সহকারী অধ্যাপক
০১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ণ
তাওহীদের অঙ্গীকার - মোঃ মুজিবুর রহমান
তাওহীদের অঙ্গীকার
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক,
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জেনে–শুনে কাউকে করো না সমকক্ষ তাঁর,
তিনি এক, তিনি অদ্বিতীয়—সকল জগতের সার।
আকাশ–পৃথিবী, আলো–বাতাস, দিন–রাত্রির ধারা,
সবকিছুর রব তিনি এক—নেই দ্বিতীয় কারা।
কীভাবে তুলবে সমকক্ষ তাঁর মহান আসনে?
যিনি লালন করেন বিশ্ব, দয়া রাখেন শ্বাসে–প্রশ্বাসে।
তিনি তো রব্বুল ‘আলামীন—সবার প্রতিপালক,
তাঁর সঙ্গে শরীক কল্পনা—ঘোর অন্ধকার পথচালক।
যারা আল্লাহর সাথে ডাকে অন্য ইলাহ্ নাম,
তারা হারায় সত্যের পথ, ডুবে যায় ভ্রান্তির ধাম।
নবীদের কাছে ওহী এলো স্পষ্ট ভাষায়,
শিরক করলে সব আমল যায়—ভস্ম হয়ে যায়।
ইবাদাত করো শুধু তাঁকেই—এটাই চূড়ান্ত সত্য,
শুকরগুজার হও হৃদয়ে—এটাই বান্দার কর্তব্য।
কারণ শিরকই সে গুনাহ, সবচেয়ে ভয়াবহ,
যার ভারে ডুবে যায় মানুষ—পথ হয় নিষ্ফল, দগ্ধ।
নবীজীকে প্রশ্ন করা হলো—কোন গুনাহ্ বড়?
তিনি বললেন—আল্লাহর সাথে শরীক করা—এটাই সর্বোচ্চ অপরাধের ঘর।
যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন নিজ কুদরতে,
তাঁরই সাথে শরীক কল্পনা—কী ভীষণ অবজ্ঞাতে!
এরপর সন্তান হত্যা—ভয়ের অজুহাতে,
রিযিকের মালিক ভুলে গিয়ে ভয় পাও নিজের হাতে।
তারপর প্রতিবেশীর স্ত্রী—পবিত্রতার লঙ্ঘন,
নৈতিকতার মৃত্যু সেখানে, সমাজের হয় পতন।
হে মানুষ! শোনো সতর্ক বাণী কুরআনের ডাক,
তাওহীদ আঁকড়ে ধরো দৃঢ়—এটাই মুক্তির পাক।
এক আল্লাহ, এক ইবাদাত, এক জীবনপথ,
এই সত্যে যে অটল থাকে—সে-ই সফল যথার্থ।
****
শোনো মানব! থামো ক্ষণ, হৃদয় খুলে শোনো বাণী,
আসমান থেকে নেমে আসা চিরন্তন কুরআনী।
যে বাণী ভাঙে অহংকার, গড়ে ঈমানের ঘর,
যে বাণী বলে—আল্লাহ এক, নেই তাঁর সমকক্ষ আর।
জেনে–শুনে কাউকে করো না তাঁর সমকক্ষ স্থান,
তিনি এক, তিনি অদ্বিতীয়—সর্বজগতের প্রাণ।
যার হাতে আকাশ গড়া, যার হাতে ধরার মাটি,
তাঁর পাশে কাকে বসাও—কী ভীষণ অজ্ঞতা কি!
তিনি তো রব্বুল ‘আলামীন—জগতের প্রতিপালক,
তাঁর দয়ায় বাঁচে সৃষ্টিজগৎ, চলে সময়চক্রচালক।
তবু মানুষ প্রশ্ন তোলে—“আর কাউকে মানি?”
এ প্রশ্নেই ডুবে যায় সে, হারায় চিরস্থায়ী বাণী।
কীভাবে তুলবে সমকক্ষ তাঁর মহান সিংহাসনে?
