জুলুমের দল?

এক ইশারায় ভেঙে দেন কৌশল সকল।

আকাশ খুলে গেল অচেনা ঢেউয়ে,

ডানার শব্দে কাঁপল অহংকার ছুঁয়ে।

ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এল রবের হুকুমে,

নাম না জানা সৈন্য সে আকাশভূমে।

নখে-ঠোঁটে বহন ক্ষুদ্র প্রস্তর,

রবের আদেশে সে অস্ত্র ভয়ংকর।

**শাস্তির দৃশ্য**

বৃষ্টি নয়—ঝরিল শাস্তির ধারা,

দাম্ভিক সেনায় পড়িল আঘাত সারা।

না তলোয়ার, না বজ্রের গর্জন,

তবু লুটিল শক্তির সকল অর্জন।

হাতীর চিৎকার, সেনার আর্তনাদ,

মাটিতে মিশিল অহংকারবাদ।

এক প্রস্তরে ভাঙে একেক জীবন,

রবের ফয়সালায় নিখুঁত বিধান।

**পরিণাম**

ভক্ষিত তৃণসম দেহ পড়ে রইল,

সব শক্তির গল্প সেখানে থেমে গেল।

যে ছিল পাহাড়সম দম্ভের চিহ্ন,

মুহূর্তে হলো ইতিহাসে লাঞ্ছন।

কাবা রইল অটল, অক্ষত মহান,

রবের ঘর রক্ষা পায় তাঁরই বিধান।

পৃথিবী জানিল এক চিরন্তন সত্য,

ক্ষমতা নয়—রবই একমাত্র শক্তি।

**উপদেশের অধ্যায়**

হে মানুষ, শোন এই স্পষ্ট ভাষ্য,

দম্ভের পথে নেই মুক্তির আশ্বাস।

যে রব পাখির ডানায় লেখেন শাস্তি,

তাঁর ইচ্ছায় ভাঙে যুগের সব বাস্তবতা।

নম্র হও, ত্যাগ কর অহংকার,

তবেই হৃদয়ে নেমে আসবে নূরের ধার।

ইতিহাস শুধু গল্প নয়, শিক্ষা,

রবের আয়াতে রয়েছে মুক্তির দিশা।

**উপসংহার**

আজও সূরা ফীল দেয় সেই ডাক,

দাম্ভিক শক্তির নেই স্থায়ী থাক।

যে রব রক্ষা করেন দুর্বল ঘর,

তাঁর সামনে নত হও—এই শ্রেষ্ঠ পথর।

মন্তব্য করুন