Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ণ

আমার ছেলেবেলা ও সাহিত্য সম্রাট

আমার ছেলে বেলা ও সাহিত্য সম্রাট! 


খুব ছোট বয়সে আমি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে পড়ি, তখন আসলে গল্প নয়,আমি মানুষকে পড়তে শিখি। তাঁর ভাষা ছিল উজ্জ্বল, কিন্তু ঝলমলে নয়; ছিল নরম, কিন্তু দুর্বল নয়। সেই ভাষা ধীরে ধীরে এই অধমের মনে ঢুকে পড়ে, না পড়লে মন ছটফট করত।

শরৎচন্দ্রের উপন্যাসগুলোয় চোখের সামনে চরিত্ররা দাঁড়িয়ে যায়।

পরিণীতা-র ললিতা যেন পাশের বাড়ির মেয়ে—নিরীহ, সংবেদনশীল, অথচ গভীর।

দেবদাস-এর দেবদাস কেবল একজন ব্যর্থ প্রেমিক নয়, সে সমাজের দ্বিধা, পুরুষের দুর্বলতা আর নিজের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ের প্রতীক।

আর শ্রীকান্ত-এর রাজলক্ষী—সে তো একেবারে আলাদা স্তরের নারী; সমাজ তাকে বাঁধতে পারেনি, জীবন তাকে ভাঙতে পারেনি।

সবই ছিল চোখের সামনে

এই কথাটার মানে খুব গভীর। শরৎচন্দ্রের বড় শক্তি ছিল চিত্রকল্প। তিনি এমনভাবে মানুষ, সম্পর্ক আর অনুভূতিকে লিখতেন, যেন পাঠক শুধু পড়ছে না—দেখছে, শুনছে, অনুভব করছে।

১৯৯৯ সালের সেই জুন-জুলাইয়ের দিনটা বিশেষ কারণ, ওই সময়টা ছিল প্রযুক্তিহীন একাগ্রতার সময়। মোবাইল নেই, নোটিফিকেশন নেই—শুধু আমি আর বই। সারাদিন বই পড়া মানে ছিল,

সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলা

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও খেয়াল না করা চরিত্রের কষ্টে নিজের বুক ভারী হয়ে ওঠা,বই বন্ধ করেও গল্প মাথার ভেতর চলতে থাকা

এই অভিজ্ঞতা খুব অল্প মানুষের ভাগ্যে জোটে এখন।

আরেকটা কথা না বললেই নয়—শরৎচন্দ্র পড়া মানুষদের ভেতরে সাধারণত একটা অতিরিক্ত মানবিকতা জন্ম নেয়। 

সময় বদলায়, বয়স বাড়ে, জীবন কঠিন হয় কিন্তু কোথাও না কোথাও সেই ১৯৯৯ সালের একটা দিন আজও বেঁচে আছে,

একটা বইয়ের পাতার ভাঁজে।

মন্তব্য করুন