যিনি আলো জ্বালান সূর্যে, জীবন দেন নিশ্বাসে।
পাথর, মানুষ, ক্ষমতা—সবই তো সৃষ্ট বস্তু,
সৃষ্টের সাথে স্রষ্টাকে মেলানো—ঘোরতম ভ্রষ্টতা।
যারা আল্লাহর সাথে ডাকে অন্য ইলাহ্ নাম,
তারা সত্য ছেড়ে বেছে নেয় ভ্রান্তির অন্ধ গ্রাম।
তাদের ইবাদাত ভাসে না আরশের দরজায়,
কারণ শিরকের দেয়াল দাঁড়ায় দোয়ার মাঝখানে বাধায়।
ওহী নেমেছে নবীদের বুকে বজ্রসম ঘোষণা,
“শরীক করলে আমল সব হবে ভস্মসম।”
হে নবী! যদি শিরক কর—(অসম্ভব সেই কাজ),
তবু শিক্ষা দিতে বলা—আমল হবে সব বিনাশ।
এ সতর্কতা শুধু নবীর জন্য নয়,
এ বাণী প্রতিটি হৃদয়ের জন্য নির্ভয়।
শিরক এমন আগুন যে ঈমান পুড়িয়ে খায়,
সারাজীবনের সাধনাও মুহূর্তে নিঃশেষ হয়।
না—বরং আল্লাহরই ইবাদাত করো একান্তে,
শুকরগুজার হও হৃদয়ে, কাজে ও বাক্যে।
কারণ ইবাদাত মানে নয় শুধু সিজদার ভাঁজ,
জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টির খোঁজ।
যে তাঁকে এক মানে দৃঢ়, সে কখনো একা নয়,
তার সাথে থাকে ফেরেশতা, তার পথ হয় আলোকময়।
আর যে শিরকের আঁধারে সত্যকে ঢাকে,
সে আলো দেখেও অন্ধ থাকে—নিজেকেই ফাঁকি রাখে।
প্রশ্ন করা হলো নবীকে—হে রহমতের বার্তা,
আল্লাহর কাছে কোন গুনাহ সবচেয়ে ভারী পাথরসম ভারতা?
তিনি বললেন—আল্লাহর সাথে শরীক করা,
অথচ তিনিই তোমার স্রষ্টা—এ কী ভয়ংকর অবজ্ঞা!
এই গুনাহ এমন যে ভিত্তি কাঁপায় ঈমানের,
এই গুনাহ এমন যে বন্ধ করে দেয় ক্ষমার দ্বার।
যে স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে সৃষ্টি পূজে যায়,
সে নিজের হাতে নিজের আখিরাত ধ্বংস করায়।
তারপর সন্তান হত্যা—রিযিকের ভয়ে,
রিযিকদাতাকে ভুলে গিয়ে ভয় পায় মানুষ দুনিয়ার মোহে।
কে দেয় রুটি, কে দেয় প্রাণ—এ প্রশ্ন ভুলে যায়,
ভয়ের ছুরিতে নিজ রক্তধারা নিজেই কাটে যায়।
এরপর প্রতিবেশীর স্ত্রী—পবিত্রতার লাঞ্ছনা,
বিশ্বাস ভাঙে, সমাজ ভাঙে, নষ্ট হয় আমানতখানা।
যেখানে লজ্জা মরে যায়, সেখানে ঈমান টেকে না,
যেখানে ব্যভিচার বাড়ে, সেখানে বরকত থাকে না।
হে মানবসমাজ! শোনো তাওহীদের ডাক,
এই এক সত্যেই লুকানো সব মুক্তির পাক।
তাওহীদ গড়ে চরিত্র, তাওহীদ গড়ে দেশ,
তাওহীদ ছাড়া যত সভ্যতা—সবই ক্ষণিক বেশ।
যে আল্লাহকে এক মানে, সে অন্যায় করতে ভয় পায়,
কারণ সে জানে—রব দেখছেন, কিছুই গোপন নয়।
আর যে শিরকের বিষে হৃদয়কে ভরে রাখে,
সে প্রকাশ্যে–গোপনে পাপকে সহজ বলে দেখে।
হে এক ও অদ্বিতীয় রব, হে মহান করুণাময়,
আমাদের হৃদয় রাখো শিরকমুক্ত নির্ভয়।
তাওহীদের আলো দিয়ে আলোকিত করো অন্তর,
মৃত্যু পর্যন্ত রাখো ঈমান অটুট, অবিচল, সুন্দর।
আমাদের ইবাদাত কবুল করো,
আমাদের ভুল ক্ষমা করো,
শরীক থেকে দূরে রাখো—
হে জগতসমূহের প্রতিপালক, আমাদের রক্ষা করো।
১৪
২৪ মন্তব্য