Loading..

ব্লগ

রিসেট

৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:৪৭ অপরাহ্ণ

খাদীজার জান্নাতি সুসংবাদ মোঃ মুজিবুর রহমান



খাদীজার জান্নাতি সুসংবাদ

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

নবীর দুয়ারে নূরের সওয়ার, জিব্রাঈল এলেন ধীরে,

আকাশ ছাপিয়ে বারতা নিয়ে, রবের অশেষ ঘিরে।

বললেন হে নবী! দেখুন দূরে, যিনি আসছেন স্নিগ্ধ,

খাদীজাহ—বিশ্বাসে অটল, প্রেমে পবিত্র, বিশুদ্ধ।

হাতে তাঁর এক পাত্রখানি, সেবা-ভরা মান,

খাদ্য অথবা পানীয় তাতে—ইখলাসেরই দান।

যখনই তিনি পৌঁছাবেন, দিবেন সালাম আগে,

রবের পক্ষ হতে সালাম—আমার পক্ষও জাগে।

বলবেন তাঁকে, হে সম্মানিতা! শুভ সংবাদ নাও,

জান্নাতে তোমার জন্য গড়া এক মহামূল্য ঠাঁই পাও।

ফাঁপা-মোতির নির্মল ভবন, আলোয় ভরা ঘর,

নেই সেখানে কোলাহল, নেই দুঃখের ভার।

নেই ক্লেশের দীর্ঘশ্বাস, নেই বেদনার ধ্বনি,

শান্তিরই রাজ্য সেখানে—চিরসুখের বাণী।

যে নারী প্রথম বিশ্বাসে দিলেন প্রাণের সাড়া,

তারই জন্য এই পুরস্কার—রবের অশেষ দয়া ভরা।

খাদীজাহ! ধন্য তুমি, ধন্য তোমার পথ,

নীরব ত্যাগে লিখে দিলে ইতিহাসের রথ।

তোমার নামে আজও ঝরে সালামের আলো,

বিশ্বাস, ধৈর্য আর প্রেম—তোমারই অনন্য ভালো।

 ****

খাদীজাহ (রাঃ)

জান্নাতের নীরব ভবন

নাম তাঁর খাদীজাহ—নীরব দীপ্ত নাম,

বিশ্বাসের ইতিহাসে অমলিন অনুপাম।

যে নাম উচ্চারিত হলে কাঁপে মিথ্যার স্তম্ভ,

যার ত্যাগে ভর করে দাঁড়ায় দ্বীনের প্রথম গম্ভ।

নবুয়তের প্রভাতে যখন আঁধার ছিল ঘন,

যখন সত্যের পথে চলা ছিল কণ্টক-বন,

তখন এক নারী নীরবে ধরেছিলেন হাত,

রবের পথে ঢেলে দিয়েছিলেন ধন-প্রাণ-প্রতাপ।

**জিব্রাঈলের আগমন**

নবীর দুয়ারে নেমে এলো আসমানি জ্যোতি,

ডানায় ভর করে এলেন ওহীর বিশ্বস্ত দূতী।

জিব্রাঈল—আমানতের ভারে স্থির,

রবের বাণী বয়ে আনেন, সত্যে অটল, ধীর।

বললেন, “হে রাসূল! দেখো দূরের পথ,

আসিতেছেন খাদীজাহ—ঈমানের রথ।

হাতে তাঁর পাত্রখানি, সেবার পরিচয়,

তরকারী বা পানীয়—ইখলাসে ভরা হয়।”

নেই তাতে লোকদেখানো, নেই জাহিরি জৌলুস,

আছে শুধু ভালোবাসা, ত্যাগের নিরব কুলুস।

এই পাত্রে মিশে আছে রজনীর দু’চোখ,

উম্মাহর ভবিষ্যৎ, নবীর প্রথম আশ্রয়লোক।

**সালামের বার্তা***

“যখনই তিনি পৌঁছাবেন,” দূত বলিলেন ধীরে,

“তখনই তাঁকে জানিও সালাম সাগ্রহে, স্নিগ্ধ নীরে।

তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে সালাম জানাও,

আর আমার পক্ষ থেকেও সালাম পৌঁছে দাও।”

