সহকারী শিক্ষক
০১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:১০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
🌄 খাগড়াছড়ি জেলা: পাহাড়, নদী আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনস্থল
খাগড়াছড়ি জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পার্বত্য জেলা, যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য এবং পর্যটন আকর্ষণের জন্য বিখ্যাত। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার একটি।
অবস্থান: ২২°৩৮´ থেকে ২৩°৪৪´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৪৪´ থেকে ৯২°১১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
আয়তন: প্রায় ২,৬৯৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার।
সীমানা: উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম, পূর্বে রাঙামাটি, পশ্চিমে চট্টগ্রাম ও ভারতের ত্রিপুরা।
পাহাড়সমূহ: গলামুন, ছোট পানছড়ি, কারমি মুড়া, লুটিবান, কুরাদিয়া, ভাঙ্গামুরা ও জপিসিল পাহাড়।
নদী: মাইনি ও চেঙ্গী নদী জেলার প্রধান নদী।
পর্যটন আকর্ষণ:
আলুটিলা গুহা
রিসাং ঝর্ণা
দীঘিনালা ঝর্ণা
কংলাক পাহাড়
সাজেক ভ্যালি (আংশিক খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত)
প্রতিষ্ঠা: ৭ নভেম্বর ১৯৮৩ সালে জেলা হিসেবে গঠিত।
উপজেলা: ৯টি — খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, মানিকছড়ি, রামগড়, গুইমারা।
সংসদীয় আসন: ২৯৮ নম্বর আসন।
জনসংখ্যা (২০২২): প্রায় ৭,১৪,১১৯ জন।
আদিবাসী জনগোষ্ঠী: চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা প্রভৃতি।
ধর্ম: মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বহুমাত্রিক ধর্মীয় বৈচিত্র্য।
ভাষা: বাংলা ছাড়াও চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ভাষা প্রচলিত।
কৃষি: জুম চাষ প্রধান।
হস্তশিল্প: বাঁশ, বেত, কাঠের কাজ ও বুনন শিল্প।
পর্যটন: জেলার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।
সাক্ষরতার হার: প্রায় ৪৪.০৭%।
প্রতিষ্ঠান: সরকারি কলেজ, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আদিবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
খাগড়াছড়ি জেলা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য ভাণ্ডার। পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি একত্রে গড়ে তুলেছে এক অনন্য খাগড়াছড়ি। এটি শুধু পর্যটনের নয়, বরং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক।
১৫
২৫ মন্তব্য