Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:২৮ অপরাহ্ণ

রাজত্বের মালিক মোঃ মুজিবুর রহমান

  রাজত্বের মালিক

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক,

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

 

বল—হে আল্লাহ, রাজত্বের অধিপতি তুমি,

মুকুট তুমি দাও, কেড়ে নাও ক্ষণভূমি।

যাকে চাও উঁচু কর, যাকে চাও নামাও,

সম্মান–অপমান—তোমারই বিধানাও।

তোমার হাতে কল্যাণ, অশেষ ভাণ্ডার,

এক ইশারায় বদলায় যুগের আচার।

ক্ষমতার চূড়ায় বসাও যাকে চাও তুমি,

আবার ধূলিতে নামাও—নয় কারোই ভুমি।

রাত ঢুকে যায় দিনের আলোকধারায়,

দিন মিশে যায় রাতের নীরব আঁধারায়।

তুমি খেলাও সময়, ঘড়ির কাঁটা নয়,

তোমার হুকুমে চলে সূর্য–চন্দ্রলোক সবই হয়।

মৃত থেকে জীবন তুলি, জীবনে দাও মৃত্যু,

একই আদেশে গড়ে ভাঙে সৃষ্টির চিত্রটি।

কে বলে শক্তি কার, কে বলে দুর্বলতা,

তোমার ইচ্ছায় বদলায় সব পরিচয়তা।

যাকে চাও দাও রিযিক—বিনা হিসাব,

দয়ার সাগরে ডুবে যায় দুঃখের জবাব।

হে পরম ক্ষমতাবান, হে মহান রব,

সব কিছুর উপর তোমারই তো কর্তৃত্ব সব।

 ****

রাজত্বনামা

বল—হে আল্লাহ! রাজাধিরাজ তুমি,

সময়ের সিংহাসনে একক অধিপতি তুমি।

নেই কারো ক্ষমতা, নেই কারো দাবি,

তোমার ইচ্ছায় লেখা জগতের সবই।

যাকে চাও দাও তুমি সোনালি মুকুট,

যার কপালে লেখো—সে-ই হয় সম্রাট।

আবার এক ইশারায় কেড়ে নাও রাজ্য,

ভেঙে যায় অহংকার, চূর্ণ হয় লাজ্য।

মাটির মানুষ বলে—আমিই শক্তিমান,

ভুলে যায় সে যে তুমি সর্বশক্তিমান।

ক্ষমতার মঞ্চে বসে যে গর্বে ফুলে,

তোমার হুকুমে সে-ই পড়ে ধুলোমূলে।

যাকে চাও সম্মান দাও, উঁচু মর্যাদা,

তার নাম জ্বলে ওঠে ইতিহাসের পাতা।

আবার যাকে চাও করো লাঞ্ছিত, নত,

তার সব কৃতিত্ব হয় বিস্মৃত, পতিত রথ।

নয় ধনেই সম্মান, নয় বাহিনীবলে,

সম্মান তো আসে শুধু তোমারই ফলে।

আর অপমান আসে যখন তুমি চাও,

রাজাও তখন ভিখারি—ইতিহাসে গাঁও।

তোমার হাতেই কল্যাণ, অশেষ ভাণ্ডার,

কৃপায় ভরে ওঠে শূন্য মরুভূমি পার।

যা ভালো, যা সুন্দর, যা সত্য, যা ধ্রুব,

সবই আসে তোমার কাছ থেকে অবিকল, অবলুপ্ত।

মানুষ বলে—এটা আমার অর্জন,

ভুলে যায় সে—তুমি দিলে সাধন।

এক বিন্দু কৃপা না হলে, হে রব্বুল আলামিন,

কিছুই হয় না—নেই কোনো অর্জন।

রাত ঢুকে যায় দিনের বুকের ভেতর,

দিন হারায় নিজেকে রাতের অন্দর।

আলো–অন্ধকারের এই মহাস্রোত,

তোমার হুকুমে ঘোরে অনন্ত চক্রপথ।

ঘড়ির কাঁটা নয়, সূর্য নয় চালক,

তুমি সময়, তুমি নিয়ম, তুমি নিয়ামক।

যুগ আসে যায়, সভ্যতা ভাঙে গড়ে,

তোমার আদেশে ইতিহাসের ঢেউ মোড়ে।

মৃতের ভেতর থেকে জাগাও প্রাণ,

শুষ্ক বীজে ফোটাও সবুজ গান।

আবার জীবনের বুক চিরে দাও মৃত্যু,

নীরব হয়ে যায় কোলাহলের চিত্র।

কে বলবে জীবন তার নিজের হাতে?

কে ঠেকাবে মৃত্যু তোমার পথে?

একই আদেশে সৃষ্টি, একই আদেশে শেষ,

তুমি আল-হাই, তুমি আল-মুমিত—এ একক দেশ।

যাকে চাও দাও রিযিক—বিনা হিসাব,

আকাশ খোলে তার জন্য দয়ার দরজাব।

পরিশ্রম আছে, তবু ফল তোমার দান,

তুমি না চাইলে বৃথা সব আয়োজন।

কেউ পায় কম, কেউ পায় অঢেল,

তোমার হিকমাহ গোপন, অগম্য কৌশল।

রিযিক শুধু ধন নয়—শান্তি, ঈমান,

তোমার কৃপায়ই পূর্ণ হয় মানুষের প্রাণ।

হে মানুষ! অহংকার ভেঙে ফেল আজ,

রাজত্ব চিরস্থায়ী নয়—এ ক্ষণিক সাজ।

যে ক্ষমতা নিয়ে গর্ব করছ তুমি,

কাল তা থাকবে না—ইতিহাস সাক্ষী।

তাই মাথা নত করো এক মালিকের কাছে,

যার হাতে সব ক্ষমতা, সবই যার ইচ্ছায় বাঁচে।

তারই ইবাদতে শান্তি, তারই স্মরণে মুক্তি,

তার দরজায় ফিরে এলে মুছে যায় সব ভ্রান্তি।

হে রাজত্বের মালিক, হে পরম রব,

আমাদের অন্তরকে করো বিনয়ী সব।

সম্মান দাও ঈমানে, অপমান দাও নাফসে,

রাখো আমাদের তোমার সন্তুষ্টির পাশে।

রাত–দিনের আবর্তনে, জীবন–মৃত্যুর পথে,

আমাদের রেখো তোমার হেফাজতের হাতে।

নিশ্চয়ই তুমি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান,

তোমারই রাজত্ব—আজ, কাল, অনন্তকাল জান।

 

মন্তব্য করুন