সালাম—যা শুধু বাক্য নয়, শান্তিরই নাম,

যা উচ্চারিত হলে নেমে আসে রবের আরাম।

যে সালাম আসমান পেরিয়ে জমিনে আসে,

যে সালাম নির্বাচিত হৃদয়ে চিরস্থায়ী বাসে।

হে খাদীজাহ! তোমার কানে যে সালাম ধ্বনিবে,

তা কোনো সাধারণ সম্ভাষণ নয়—রব নিজে বলিবে।

**জান্নাতের সুসংবাদ***

“আর বলিও তাঁকে,” জিব্রাঈল কহিলেন দৃঢ়,

“তাঁর জন্য প্রস্তুত জান্নাত—শান্তিতে অচঞ্চল, স্থির।

একটি ভবন, ফাঁপা-মোতির নির্মাণ,

নির্মল, স্বচ্ছ, আলোকোজ্জ্বল, অনন্ত সম্মান।”

নেই সেখানে কোলাহলের ক্ষয়ী শব্দ,

নেই চিৎকার, নেই ব্যথার অনর্থ।

নেই দুঃখের দীর্ঘশ্বাস, নেই ক্লেশের ভার,

নেই অশ্রুর ইতিহাস, নেই হাহাকার।

কারণ—যে জীবনে নীরবে সহ্য করেছে ব্যথা,

রব তাঁর জান্নাতে রাখেন চিরনীরবতা।

যে জীবনে ত্যাগ ছিল শব্দহীন সাধনা,

তার পুরস্কার হয় শান্তির সিংহাসনা।

তিনি ছিলেন না শুধু এক স্ত্রী,

ছিলেন নবুয়তের প্রথম আশ্রয়ভূমি।

যেদিন সবাই বলেছিল—“তিনি একা”,

সেদিন খাদীজাহ বলেছিলেন—“রব আছেন, ভয় কা?”

ধন ঢেলে দিলেন দ্বীনের পথে,

প্রাণ ঢেলে দিলেন নবীর সাথে।

নিজে ক্ষুধার্ত, তবু হাসিমুখ,

নিজে নিঃস্ব, তবু হৃদয় সুখ।

কেউ দেখেনি তাঁর চোখের জল,

কেউ শোনেনি রাতের নিঃশব্দ কল।

রব দেখেছেন—এই যথেষ্ট,

তাই তো আজ এই সম্মান অশেষ।

হে যুগের নারী, হে ঈমানদার হৃদয়,

খাদীজাহর পথে রয়েছে মুক্তির পরিচয়।

নীরব ত্যাগ বৃথা যায় না কখনো,

রব নিজে তার হিসাব রাখেন গোপনে, গহনো।

যে ঘর দুনিয়ায় ছিল কষ্টে ভরা,

জান্নাতে তারই ঘর হয় শান্তির ধারা।

যে জীবনে ছিল না বিশ্রামের গান,

আখিরাতে তার জন্য নীরব প্রশান্তি দান।

খাদীজাহ! তোমার নামে আজও ঝরে সালাম,

আসমান-জমিনে উচ্চারিত হয় সম্মান।

নবীর মুখে যে সুসংবাদ উঠেছিল ধ্বনি,

তা আজও কাঁপায় উম্মাহর বিশ্বাস-বাণী।

জান্নাতের সেই নীরব ভবন—

শান্তির চূড়া, ত্যাগের ফলন।

রব যাকে ভালোবাসেন নীরবে,

তাকেই তিনি ডাকেন এমন গৌরবে।

 ****

খাদীজাহ (রাঃ)

নীরব ত্যাগের জান্নাতি ভবন

বিশ্বাসের ভোরে জ্বলে যে প্রদীপ,

নাম তার খাদীজাহ—নীরব, দীপ।

ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সত্যের পথে,

যার ত্যাগ ছিল অটল রথে।

কথা কম, কাজ গভীর,

ধৈর্য যার ছিল অচঞ্চল, স্থির।

রবের দরবারে যার নাম,

লেখা হলো সম্মানের কাম।

নবীর গৃহে ওহীর আলো,

নীরবতায় ভরা মহাকাল।

হঠাৎ আসমান ফেঁড়ে নেমে,

নূরের দূত এলেন থেমে।

ডানা মেলে দাঁড়ালেন যিনি,

আমানতের ভারে অবিচল তিনি।

জিব্রাঈল কহিলেন বাণী,

রবের নির্দেশ—চিরকল্যাণী।

“হে রাসূল, দেখো সে পথ,

আসিতেছেন ঈমানের রথ।

খাদীজাহ—ত্যাগের নাম,

হাতে তাঁর সেবার পাত্রখানি ধাম।”

পাত্রে নেই অহংকারের ছাপ,

নেই লোকদেখানো দানের মাপ।

খাদ্য, তরকারী বা পানীয়,

ইখলাসে ভরা—অতি দামী।

এই পাত্রে মিশে আছে,

নবুয়তের প্রথম সাহস।

এই পাত্রে জমা হয়েছে,

রাতের অশ্রু, দিনের শ্বাস।

নিঃশব্দ সেবার এই চিহ্ন,

রবের কাছে অমূল্য ঋণ।

দূত বলিলেন, “যখন তিনি

পৌঁছাবেন নবীর সন্নিধি,

তখন তাঁকে সালাম জানিও,

রবের পক্ষ হতে তা শোনাও।”

“আর আমার পক্ষ থেকেও সালাম,

পৌঁছে দিও সম্মানের দাম।”

সালাম—শুধু শব্দ নয়,

শান্তির দরজা খুলে দেয় রয়।

যে সালাম আসে আসমান হতে,

তা হৃদয় ভরে প্রশান্তি বটে।

“আর তাঁকে বলিও—সুসমাচার,

জান্নাতে তাঁর জন্য প্রস্তুত ঘর।

ফাঁপা-মোতির নির্মল ভবন,

আলোয় ভরা—চিরসুখের ধন।”

নেই সেখানে কোলাহলের রোল,

নেই দুঃখের কোনো কোলাহল।

নেই ক্লেশ, নেই দীর্ঘশ্বাস,

নেই বেদনার করুণ আভাস।

কারণ—যে জীবনে নীরব সহন,

তার প্রতিদান নীরব ভবন।

তিনি ছিলেন না শুধু সহধর্মিণী,

ছিলেন নবুয়তের প্রথম যোদ্ধিনী।

যেদিন সবাই ফিরাল মুখ,

তিনি বললেন—“আপনি সত্য, অটল সুখ।”

ধন ঢেলে দিলেন দ্বীনের পথে,

প্রাণ ঢেলে দিলেন নবীর সাথে।

নিজে কষ্টে, তবু অটল,

বিশ্বাসে যার হৃদয় বল।

রব দেখেছেন সেই ত্যাগ,

তাই দিলেন জান্নাতি ভাগ।

হে ঈমানদার, শিক্ষা নাও,

নীরব ত্যাগ বৃথা যায় না কাও।

মানুষ না দেখুক, রব দেখেন,

গোপন আমল তিনিই লেখেন।

যে ঘর দুনিয়ায় ছিল কষ্ট,

আখিরাতে তারই শান্তি শ্রেষ্ঠ।

যে পথে ছিল কাঁটা আর ধূলা,

শেষে সে পথ জান্নাতের ফুলা।

খাদীজাহ—নীরব দীপ্ত নাম,

রবের দরবারে চিরসম্মান।

নবীর মুখে যে সালাম ধ্বনি,

আজও তা জাগায় ঈমানি বাণী।

নেই শব্দ, নেই দুঃখের রোল,

জান্নাতে তাঁর শান্তির কোল।

এই হলো ত্যাগের পরিণাম,

এই হলো খাদীজাহ—চিরমর্যাদার নাম।

 

সূত্র: সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন)  ৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار) - 63/ Merits of the Helpers in Madinah (Ansaar)

 ৩৮২০

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